বিটিআরসি-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরামর্শে কনটেন্ট ফিল্টার করবে টিকটক

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২২, ২২:০৭

আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিটিআরসির মতামত ও পরামর্শ আমলে নিয়ে কনটেন্ট ফিল্টার করা, ফেক আইডি শনাক্তকরণ এবং অগ্রহণযোগ্য ভিডিও কনটেন্ট অপসারণের কার্যক্রম নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে টিকটক কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বিটিআরসির সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার বিষয়েও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকের (TikTok) কনটেন্ট রিপোর্টিং ও অপসারণ এবং ব্যবহারকারীর তথ্য ও কমিউনিটি গাইডলাইন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টিকটক কর্তৃপক্ষ এ কর্মশালায় নিয়ম মেনে কার্যক্রম চালানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। বুধবার বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ এসব তথ্য জানিয়েছে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় টিকটকের পক্ষে সংস্থাটির লিগ্যাল পলিসি অপারেশনস কর্মকর্তা কেরি উডস ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক পাবলিক পলিসি ম্যানেজার ফেরদাউস মোত্তাকিন, দেশের আইনপ্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিটিআরসির ডিজিটাল নিরাপত্তা সেলের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

কর্মশালায় টিকটকের কনটেন্ট রিপোর্টিং ও অপসারণ সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশনের কার্যক্রমের ওপর উপস্থাপনা করেন কমিশনের সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগে. জেনা. মো. নাসিম পারভেজ। এ সময় তিনি টিকটকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ডে বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং দেশের বিদ্যমান আইনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আইনপ্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে কর্মশালায় বিভিন্ন বাস্তবিক পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করা হয় এবং অগ্রহণযোগ্য ভিডিও অপসারণ ও কন্টেন্ট প্রস্তুতকারী শনাক্তকরণে টিকটকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

টিকটকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক পাবলিক পলিসি ম্যানেজার ফেরদাউস মোত্তাকিন বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন, সামাজিক, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাসমূহের মতামত বিবেচনায় নিয়ে টিকটকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড গাইললাইন হালনাগাদকরণ ও কন্টেন্ট মনিটরিংয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে অঙ্গীকার করেন।

তিনি আরও জানান, বিটিআরসিসহ বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার মতামত ও পরামর্শ আমলে নিয়ে কনটেন্ট ফিল্টার করা, ফেক আইডি শনাক্তকরণ ও অগ্রহণযোগ্য ভিডিও কন্টেন্ট অপসারণের কার্যক্রম নেওয়া হবে। এ ছাড়া, বিটিআরসির সঙ্গে পারস্পারিক সহযোগিতা বজায় রাখার বিষয়েও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

কর্মশালায় কমিশনের ভাইস-চেয়ারম্যান জনাব সুব্রত রায় মৈত্র বলেন, পারস্পরিক যোগাযোগ, জনমত তৈরি, সমাজসেবামূলক, সৃজনশীল ও অর্থনৈতিক কাজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহৃত হলেও নানা নেতিবাচক ও অপরাধমূলক কার্যক্রমে এর ব্যবহার ক্রমান্বয়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে তিনি দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় রেখে সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণে টিকটক ও দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহকে বাস্তবিক উপায় খোঁজার পরামর্শ দেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, বর্তমানে এ ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে ভালো কন্টেন্টের পাশাপাশি অনেক মানহানিকর ও অগ্রহণযোগ্য কনটেন্ট দৃশ্যমান হচ্ছে।

রাষ্ট্রবিরোধী, সমাজবিরোধী, মানহানিকর এবং ধর্মীয় উসকানিমূলক ভিডিও নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কমিউনিটি গাইডলাইন প্রস্তুতের আহ্বান জানান তিনি।

টিকটক নিজের কমিউনিটির জন্য আনন্দময় সব কনটেন্ট সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায় উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটির লিগ্যাল পলিসি অপারেশনস কর্মকর্তা কেরি উডস বলেন, বাংলাদেশের বাজার টিকটকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কমিউনিটি গাইডলাইন, গ্রাহকের সেফটি পলিসি এবং এ দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে বিবেচনায় রেখে প্রতিনিয়ত প্ল্যাটফর্মটিতে ভিডিও শেয়ার করা হচ্ছে।

এ ছাড়া কনটেন্ট মডারেশন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের একটি বড় টিম কাজ করছে, যেটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও ভাষা বোঝে। আগামীতে টিকটককে একটি নিরাপদ ও গ্রাহকবান্ধব প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। 

এবিএন/আব্দুর রাজ্জাক/জসিম/এআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ