ভোটের রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক  শক্তির সঙ্গে আপোসকামিতা

  মোনায়েম সরকার

২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

মোনায়েম সরকার
টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আছে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এই দলটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে বিশ্বাসী বলেই সবাই জানে। দুঃখের কথা হলো, আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার পরও দেশে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতাকে প্রশ্রয় দেওয়ার প্রবণতা অনেক ক্ষেত্রেই বাড়ছে। ভোটের রাজনীতির কথা বলে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সঙ্গে আপোস করে  দেশটাকে একটু একটু করে উগ্র ধর্মান্ধ ও সাম্প্রদায়িক মানুষের দেশ বানানো হচ্ছে কিনা সে প্রশ্ন এখন সামনে আসছে।

২২ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ১৪-দলীয় জোট সম্প্রসারণ সংক্রান্ত একটি খবর পড়ে কিছুটা অস্বস্তিবোধ করছি। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য বিএনপি দেশের অসংখ্য ছোটো ছোটো দলের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে নেমেছে। এর পাল্টা হিসেবে আওয়ামী লীগও নতুন নতুন মিত্র খুঁজছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যে ১৪-দলীয় জোট আছে তাকে সম্প্রসারিত করার কথা ভাবছে আওয়ামী লীগ। নতুন মিত্র হিসেবে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও সাবেক বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপি ছাড়াও ইসলামী ঐক্য জোটের একাংশ ও ইসলামী ফ্রণ্ট বাংলাদেশ নামের দুটি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের যোগাযোগ হয়েছে বলে খবরে বলা হয়েছে। আওয়ামী লীগের এই উদ্যোগে ১৪-দলের জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি যে উৎসাহবোধ করবে না সেটা বুঝতে পারি। কিন্তু আওয়ামী লীগ কেন ইসলামী দলগুলোর প্রতি লোভের দৃষ্টি দিচ্ছে সেটা ঠিক বুঝতে পারছি না। এটা কি পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে টেক্কা দেওয়ার কৌশল? যদি তাই হয়, তাহলে আমার স্পষ্ট বক্তব্য, এই কৌশল আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য শেষ বিচারে সুফল না-ও দিতে পারে।    

বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পর চারটি বিষয় জাতীয় নীতি হিসেবে গৃহীত হয়েছিল। জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। জাতীয়তাবাদ আমাদের বাঙালি জাতিসত্তার জন্য  আবশ্যিক শর্ত। জাতীয়তাবোধ একটি জাতির স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য দরকার। গণতন্ত্র ভিন্ন স্বাধীনতা বা মুক্তিকে একটি টেকসই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা মানবিক  অধিকার, সামাজিক ন্যায্যতা ও সর্বপ্রকার সমতার জন্য জরুরি। আজ বাংলাদেশ এই মূলনীতিগুলো থেকে সরে এসেছে। ‘বাঙালি’ না ‘বাংলাদেশি’Ñ এই বিতর্ক তুলে আমাদের জাতিসত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ আজ হুমকির মুখে। আমরা ভুলে গেছি যে, নিয়মিত চর্চার মধ্যদিয়েই গণতন্ত্র বিকশিত ও শক্তিশালী হয়। আমরা সেই চর্চা থেকেই যেন ছুটি নিয়েছি। সামাজিক ন্যায্যতার প্রতিফলন দেখা যায় না। আইন ও বিচারের ক্ষেত্রে বৈষম্য আছে, অসমতা আছে জীবনের নানা ক্ষেত্রে। আমাদের চিন্তায়, কাজে আমরা ধর্মনিরপেক্ষতা বিসর্জন দিয়েছি। স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি আবার জেঁকে বসেছে রাষ্ট্রীয় ও সমাজ জীবনে। এদেরই পূর্বসূরিরা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, গণহত্যার দেসর হয়েছিল, বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরে ইতিহাস বিকৃত করেছিল। স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ এবং যে কোনো মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার বিরুদ্ধে এই অপশক্তি এক বিরাট হুমকি। 

ধর্মের স্বাধীনতা, পোশাক নির্বাচনের স্বাধীনতা, নিজের মতো চলাফেরার স্বাধীনতা আমাদের সংবিধান নাগরিকদের দিয়েছে। সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে আছেÑ ‘সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী।’ ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদে আরও আছে: (১) ‘কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।’, (২) ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারীপুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন’।
কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, শুধু ভিন্ন ধর্মের নারী নয়,  মুসলিম নারীদেরও নিজের রুচি ও পছন্দের পোশাক পরে রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে হয়রানি-অপমান-কুমন্তব্যের শিকার হতে হচ্ছে। পথচারী, দোকানদার, হকার, রিকশাচালক থেকে শুরু করে অনেকেই আপত্তিকর সব মন্তব্য করে বিকৃত আনন্দ পেয়ে থাকেন। পাকিস্তানি আমলেও তো এমন অবস্থা ছিল না। কেন এই পশ্চাৎমুখিতা?

মুক্তিযুদ্ধর সময় আমরা চেয়েছিলাম স্বাধীনতা এবং তার সঙ্গে গণতন্ত্র ও অসাম্প্রদায়িক একটি রাষ্ট্র এবং অবশ্যই সাংস্কৃতিক মুক্তি। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে এবং তাতে অংশীদার হয়েছিলেন মুষ্ঠিমেয় কুলাঙ্গার ছাড়া মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ এই ভূখ-ে বসবাসকারী সব মানুষ। তাদের অনেকে প্রাণ দিয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন, হতাহত হয়েছেন। তাই আমরা বলি, ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা, কারো দামে পাওয়া নয়’। 

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে রাজনীতির পটপরিবর্তন হয়, তার ফলেই পাকিস্তানি ভুত এসে মাঝে মধ্যেই আমাদের উল্টো পথে ঠেলছে, অনেকেই এতে বিভ্রান্ত হচ্ছে। এমনকি আওয়ামী লীগেরও কেউ কেউ কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত নয়। এই পাকিভূতদের প্রতিরোধ করতে না পারলে আমাদের এত রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতা ও স্বাধীনতার চেতনাকে রক্ষা করা যাবে না। 

এটা এখন বলা যায় যে, একাত্তরে আমরা ভৌগোলিক স্বাধীনতা পেলেও আমাদের সবার বুদ্ধি ও চিন্তার মুক্তি হয়নি। স্বাধীনতার পর আমরা ধরে নিয়েছিলাম, যেহেতু পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর পরাজয় হয়েছে সেহেতু পাকিস্তানি ধ্যানধারণা, প্রতিক্রিয়াশীল, পশ্চাৎপদ চিন্তাধারারও বুঝি পরাজয় ঘটেছে। আমরা তখন এটা উপলব্ধিতে নেইনি যে, দৃশ্যমান শাসকগোষ্ঠীকে সম্মুখযুদ্ধে পরাজিত করা সহজ হলেও ভেতরে থাকা, দীর্ঘদিন লালন করা চিন্তাধারা সশস্ত্র লড়াইয়ে পরাভূত হয় না। চিন্তার জড়তা থেকে মুক্তির জন্য শিক্ষা-সংস্কৃতির মশাল হাতে এগিয়ে যেতে হয়। 

অথচ স্বাধীনতার এত বছর পরে এসেও আমরা দেখছি অর্থনৈতিকভাবে আমাদের দেশ অনেকটা এগিয়ে গেলেও শিক্ষা-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ফাঁক তৈরি হয়েছে। অর্থবিত্তের দিকে যতটা মনোযোগ বেড়েছে, মানবিক ও উদার দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারের ক্ষেত্রে ততটাই সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।  

সেজন্য আমাদের এখন সবার আগে দরকার শিক্ষা আর সংস্কৃতির ক্ষেত্রে একটা নতুন জাগরণ, নতুন চিন্তা আর দিকদর্শন। আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্কতা হবে যার ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধের ভূলুণ্ঠিত মূল্যবোধ তথা চেতনা ফিরিয়ে আনতে জোড়াতালির শিক্ষার খোলনলচে বদলে বাঙালির জাতীয় চেতনার সঠিক ইতিহাস আর সাংস্কৃতিক পরিচয় নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার কোনো বিকল্প নেই।  

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক মুক্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছলেও সাংস্কৃতিক, মানসিক আর বৌদ্ধিক মুক্তি থেকে এখনো দূরেই আছি। এই দূরত্ব ঘোচাতে হবে। 

আগেই উল্লেখ করেছি, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের একটি অন্যতম লক্ষ্য ছিল। কিন্তু নানা ঘাত-প্রতিঘাত, রাজনৈতিক উত্থান-পতন, ক্ষমতার রাজনীতির জটিল সমীকরণ এখন আমাদের এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়েছে। বাংলাদেশ এখন আর সমতা ভিত্তিক সব মানুষের নিরাপদ বাসভূমি নেই। এখানে একদিকে ধনবৈষম্য, অন্যদিকে ধর্মীয় বিভাজনও বাড়ছে। এক সময় হিন্দু প্রতিবেশীর প্রতি মুসলিম প্রতিবেশীর যে সহানুভূতি ছিল, এখন তাতে ফাটল ধরেছে। আক্রান্ত হিন্দু প্রতিবেশীকে রক্ষার জন্য মুসলিম প্রতিবেশী কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। এখন অনেকেই নিজেকে ‘হিন্দু দরদি’ হিসেবে চিহ্নিত করতে চান না। সম্ভবত  অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির ঐতিহ্যবহন করা আওয়ামী লীগও আর সে পরিচয় গায়ে সেঁটে রাখতে চায় না। অথচ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠেছিলেন পাকিস্তানি ধারার সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক ধারার বিরোধিতা করেই। তাকেও ইসলামপন্থী দলগুলো নানাভাবে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করতো। এমনকি জয় বাংলা স্লোগানের বিপরীতে ‘জয় বাংলা জয় হিন্দ, লুঙ্গি খুলে ধুতি পিন্দ’ এমন হাস্যকর স্লোগানও উচ্চারিত হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু আপোসের পথে হাঁটেননি। 

রাজনীতিতে নীতির প্রশ্নে আপোসহীন হতে হয়। আর কৌশলে হতে হয় নমনীয়। আজকাল দেখা যায়, উল্টো চিত্র। এখন নীতির সঙ্গে আপস করে কৌশলে অনমনীয় থাকার রাজনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলেই রাজনীতির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা-বিশ্বাস তলানিতে এসে ঠেকছে।   

আমরা ভুলে যেতে বসেছি যে, মুক্তিযুদ্ধে বিজয় থেকে শুরু করে আমাদের সব অর্জন কিন্তু ঐক্যবদ্ধ শক্তির ফল। আমারা এক সঙ্গে আন্দোলন করেছি, সবাই মিলে একত্রে মুক্তিযুদ্ধ করেছি, আমাদের সমাজের মূল শক্তিই ছিল যূথবদ্ধতা। মানুষের অগ্রগতি ও নিরাপত্তা কারো একার ওপর নির্ভর করে না, তা নির্ভর করে যে বৃহত্তর কাঠামোর আমরা অংশ, তার ওপরে। মনে রাখা দরকার, নগরীতে আগুন লাগলে দেবালয়ও তা থেকে রক্ষা পায় না। 

আর্থিক সাফল্যকেই একজন সফল মানুষের নির্ণায়ক বলে মেনে নেওয়া শুরু হলো কবে থেকে? এক সময় বিত্তের চেয়ে চিত্তে বড় মানুষরাই ছিলেন শ্রদ্ধার পাত্র। বিত্তের মাপকাঠিতেই এখন মানুষের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষা, মানবিকতা, সংস্কৃতিমনস্কতা, ভদ্রতা-শোভনতা এগুলোকে আমরা আর মনুষ্য বিচারের মাপকাঠি বলে ভাবি না। ফলে মানুষের বহু সুকুমার বৃত্তিকে বিসর্জন দিয়ে তা অপ্রাসঙ্গিক ও মূল্যহীন করে ফেলা হয়েছে। সমাজে সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিস্তৃতি ঘটেছে। সহনশীলতা, পরমত সহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ হ্রাস পেয়েছে। মানুষের ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা দিতেও আমরা ভুলে যাই। যেকোনো মতভেদ, মতানৈক্য ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে আজ কথাবার্তার পরিবর্তে শক্তিকেই ব্যবহার করা হয়। পেশিশক্তি, বিত্তশক্তি, ক্ষমতার শক্তি। এসব শক্তির পথ ধরেই এসেছে অস্ত্র, সহিংসতা আর সন্ত্রাস। যেকোনো মতবিরোধ, মতানৈক্য আর মতভেদে আশ্রয় নেওয়া হয় সহিংসতা আর সন্ত্রাসের। সহিংসতা আজ অনেকের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সন্ত্রাস হয়ে দাঁড়িয়েছে কারো কারো সংস্কৃতি।

এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক ঐক্য গঠনের ক্ষেত্রে নীতির প্রশ্নটিকে গুরুত্বহীন না ভাবাটাই সমীচিন হবে। মানুষকে অগ্রসর রাজনৈতিক চিন্তার অনুগামী করে তোলার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের। অসচেতন জনগণ কখনো কখনো হুজুগে মেতে ওঠে। হুজুগ কোনো ভালো বিষয় নয়। আওয়ামী লীগ যেহেতু মানুষের কল্যাণ চিন্তাতেই অগ্রাধিকার দিয়ে রাজনীতির কৌশল নির্ধারণ করে, সেহেতু আওয়ামী লীগের নির্বাচন কৌশলেও কোনো কিছুর সঙ্গে আপোস না করে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তির প্রতি বিশ্বস্ত থাকাই হবে উচিত কাজ। মনে রাখতে হবে, ধর্মভিত্তিক দল নিজেদের স্বার্থেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে জুটি বাঁধতে চাইবে, আওয়ামী লীগের স্বার্থে অবশ্যই নয়।


মোনায়েম সরকার : রাজনীতিক, লেখক ও মহাপরিচালক, বিএফডিআর।

এই বিভাগের আরো সংবাদ