অমিক্রন ২৪টি দেশে কিন্তু বাংলাদেশে কোয়ারেন্টিন ৭টি দেশের যাত্রীর জন্য?

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ২১:০৭

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট অমিক্রনকে ঘিরে আফ্রিকা ও এর বাইরে থেকে আসা যাত্রীদের জন্য নতুন নিয়ম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, যা আগামীকাল শনিবার থেকে কার্যকর হবে।

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বলেছে যে দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আফ্রিকার সাতটি দেশ থেকে কেউ বাংলাদেশে আসলেই তাদের নিজ খরচে হোটেলে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

তবে যে কোন দেশ থেকে আসা যাত্রীদেরই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরটিপিসিআর পদ্ধতিতে করা টেস্টের নেগেটিভ রিপোর্ট সাথে রাখতে হবে।

এর আগে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করা টেস্টের রিপোর্ট রাখার নিয়ম ছিলো বাংলাদেশে আগত যাত্রীদের জন্য। এখন তা কমিয়ে ৪৮ ঘন্টা করা হয়েছে।

সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম অমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে 'উদ্বেগজনক ভ্যারিয়েন্ট' হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এরপর থেকেই অমিক্রনের ভয়াবহতা ও সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা নিয়ে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।

কোয়ারেন্টিনের নিয়মগুলো কী?

বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিমানবন্দরে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষাগার পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন সাতটি দেশ থেকে আসা যাত্রীদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতে শক্ত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

রাতেই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সাতটি দেশের নাম জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়ে দেয় যে এসব দেশ থেকে কেউ এলে তাদের নিজ খরচে সরকার নির্ধারিত হোটেলে ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

দেশগুলো হলো: বতসোয়ানা, ইসোয়াতিনি, ঘানা, নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে এবং লেসোথো।

এসব দেশ থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার আগেই কোয়ারেন্টিনের জন্য সরকারি নির্ধারিত হোটেল নির্বাচন করতে হবে যাত্রীদের।

হোটেলে কোয়ারেন্টিনের সপ্তম দিনে করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ রিপোর্ট এলে যাত্রীকে আলাদা করে আইসোলেশনে পাঠানো হবে।

আর নেগেটিভ রিপোর্ট এলে তাকে হোটেলে বাকি সাত দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

এর পর ১৪তম দিনে দ্বিতীয় করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট আসলে ওই যাত্রী কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র থেকে চলে যেতে পারবেন।

২৪টি দেশে শনাক্ত অমিক্রন, তাদের জন্য কী নিয়ম?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে এ পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় ২৪টি দেশে অমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই নতুন এই ধরন শনাক্ত হয়েছে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ভারতে।

তাহলে এসব দেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, সে সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেনি বাংলাদেশে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, নতুন ভ্যারিয়েন্ট অমিক্রন ছড়িয়ে পড়ায় আক্রান্ত দেশগুলো থেকে বাংলাদেশে যাত্রী আসা বন্ধ করার সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকাসহ যেসব দেশে এই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে সেখান থেকে বাংলাদেশে না এসে প্রবাসীরা যেন তাদের কর্মস্থলেই অবস্থান করেন।

এখন সীমান্তে স্থল বন্দরগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা অর্থাৎ করোনা বিষয়ক বিধিনিষেধ প্রতিপালন জোরদার করা হয়েছে।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ
ksrm