আজকের শিরোনাম :

বরাদ্দের টাকা খরচে ব্যর্থ স্বাস্থ্য খাত, চিকিৎসায় বাড়ছে ব্যক্তিগত ব্যয়

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৩, ০৯:০২

স্বপ্নের শহর ঢাকাতেই স্বপ্নভঙ্গ কাওসারের। একটি ফার্নিচারের দোকানে কাজ করেন তিনি। সংসারে ৩ বোন আর মাকে নিয়ে ভালোই চলছিলো। কিন্তু হঠাৎই ৪ মাস আগে ছোট বোনের ক্যান্সার ধরা পড়ে। খরচ মেটাতে শেষ হয়ে যায় জীবনে যা জমিয়েছেন সবটুকুই। এমনকি বিক্রি করতে হয়েছে ভিটে মাটিও।

তিনি বলেন, সব বিক্রি শেষে এখন ঋণ নিয়ে বোনের চিকিৎসা করছি, সামনে কি করবো তা এখনও জানি না। এখন আল্লাহর কাছে দোয়া করি, রোগী এর আগেই মরে যাক।

এমনই আরেকজন শাহনূর। নরসিংদী থেকে রাজধানীতে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু রোগ নির্ণয়ের আগেই খরচ হয়ে গেছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। দেয়ালে পিঠ না ঠেকলে মধ্যবিত্ত হিসাব নিকাশে রোগের কথাটাই তাই আর বলা হয়ে ওঠেনা অনেকের।

সরকারি তথ্য উপাত্তে দেখা যায়, দেশে কোন রোগী ১০০ টাকা খরচ করলে তার ৬৯ টাকাই ব্যয় হয় নিজের পকেট থেকে। আর ২৩ টাকা বহন করে সরকার। যা স্বাস্থ্যখাতে মাথাপিছু সরকারি ব্যয়ের দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, পুরো বিশ্বেই সবচেয়ে নিচের দিকে। গত ২ দশকে এই খরচটাও আবার কমেছে আনুপাতিক হারে।  ২০০০ সালে ৩৩ টাকা থেকে ২০২০ সালে ২৩.৩ টাকায় নেমেছে

এ বিষয়ে জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, ওষুধ এবং ডায়াগনস্টিক এগুলোর খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। সেখানে যদি উল্টো বরাদ্দ কমানো হয় তবে সেটা স্বাস্থ্যখাতে বড় নেতিবাচক প্রভাব পরবে।

আন্তর্জাতিক মান বিচার করলে দেশের মোট বাজেটের অন্তত ১২ থেকে ১৫ ভাগ বরাদ্দ থাকা উচিত স্বাস্থ্য খাতের জন্য। তবে বাংলাদেশে এই হার ৫ শতাংশের আশেপাশে।

সবমিলিয়ে সাম্প্রতিক হিসাবে, দেশের একেকজন মানুষের জন্য শুধু চিকিৎসায় সরকার প্রতি মাসে খরচ করে সাড়ে ৩ শ টাকার মতো। প্রশ্ন হলো, এই বরাদ্দে আদৌ কি কারো ন্যূনতম চিকিৎসাও সম্ভব?

চিকিৎসাবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী বলেন, মাথাপিছু একজনের প্রতি সারা বছর খরচ হচ্ছে ৫৪ ডলার। এটি যে অপ্রতুল তা আমরা সবাই জানি। যারা শুধু পরিসংখ্যান দেখে বলছেন বাজেটের ক্রয় ক্ষমতা নেই, স্বাস্থ্যে খরচ কমিয়ে দিলাম তাদের আসলে বিষয়টি ভাবা দরকার। সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে এই স্বাস্থ্যের জন্য খরচ করতে গিয়ে।

স্বাস্থ্যখাতে মোট বাজেটের প্রায় ৪০ ভাগই খরচ হয় ঢাকার সরকারি হাসপাতালগুলোতেই। তাহলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবস্থা কতটা করুণ হতে পারে তা আসলেই ভাববার বিষয়। তবে চিকিৎসা সেবার উন্নয়নে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, খরচটাও ঠিকঠাক করতে হবে। যা হচ্ছে না এখনো। বরং ব্যয় করতে না পারায় প্রতিবছরই ফেরত যাচ্ছে বরাদ্দের টাকা।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ