দৈনিক পত্রিকার নারী পাতায় সংবাদ উপস্থাপনে ইতিবাচক পদক্ষেপ জরুরী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২২, ১৬:৪৩

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর আয়োজনে কর্মশালাটি পিআইবি’র সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালার মডারেটর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে সাথে সামজিক দায়বদ্ধতা ও গণমাধ্যম হাউজসমূহের ইতিবাচক পদক্ষেপেরই মাধ্যমে জেন্ডার বৈষম্য বিলোপ করা সম্ভব। এসময় তিনি পত্রিকায় নারীপাতায় নারীবান্ধব ও অন্যান বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন।

তাছাড়া জেন্ডারভিত্তিক সংবাদ উপস্থাপন করার পাশাপাশি দেশের বন্দীশালায় নারীদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করেন। তিনি সমাজে প্রতিবন্ধী- বিশেষ করে দৃষ্টি,বুদ্ধি,শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধীসহ অটিস্টিক শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে কথা বলেন। নারীর মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিতে বলেন।

পিআইবি’র মহাপরিচালক বলেন, অধিকাংশ কর্মক্ষেত্রে নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা করা হয়না। তিনি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কথা পূর্নঃব্যক্ত কওে রোবট ব্যবহার করে বর্তমানে সংবাদ পড়া অন্যান কাজের কথা উল্লেখ করে ভবিষ্যতে গৃহস্থালি কাজ-কর্মে রোবটের ব্যবহার সম্পর্কে আলোচনা করেন। আলোচনায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর সিনিয়র রিপোর্টার শাহনাজ সোমা বলেন, পুরো বিশ্বে অর্থনীতির মত গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা হয়। শুধুমাত্র দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে গণমাধ্যম মনিটারিং বা পর্যবেক্ষণ করা হয়না। নিজের কর্মক্ষেত্রে সব যোগ্যতা থাকা সত্তে¡ও নারী হওয়ার কারনে উপযুক্ত স্থানে যেতে না পারার কথা বলেন।

এমনকি পুরুষ শাসিত সমাজে পুরুষ সহকর্মী ছাড়াও নারী সহকর্মীদের নিকট থেকে অসহযোগিতার কথা বলেন। এছাড়া জেন্ডারভিত্তিক সংবাদ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক তদারকির উপর জোর দেন তিনি। কর্মশালায় দৈনিক জনকণ্ঠের নারীপাতা ‘‘অপরাজিতার’’ বিভাগীয় সম্পাদক নাজনীন বেগম কর্মক্ষেত্রে নারীদের সচেতনতার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মতামত ও সংবাদের আধেয়ও এর উপর গুরুত্বারোপ করেন। সংবাদ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তিনি ছবি, ভিডিও (টেলিভিশন), বাক্য শৈলীর উপর জোর দেন। পাঠক ও দর্শকের বিষয়টি মাথায় রেখে নারীকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে বলেন তিনি।

আলোচনায় দৈনিক ইত্তেফাকের নারী পাতা ‘‘মহিলা অঙ্গনের’’ সম্পাদক রাবেয়া বেবী বলেন, নারীরা সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনে প্রবেশ করে ১৯৪৭ এর সময় আর বর্তমানে নারীরা কাজ করছে সম-অধিকার বাস্তবায়নে। আশির দশকে ইত্তেফাকের নারী পাতা ‘‘পাক্ষিক অনন্যা’’ এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদানের কথা উল্লেখ করেন। রাবেয়া বেবী বলেন, মহিলা পরিষদের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ধর্ষণের ক্ষেত্রে ১১-৩০ বছর বয়সী ছেলেদের তুলনামূলক সংখ্যা বেশি। গবেষক এনায়েত হোসেন রেজা নারীদের ন্যায্যতার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নারীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান,কর্মক্ষেত্রে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টিসহ লিঙ্গ সমতার বিষয়ে আলোচনা করেন।

নারীদের ভিক্ষাবৃত্তির বিষয়টি নিয়ে তিনি পরিবারে সদস্যদের সামাজিক সচেতনতা ও একটা মানদন্ডে উপনীত হওয়ার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা রাখার উপর বিশেষ করে নারীর পাতার প্রতিবেদনের উপর জোর দেন। দৈনিক কালবেলা পত্রিকার নারীপাতা বিষয়ক সম্পাদক রিতা ভৌমিক দীর্ঘদিন বিভিন্ন পত্রিকাতে নারীপাতার কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি নারীকে গৎবাঁধা কোন ছকে নয় বরং নারী সব পেশাতে উপযুক্ত সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি নারী নিযাতন ও তার কুফল সম্পর্কে আলোচনা করেন। সংবাদমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নারী উন্নয়ন ও নারী পাতা নিয়ে কাজ করা বনশ্রী ডলি সংগ্রামের কথা উল্লেখ করেন।

কর্মক্ষেত্রে বেতন এমনকি প্রতিবেদন প্রকাশেও প্রতিবন্ধকতার কথাও উল্লেক করেন। তাছাড়া তিনি ছবিসহ অন্যান আনুষঙ্গিক বিষয়াদি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল হতে বলেন। কর্মশালায় গবেষক পপি দেবী থাপা নারী পাতায় সাফল্য ও সংগ্রামী দুইটা বিষয়কে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন।

তিনি নারী স্বাস্থ্য,নির্যাতনসহ আনুষঙ্গিক অন্যান বিষয়সমূহ পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন তৈরিন কথা বলেন। আলোচনায় দৈনিক যুগান্তরের নারীপাতা ‘‘সুরঞ্জনার’’ সম্পাদক ইমন চৌধুরী বলেন তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে সিঙ্গেল মা,নারীদের ক্ষেত্রে ধর্মীয় উন্মদনা চাপিয়ে দেয়াসহ নানা বিষয় থেকে কিভাবে ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করা যায় তার জন্য কাজ করছেন। অনুষ্ঠানে দৈনিক আমদের সময়ের নারীপাতায় কাজ করা লাবণ্য বলেন, নারীদের জীবন ধারণ ও সমান্তরাল পারিবারিক পরিবেশ সৃষ্টিতে নারীপাতার গুরুত্ব তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি নারীদের পূর্বের দূর্বলতা কাটিয়ে কিভাবে এগিয়ে যাওয়া যায় তার উপর আলোকপাত করেন। কর্মশালায় দৈনিক সমকালের প্রতিবেদক সাদিয়া ইসলাম পারুল বলেন, নারীপাতায় কাজের পর্যাপ্ত জায়গার অভাব।

সেসব বিবেচনায় নয়, বরং নারীর উন্নয়নে ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করা জরুরী। তিনি নারী উদ্যেক্তা, আদিবাসী ও প্রান্তিক নারীগোষ্ঠীর জীবন আচার নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় দৈনিক আজকের পত্রিকার নারী পাতার দায়িত্বে থাকা মন্টি বৈষ্ঞব বলেন, তার পত্রিকাতে নারীপাতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতি ঘটনাসমূহ বিশ্লেষণ করে আলোকপাত করা হয়। জাতীয় বিষয়সমূহ তদারকির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়।

যেখানে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং নির্যাতনের বিষয়সমূহ অর্ন্তভুক্ত থাকে। অনুষ্ঠানে দৈনিক ভোরের কাগজের স্টাফ রিপোর্টার মরিয়ম সেজুতি দীর্ঘদিন নারীপাতাসহ অন্যান প্রতিবেদন তৈরিতে নিজের অভিজ্ঞতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি গণপরিবহনসহ বিভিন্ন পুরুষতান্ত্রিকতার বিষয়ে কথা বলেন। আলোচনায় সারা বাংলা ডট কমের প্রতিবেদক রাজনীন ফারজানা বলেন, জেন্ডার সমতা ও পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বের হতে না পারলে কোন কিছু করা সম্ভব না।

তিনি প্লাস্টিক সার্জারি,ধর্মীয় আবেগ তাড়িত প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে আলোচনা করেন। তার হাউজের পলিসির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,পুরুষ ক্রিকেট দল বা ফুটবল দল,নারী ক্রিকেট দল বা ফুটবল দল এভাবে উপস্থাপন করে সেখানে। কর্মশালায় ৩৫ জন অংশগ্রহণ করেন,যেখানে সংবাদকর্মী,গবেষক ও নারী বিশেষজ্ঞসহ মোট ৩৫ জন অংশগ্রহণ করেন। পিআইবির প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রশিক্ষক পারভীন সুলতান রাব্বীর সমন্বয়ে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

 

এবিএন/অসীম রায়/জসিম/নাজমুল ্হাসান

 

 

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ