‘অক্টোবর থেকে জ্বালানি সংকট কাটতে শুরু করবে’

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২২, ১২:২৪

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটে দেশে নেওয়া হয়েছে সাশ্রয়ের নীতি। এ সংকট থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলতে অপেক্ষা করতে হবে অন্তত অক্টোবর পর্যন্ত। তৈরি হচ্ছে জ্বালানির মাস্টারপ্ল্যানও। জ্বালানির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সঙ্গে কথা বলেছেন পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহম্মদ হোসাইন।  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সঞ্চিতা সীতু।  সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হল-
 
প্রশ্ন: এ সংকট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সাশ্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে কী পরিমাণ সাশ্রয় হচ্ছে?

মোহাম্মদ হোসাইন: এটি বৈশ্বিক সংকট। একেক দেশ একেক পন্থা অবলম্বন করেছে। কেউ দাম বাড়িয়েছে, কেউ সাশ্রয় করছে। কেউ দুটোই করছে। আমরা প্রথমত সাশ্রয় করছি। দিনে বিদ্যুৎ উৎপাদন দুই হাজার মেগাওয়াট কমিয়েছি। এই দুই হাজার মেগাওয়াটের জ্বালানি কম আমদানি করতে হচ্ছে। এতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে।

প্রশ্ন: গ্রাহকের সাড়া কেমন পাচ্ছেন?

মোহাম্মদ হোসাইন: দেশ সংকটে পড়লে সবসময় জনগণই এগিয়ে আসে। এবারও ব্যতিক্রম হচ্ছে না। সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করছে। আমরা দেখেছি বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমনকি বাসা-বাড়িতেও মানুষ বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতন হয়েছে। আমরা এটিই চেয়েছিলাম। যাতে সাধারণ মানুষ নিজে সচেতন হয়। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

প্রশ্ন: অনেকেই বলছেন বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট সামাল দিতে প্রয়োজনে আরও লোডশেডিং করা হোক। তারপরও যেন দাম না বাড়ে। এ নিয়ে সরকার কী চিন্তা করছে?

মোহাম্মদ হোসাইন: আমরা লোডশেডিংকে সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছি। অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যাবে না। আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছি না, বিষয়টি এমন নয়। আমরা সাশ্রয়ের জন্য উৎপাদন কম করছি। চাইলেই উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। সম্প্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদন এমন অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাতে লোডশেডিং ছিলই না। শিডিউল লোডশেডিং-এ হয়তো মানুষের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। এজন্য আমরা আন্তরিক দুঃখিত। নিশ্চয়ই সামনের দিনগুলো সকলের জন্য ভালো হবে।

প্রশ্ন: বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি যদি আরও খারাপের দিকে যায়?

মোহাম্মদ হোসাইন: পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আমরা মনে করি না। এবার শ্রাবণে তেমন বৃষ্টি হয়নি। তাই তাপমাত্রা বেশি। কিন্তু অক্টোবর থেকে আবার ঠান্ডা পড়তে শুরু করবে। তখন বিদ্যুতের চাহিদা কমবে। লোডশেডিং-এরও প্রয়োজন হবে না।

প্রশ্ন: পাওয়ার সিস্টেম মাস্টারপ্ল্যানে এর আগে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। এবার জ্বালানিও অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। কাজটি পাওয়ার সেল করছে। এখন কোন অবস্থায় রয়েছে?

মোহাম্মদ হোসাইন: অনেক চিন্তা করেই পাওয়ার সিস্টেম মাস্টারপ্ল্যানে জ্বালানিকে অন্তর্ভুক্ত করেছি। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রাথমিক জ্বালানির সংস্থান খুব জরুরি। আমরা এবার জ্বালানিরও একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরির চেষ্টা করছি। এতে করে যেন বোঝা যায় কখন বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোন জ্বালানি কোন জায়গা থেকে সংস্থান হবে। এজন্য দেশের অভ্যন্তরের জ্বালানি উৎপাদন প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করেছি।

প্রশ্ন: এখন দেখা যাচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন মহাপরিকল্পনায় কাটছাঁট করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে নতুন করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। এটি কেন?

মোহাম্মদ হোসাইন: নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় সুবিধা হচ্ছে বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করতে হয় না। আমরা যদি সারা বছর গড়ে সাড়ে চার ঘণ্টা সৌর বিদ্যুৎ থেকে একটা সাপোর্ট পাই তাতে বিপুল জ্বালানির সাশ্রয় হবে। তাই নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে প্রাধান্য দিচ্ছি।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে যে নতুন প্রযুক্তিগুলো আসছে সেগুলো নিয়েও চিন্তা করছি। হাইড্রোজেন থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে আশা দেখাচ্ছেন গবেষকরা। আমরাও এর ওপর জোর দিচ্ছি। শিগগিরই পাইলট প্রজেক্ট চালু করতে চাই।

প্রশ্ন: কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করে সেখান থেকে সরে আসাটা কতটা যুক্তিসঙ্গত?

মোহাম্মদ হোসাইন: বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়লে সব ধরনের জ্বালানির দাম বাড়ে। সেই হিসেবে কয়লার দামও বেড়েছে। আমরা কয়লা থেকে একেবারে সরে আসিনি। অক্টোবর থেকে বড় কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে আসতে শুরু করবে। তখন সংকটও কাটতে শুরু করবে। পায়রা, রামপাল ও মাতারবাড়ীতে কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছি। সবগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র বড় ও বেইজলোড পাওয়ার প্ল্যান্ট।

প্রশ্ন: প্রাথমিক জ্বালানির সংস্থানে বিদেশ নির্ভরতা কমানোর বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

মোহাম্মদ হোসাইন: ইতোমধ্যে পেট্রোবাংলা গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে। কোন কোন জায়গা থেকে কয়লা তোলা যায় সেই বিষয়টিও বিবেচনা করছে। আমরা যে শুধু আমদানিই করছি, তা নয়। দেশীয় উৎস থেকে জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছি।

প্রশ্ন: দক্ষিণ এশিয়ার সবগুলো দেশ জ্বালানি ঘাটতিতে রয়েছে। আবার সব দেশ মিলে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পরস্পরের মধ্যে ভাগাভাগি করলে এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে পারে। বাংলাদেশ অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করছে। এখন সংকটের মধ্যে আঞ্চলিক ফোরামে নতুন করে এসব বিষয় তুলে ধরা উচিত কিনা...।

মোহাম্মদ হোসাইন: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, নেপাল, ভুটান এবং মিয়ানমারে বিপুল পরিমাণ জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে নেপালের সঙ্গে চুক্তি করেছি। এছাড়া ভুটানের সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে। মিয়ানমার এবং ভারত যদি এই উদ্যোগে যোগ হয়, তাহলে আমরা সকলে মিলে এই উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে পারবো। কিন্তু এরজন্য প্রতিবেশী দেশগুলোকে রাজনৈতিক ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে।


সৌজন্যে : বাংলা ট্রিবিউন

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ