১০ হাজার বছরের বিদ্যুতের জোগান দিতেই চাঁদে যাচ্ছে মানুষ!

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ২১:০৪

পর্যায় সারণির দ্বিতীয় মৌল হিলিয়ামের একটি রূপ হলো, হিলিয়াম-৩। বিজ্ঞানীদের ধারণা, হিলিয়ামের এই রূপ অফুরান শক্তির উৎস। তারা অনুমান করছেন, পৃথিবীতে বিরল হলেও চাঁদের মাটিতে হিলিয়াম-৩ প্রচুর পরিমাণে উপস্থিত রয়েছে। যার সাহায্যে দেওয়া যাবে ১০ হাজার বছরের বিদ্যুতের জোগান।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, বিজ্ঞানীদের অনুমান ইউরেনিয়ামের বিকল্প হিসেবে হিলিয়াম-৩ আইসোটোপ শক্তির উৎসের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। এটি ফিউশন চুল্লিতে শক্তি উৎপাদনের আদর্শ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।

ডিউটেরিয়ামের সঙ্গে হিলিয়াম-৩ ব্যবহার করে নিউক্লিয়ার চুল্লিতে ফিউশন পদ্ধতিতে শক্তি উৎপাদন করা যেতে পারে। যদিও এটি এখনও পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, চুল্লির কন্টেনমেন্ট চেম্বার এই জাতীয় শক্তি ধারণ করে রাখতে পারলে এটি একটি কার্যকর শক্তির উৎস হয়ে উঠতে পারে। যা সফল হলে পৃথিবীর শক্তি উৎপাদনের চিন্তা দূর হওয়ার পাশাপাশি তেজস্ক্রিয় বিকিরণের ভয়ও থাকবে না।

কিন্তু পৃথিবীতে হিলিয়াম-৩-এর অস্তিত্ব এতই কম যে সেটি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সুযোগও কম। আর তাই নাকি হিলিয়াম-৩ পেতে চাঁদমামা’র ওপরই ভরসা করছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ, চাঁদে প্রচুর পরিমাণে হিলিয়াম-৩ রয়েছে বলে তাদের বিশ্বাস। চাঁদে বায়ুমণ্ডল না থাকায় কোটি কোটি বছর ধরে হিলিয়াম-৩ যুক্ত সৌরবায়ু বাধাহীন ভাবে চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ছে।

বিজ্ঞানীদের অনুমান, চন্দ্রপৃষ্ঠে কমপক্ষে ১১ লাখ মেট্রিক টন হিলিয়াম-৩ রয়েছে যা ১০ হাজার বছর পর্যন্ত মানবজাতির শক্তির চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। শক্তির চাহিদা মিটলে পৃথিবী আরও সজীব হয়ে উঠতে পারে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, শক্তির এই অফুরান উৎস হাতের মুঠোয় পাওয়ার জন্যই চাঁদের বুকে মহাকাশযান পাঠানোর এত ধুম দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন দেশের মধ্যে।

২০১৩ সালের ডিসেম্বরে চাঁদের মাটিতে একটি রোবট ল্যান্ডার অবতরণ করাতে সক্ষম হয়েছিল চীন। এর উদ্দেশ্য ছিল চাঁদের মাটি এবং পাথর নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসা। মূলত, সেই মাটি এবং পাথর থেকে হিলিয়াম-৩ সংগ্রহ করে তা দিয়ে পরীক্ষা চালাতে চাইছিল চীন।

রাশিয়ার বেসরকারি সংস্থা ‘এনার্জিয়া’ ২০০৬ সালে দাবি করেছিল, ২০১৫ সালে চাঁদের বুকে স্থায়ীভাবে ঘাঁটি তৈরি করে ২০২০ সাল পর্যন্ত হিলিয়াম-৩ সংগ্রহ করবে তারা। কিন্তু তা বাস্তবে পরিণত হয়নি। ২০১৯ সালে ভারতীয় মহাকাশ সংস্থা ইসরো চাঁদে দ্বিতীয় চন্দ্রযান পাঠানোর আগেও জল্পনা উঠেছিল, হিলিয়ামের আইসোটোপের খোঁজেই চাঁদে যান পাঠাচ্ছে ভারত।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ