করোনা টিকা সংগ্রহ: বায়োএনটেকের সঙ্গে টিএসএমসি-ফক্সকনের আলোচনা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২১, ১৩:১০

জার্মানির স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেকের কাছ থেকে করোনার টিকা কিনতে চুক্তি স্বাক্ষরের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে তাইওয়ানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি ও ফক্সকন। টিকা রাজনীতিতে কোণঠাসা তাইওয়ানে টিকার মজুদ বাড়াতে বেসরকারি খাতের এ পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

কয়েক মাস ধরে তাইওয়ান সরকার বায়োএনটেকের কাছ থেকে সরাসরি টিকা কেনার চেষ্টা করে আসছিল। এ ক্রয় প্রক্রিয়া কার্যকর না হওয়ার জন্য চীনকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা। চীন তাইওয়ানকে নিজস্ব অঞ্চল হিসেবে মনে করে। যে কারণে চলতি বছরের শুরুতে এ চুক্তি স্বাক্ষরের কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে চীন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রমের গতি কমে আসায় গত মাসে জনরোষের মুখে পড়ে চীন প্রশাসন। এর পর পরই সরকার তাইওয়ানের অন্যতম সফল প্রতিষ্ঠাতা ধনকুবের টেরি গৌয়ের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ফক্সকন ও তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানিকে (টিএসএমসি) টিকা ক্রয়ের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি প্রদান করে। এসব টিকা তাইওয়ান সরকারকে দান করা হবে বলে জানা গেছে।

এক বিবৃতিতে টিএসএমসি জানায়, এখানে একাধিক দল রয়েছে। আমরা চুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়ার মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছি। চুক্তি সম্পন্ন হলে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা প্রদান করব। এ বিষয়ে ফক্সকনও একই বিবৃতি দিয়েছে। এ দুটি প্রতিষ্ঠানই অ্যাপলের বড় পণ্য সরবরাহকারী।

গৌয়ের এক মুখপাত্র জানান, চুক্তির ব্যাপারে যদি নতুন কোনো তথ্য আসে, তাহলে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সেটি পুরো বিশ্বকে জানিয়ে দেব।

একটি সূত্র বলছে, চুক্তি সম্পর্কিত আলোচনা শতভাগ পূর্ণ হয়নি। আরেক সূত্রের দাবি, চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্তের পথে। তবে কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। সেই সঙ্গে এটি একরকম পরিষ্কার যে চুক্তির বিষয়ে তাইওয়ানের দিক থেকে কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয়নি।

এ বিষয়ে চীনে তাইওয়ানের লিয়াজোঁ অফিসে যোগাযোগ করা হলে কর্মঘণ্টার বাইরে কোনো বক্তব্য প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করা হয়।

চলতি মাসে সাংহাই ফসুন ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপের সঙ্গে একটু চুক্তিতে পৌঁছেছে গৌ ও টিএসএমসি। চীন, হংকং, ম্যাকাও ও তাইওয়ানে করোনার টিকা বিক্রির জন্য জার্মানির বায়োএনটেকের সঙ্গে এ প্রতিষ্ঠানের একটি চুক্তি ছিল বলে সূত্রে জানা গেছে। গউ ও টিএসএমসি উভয়েই ৫০ লাখ ডোজ করে টিকা চেয়েছে।

বায়োএনটেকের কাছ থেকে করোনা টিকা কেনা নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেটি সংবাদমাধ্যমের শিরোনামেও প্রভাব ফেলেছে। তাইওয়ানে বৌদ্ধদের অন্যতম বৃহৎ গ্রুপ তুজু চি ফাউন্ডেশনও ফাইজারের কাছ থেকে যৌথভাবে করোনার টিকা কেনার চেষ্টা করছে।

চীন সরকার বারবার জানিয়েছে, তাইওয়ান যদি ভ্যাকসিন চায়, তবে তাদের বাণিজ্যিক নিয়ম অনুসারে ও ফোসুনের মাধ্যমে ক্রয় করতে হবে।

তাইওয়ান ও বায়োএনটেকের মধ্যে যে আলোচনা চলছে সে বিষয়ে জার্মান সরকারও সহযোগিতা করছে বলে জানা গেছে। অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও মডার্নার কাছ থেকে তাইওয়ান লাখ লাখ ডোজ টিকার জোগান চেয়েছে। চীনের এ দ্বীপ রাষ্ট্রে করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান সম্মিলিতভাবে ৫০ লাখ ডোজ টিকা দান করেছে। তাইওয়ানের মোট জনসংখ্যার এক-দশমাংশ করোনার টিকার এক ডোজ গ্রহণ করেছেন। যদিও দেশটিতে করোনার প্রাদুর্ভাব এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ