তিন আসনে এমপি হতে চান আওয়ামী লীগের ৯৪ জন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২১, ২১:৩৫

জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৪, সিলেট-৩ ও কুমিল্লা-৫ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগে সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি। এই তিন আসনের প্রয়াত এমপিদের স্ত্রীরা তাদের স্বামীর আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তাদের সঙ্গে মনোনয়নের যুদ্ধে নেমেছেন কমপক্ষে ৯১ নেতা। আসছে শনিবার তাদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। বিএনপিবিহীন উপনির্বাচনে সরকারি দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া মানেই সংসদ সদস্য হওয়াটা অনেকটা নিশ্চিত বলে মনে করছেন অনেকে। এ কারণে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা এবং কেন্দ্রীয় নেতারাও চেষ্টা করছেন। এই দৌড়ে আছেন ব্যবসায়ী ও প্রবাসীরাও।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া জানিয়েছেন, ১২ জুন সকাল ১১টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের বৈঠক ডাকা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করবেন।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, করোনাভাইরাসের কারণে এই বৈঠকে ১৩ সদস্যের সংসদীয় বোর্ডের অনেককেই ডাকা হচ্ছে না। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের দুই সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর দুই সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও কাজী জাফর উল্লাহ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।

বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিন আসনে দলের মনোনয়নের আশায় ৯৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তাদের মধ্যে ঢাকা-১৪ আসনে ৩৪ জন, সিলেট-৩ আসনে ২৫ জন এবং কুমিল্লা-৫ আসনে ৩৫ জন রয়েছেন।

তিনটি আসনে উপনির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এ কারণে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নানা মেরুকরণ শুরু হয়েছে। তাদের দৃষ্টিতে, বিএনপির নির্বাচন বর্জনের ঘোষণায় আওয়ামী লীগে সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। কেউ কেউ বলছেন, তারা প্রথমে দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। এতে উপনির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান জানিয়েছেন, কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলেই তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হবে। সেই প্রার্থী আর কখনোই কোনো পর্যায়ের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাংগঠনিকভাবে দক্ষ, স্থানীয়ভাবে পরিচিত, দলের জন্য ত্যাগ আছে—এমন প্রার্থীই বেছে নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে মাঠের চিত্র পর্যালোচনা করা হবে।

আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম, মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী কয়েস এবং অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুতে আসন তিনটি শূন্য হয়েছে। তাদের স্ত্রীরা- মাকছুদা হক, ফারজানা চৌধুরী ও সালমা সোবহান খসরু মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তিনজনই প্রায় অভিন্ন ভাষায় বলেছেন, প্রয়াত এমপিদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতেই তারা উপনির্বাচনে মনোনয়ন চাইছেন।

বিপরীতে অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা বলছেন, সংগঠনকে আরও গতিশীল করার জন্য উপনির্বাচনে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দক্ষ নেতাদের মনোনয়ন দেওয়া উচিত। এ নিয়ে তারা দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, প্রয়াত তিন এমপির স্ত্রীরা মনোনয়ন যুদ্ধে পিছিয়ে থাকলেও সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে তাদের বাইরেও মনোনয়নের সম্ভাবনা রয়েছে।

এমন ইঙ্গিত পেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়নের আশায় দলের নীতিনির্ধারক নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। নির্বাচনী এলাকায় ব্যানার-পোস্টার-ফেস্টুন এবং ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানাচ্ছেন। কেউ কেউ দলীয় মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গত মঙ্গলবার বিএনপি থেকে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত এখলাস উদ্দিন মোল্লাহ ও চলচ্চিত্র তারকা মনোয়ার হোসেন ডিপজল আওয়ামী লীগের ফরম সংগ্রহ করতে গিয়ে বিফল হন। তারা আওয়ামী লীগ করেন- এমন প্রমাণ চাইলে দেখাতে পারেননি। এ জন্যই ফরম দেওয়া হয়নি।

ঢাকা-১৪ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী যারা

এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন প্রয়াত এমপি আসলামুল হকের স্ত্রী মাকছুদা হক, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সর্দার মোহাম্মদ মান্নান (এসএম মান্নান কচি), যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বের চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সভাপতি সাবিনা আক্তার তুহিন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মাজহারুল আনাম, শাহ আলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আগা খান মিন্টু, মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম হানিফ, মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিরিন রুখসানা ও মিনা মালেক, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এএমএম মতিউর রহমান, জার্মান আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জিল্লুর রহমান, দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আজিজুল ইসলাম, শাহ আলী থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ, শাহ আলী থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ মামুনুল হক, দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদুল হক, দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা ইতি, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সদস্য এ কে এম দেলোয়ার হোসেন, মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সদস্য হায়দার আলী খান ও দেওয়ান আবদুল মান্নান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফ, আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক আব্দুর রউফ সিকদার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক বশির আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সাবেক সদস্য শাহজাহান দেওয়ান, বৃহত্তর মিরপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি লুৎফর রহমান ও শহিদুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ কর্মী আরিফ আহমেদ চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক কর্মী খন্দকার শফিউল আজম, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হাসানুর রশীদ ও সাইফুল আলম, আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য ওয়াছিকুর রহমান ইমরান।

সিলেট-৩ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী যারা

সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন এই আসনের প্রয়াত এমপি মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের স্ত্রী ফারজানা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিজবাহ উদ্দিন সিরাজ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইদুল আলম, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিত টুটুল, আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সদস্য এম সদরুল আহমেদ খান ও ইহতেশামুল হক চৌধুরী, যুবলীগের সদস্য আব্দুর রকিব, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য কফিল আহমদ চৌধুরী, বালাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য দেওয়ান গৌছ আলী সুলতান, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নিজাম উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবীর উদ্দীন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ শমশের জামাল, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মুজিবুর রহমান জকন, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য তাহমিনা আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান ও বদরুল ইসলাম, সিলেট বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ওবায়দুর রহমান, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি এনাম উল ইসলাম, সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সেলিম আহমদ, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা যুবলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক হোসাইন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য আবু জাহিদ, জেলা যুবলীগের সাবেক সদস্য শামীম ইকবাল ও জাহেদ হাসান, আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য আব্দুল শহিদ কাজল।

কুমিল্লা-৫ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী যারা

সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন এই আসনের প্রয়াত এমপি আবদুল মতিন খসরুর স্ত্রী সালমা সোবহান খসরু, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসেম খান, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর খান চৌধুরী, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল বারী, বুড়িচং উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, আওয়ামী লীগের উপকমিটির সদস্য শাহ জালাল, আনিসুর রহমান ও নাছির উদ্দিন, যুবলীগের সহ-সম্পাদক এহতেশামুল হাসান ভূঁইয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য জাহেদুল আলম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মাহতাব হোসেন, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হেলেনা জাহাঙ্গীর, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমীন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুছ ছালাম বেগ, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আল আমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আখলাক হায়দার, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহিদা বেগম, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবু ছালেক সেলিম রেজা সৌরভ, এমএ মতিন এমবিএ, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এমএ জাহের, জিয়াউল হাসান মাহমুদ, বুড়িচং উপজেলা যুবলীগের সদস্য এমএ জলিল ভূঁইয়া, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মানিক, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরিচালক এসএম জাহাঙ্গীর আলম, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল মমিন ফেরদৌস, ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার মোহাম্মদ নিজামুল ইসলাম, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল জলিল, ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক তরিকত উল্লাহ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সাহিত্য সম্পাদক ফারুক আহাম্মদ, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা জাহাঙ্গীর আলম সরকার ও মোস্তফা কামাল, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের নেতা নওশের আলম, আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য সোহরাব খান চৌধুরী।

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ