বিএনপি-জামাত নেতিবাচক রাজনীতি না করলে দেশ আরো এগিয়ে যেত : তথ্যমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১৯:২৩

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের দল বিএনপি ও জামাত বাংলাদেশে যদি নেতিবাচক রাজনীতি না করতো এবং স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিকে নিয়ে দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র না করত; তাহলে ৫০ বছরে বাংলাদেশ আরো অনেক বেশি এগিয়ে যেতে পারত। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবকে অনুরোধ জানাব, উনি শিক্ষিত লোক হয়ে যেন অশিক্ষিতের মত কথা না বলেন।

তিনি বলেন, আমি দেখতে পাচ্ছি বিএনপি’র মধ্যে একটা ‘না’ রোগ দেখা দিয়েছে, সবকিছুতেই যেন ‘না’ বলা। সংলাপে যাবে না, নির্বাচনে যাবে না, এমনকি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও যাবে না। এখন আমি আশঙ্কার মধ্যে আছি না না বলতে বলতে বিএনপিটায় কখন নাই হয়ে যাই।

আজ রোববার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের রজত জয়ন্তী এবং ২৪ ঘন্টা সম্প্রচার কার্যক্রমের উদ্বোধন পূর্ববর্তী সাংবাদিকরা নির্বাচন কমিশনের সংলাপে বিএনপি যাবেনা এবং দেশের উন্নয়ন হয়নি বরং পিছিয়ে যাচ্ছে বলেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেনের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ২৪ ঘন্টা সম্প্রচার কার্যক্রম ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিটিভির মহাপরিচালক সোহরাব হোসেন, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জিএম নিতাই কুমার ভট্টাচার্য প্রমুখ।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আগে তিনবার দেশ পরিচালনা করেছেন, এখন চতুর্থবার দেশ পরিচালনা করছেন, এসময়েই দেশের অগ্রগতি-উন্নতি হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয়, তখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৯.৫৪ শতাংশ। সেই জিডিপি গ্রোথ রেট এখনো আমরা অতিক্রম করতে পারিনি।

বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশে কোনো উন্নয়ন হয়নি বরং পিছনের দিকে চলে যাচ্ছে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ বক্তব্যের ব্যাপারে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবকে আমি জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমান মানুষ বলে জানতাম, কিন্তু দলকানা হতে গিয়ে তিনি এরকম বুদ্ধিহীন হয়ে গেছেন এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছেন এটা আমাকে আশ্চর্য করেছে।
তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়েছে, এটি পৃথিবীর সামনে উদাহরণ। বাংলাদেশ সমস্ত সূচকে পাকিস্তানকে অতিক্রম করেছে। ১৯৭০-৭১ সালে পাকিস্তান আমাদের চেয়ে সব ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল। মাথাপিছু আয় ৫০ শতাংশ বেশি ছিল। সেই পাকিস্তান আজকে মানব উন্নয়ন, সামাজিক, অর্থনৈতিক সূচকসহ সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে। এমনকি মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে আমরা ভারতকেও অতিক্রম করেছি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আগে বাংলাদেশে শতকরা ৪১ শতাংশ মানুষ দারিদ্র সীমার নীচে ছিল, সেটি এখন ২০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এগুলো আমার বক্তব্য নয়, বিশ্বব্যাংক আইএমএফসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের বক্তব্য, তাদের সমীক্ষায় এগুলো উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, এসব যখন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব দেখতে পারেননা, তখন দলকানা হওয়ার কারণে তিনি দেখেও দেখেননা বুঝেও বুঝেননা, এবং স্বীকারও করেননা।

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের রজত জয়ন্তী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র কোনো আঞ্চলিক কেন্দ্র নয়। এটা নিয়ে অনেকেই ভুল করেন। এটি টেরিস্ট্রিয়াল চ্যানেল, যার মাধ্যমে কেবল নেটওয়ার্ক ছাড়া সারাদেশের ৭৫ ভাগ অংশে দেখা যায়। আর ক্যাবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারাদেশেই সম্প্রচার করা হচ্ছে। আর মোবাইল এপসের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের কার্যক্রম দেখা যায়।’

তিনি বলেন, ‘অতি শীঘ্রই আরও ৬টি বিভাগে বিটিভির চ্যানেল হবে, এমনটা হলে বিটিভির ১০টি চ্যানেল হবে। ইতোমধ্যে একনেকে এর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে এ কাজ শুরু হবে। আমি আশা করবো আজকের এই ২৪ ঘন্টা সম্প্রচারের উদ্বোধনের মাধ্যমে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র গণমানুষের দর্পণ হিসেবে কাজ করবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিখির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, চলচ্চিত্র জগত সারা বিশ্বে একটি লাভজনক খাত। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এমনটা নয়। মাননীয় তথ্যমন্ত্রী একটা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন, যা আমাদের বিনোদন জগতে বিনিয়োগের একটা সুযোগ করে দিয়েছে। তাঁর এই উদ্যোগে একইসাথে মনস্তাত্ত্বিক, আর্থিক বিনিয়োগ বাড়বে বলে আমি মনে করি। এই কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন এই সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি মনজাগতিক উন্নয়নেও কাজ করছে।


এবিএন/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ