আজকের শিরোনাম :

শেখ হাসিনার পদ্মা সেতু নির্মাণ : উন্নয়নশীল বিশ্বে বাংলাদেশের যুগান্তকারী বিজয়

  ড. সেলিম মাহমুদ

২১ জুন ২০২২, ১৫:১২ | অনলাইন সংস্করণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু-কন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাংকের মতো বিশ্বমোড়লের খবরদারি ও হুমকি এবং ক্ষেত্রবিশেষে তাদের প্রলোভন উপেক্ষা করে যেভাবে পদ্মা সেতুর মতো এত বৃহৎ একটি ভৌত কাঠামো নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে নির্মাণ করতে পারলেন, এটি শুধু দক্ষিণ এশিয়া কিংবা এশিয়া মহাদেশে নয়, সমগ্র বিশ্বে একটি মাইলফলক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। বিশ্বব্যাংককে বাদ দিয়ে নিজের উদ্যোগে পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের কি অর্জন হয়েছে আর এর বৈশ্বিক বা আন্তর্জাতিক প্রভাব কি- এ বিষয়ে আমাদের অনেকেরই ধারণা নেই। মোটা দাগে বলতে গেলে, আমাদের জাতীয় স্বার্থে এই প্রকল্প নিজেদের উদ্যোগে সফলভাবে সম্পন্ন করার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি তথা সার্বিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা প্রায় ৫০ বছর এগিয়ে গেলাম।

অন্যদিকে, বর্তমান বিশ্ব-ব্যবস্থায় সবচেয়ে প্রভাবশালী আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংকের নানা অন্যায্য এবং অযাচিত হুমকি ও প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করে বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে এ ধরনের একটি বিশাল কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার কারণে বিশ্ব-ব্যবস্থায়ও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। এ ঘটনার ফলে বিশ্বব্যাংকসহ বহুপাক্ষিক ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (Multilateral Lending Institutions) বিপরীতে উন্নয়নশীল বিশ্বের দর-কষাকষির ক্ষমতা (Bargaining Power) উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্ত স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহে এই বিশ্বমোড়লদের নানামুখী শোষণ আর খবরদারির (Hegemony) ওপর এক বড় ধরনের আঘাত। ফলে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বে বহুপাক্ষিক ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জাতীয় স্বার্থবিরোধী প্রভাব কমতে শুরু করবে। অর্থাৎ শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থই রক্ষা করেনি, তার এই অসীম সাহসী সিদ্ধান্ত বর্তমান বিশ্ব-ব্যবস্থায়ও এক পরিবর্তনের সূচনা করেছে।

আর্থিক ও অর্থনৈতিক, কারিগরি ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক নিজস্ব উদ্যোগে পদ্মা সেতু নির্মাণের কারণে ৫টি ফলাফল দৃশ্যমান হচ্ছে। ১. নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ ভৌত কাঠামো সফলভাবে নির্মাণের ফলে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের আর্থিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে; ২. বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে দারিদ্র্য বিমোচন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দেশের উন্নয়নকে অভ্যন্তরীণভাবে সকল অঞ্চলে সুষম বণ্টনসহ দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক (Macro Economy) উন্নয়নে এই সেতুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে; ৩. সেতু নির্মাণ, এর মালিকানা ও পরিচালনায় বিদেশি নির্ভরতা না থাকায় জাতীয় স্বার্থ সমন্বিত হয়েছে; ৪. বাংলাদেশের এই উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়ন হয়েছে এবং ৫. শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্ত বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় এক পরিবর্তনের সূচনা করেছে।

ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সকল উন্নয়নশীল দেশ, এমন কী উন্নত বিশ্বের কিছু দেশও বৃহৎ ভৌত কাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে বহুপাক্ষিক ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্র কিংবা আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর নির্ভরশীল ছিল। ইতোপূর্বে নির্মিত বাংলাদেশের সকল বৃহৎ ভৌত কাঠামোই বিভিন্ন বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীর সহায়তায় এবং কখনও কখনও তাদের অংশীদারিত্বে সম্পন্ন হয়েছে। শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এই প্রথম বাংলাদেশ কোনো উন্নয়ন সহযোগীর সহায়তা ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে এবং অর্থায়নে একটি বিশ্বমানের ভৌত কাঠামো নির্মাণ করল।

বৃহৎ সেতুর মতো ভৌত কাঠামো নির্মাণ এবং এর মালিকানার বিষয়ে বিগত তিন দশক ধরে পৃথিবীর অনেক দেশেই নিজস্ব অর্থায়ন ও মালিকানার পরিবর্তে দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগকারীর অর্থায়ন এবং ভৌত কাঠামোগুলোতে তাদের মালিকানাই রাখা হয়। মূলত BOO (Build Own and Operate), BOT (Build, Own and Transfer) এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ পদ্ধতিতে এ ধরনের বৃহৎ ভৌত কাঠামো নির্মাণ, এর মালিকানা, পরিচালনা ইত্যাদি বিষয় নির্ধারিত হয়। পৃথিবীর দেশে দেশে সরকারের সীমিত আর্থিক ও কারিগরি সক্ষমতার কারণে এ সকল পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়। এ পদ্ধতিতে ভৌত কাঠামোতে রাষ্ট্রের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

এ ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রেই জনসাধারণ ও ভোক্তাগণের পক্ষে প্রকৃত সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা প্রতিকূলতার সৃষ্টি হয়। এ পদ্ধতিতে ক্ষেত্রবিশেষে জাতীয় স্বার্থও বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শেখ হাসিনার উদ্যোগে নির্মিত পদ্মা সেতুর ওপর কেবল বাংলাদেশেরই মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এই সেতুর ওপর কোনো বিদেশি কর্তৃপক্ষের কোনো মালিকানা বা কর্তৃত্ব থাকছে না। চীন শুধু ঠিকাদারি কাজ করেছে; দেশের দুই প্রান্তের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর ওপর কোনো বিদেশি কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকছে না।

উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বিশ্বব্যাংকের জন্ম ১৯৪৪ সালে হলেও, মূলত আশির দশক থেকে এ প্রতিষ্ঠানটি উন্নয়নশীল বিশ্বের অর্থনীতিতে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে আসছে। বিশ্বব্যাংক মূলত তাদের Structural Adjustment Programme-এর মাধ্যমে তৎকালীন তৃতীয় বিশ্বে তাদের এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। এটি অনস্বীকার্য যে, বহুপাক্ষিক ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেই মূলত কাজ করছে। এক্ষেত্রে তাদের অনেক ইতিবাচক ভূমিকাও রয়েছে। তবে এটি ভুলে গেলে চলবে না, পৃথিবীর অনেক দেশেই এ সকল উন্নয়ন সহযোগীদের প্রেসক্রিপশনে সেদেশের জনগণ উপকৃত হয়নি; এর সুবিধাভোগী হয়েছে অন্যপক্ষ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ সকল উন্নয়ন সহযোগীদের পরামর্শ কিংবা অংশীদারিত্ব সংশ্লিষ্ট দেশের স্বার্থবিরোধী ছিল। যেমন- ১৯৯৮ সালে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিল, সরকার যাতে ২০০১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে গ্যাস রপ্তানি শুরু করে। এ পরামর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক নানামুখী কৌশল অবলম্বন করেছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় স্বার্থে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং ২০০১ সালের জুলাই পর্যন্ত সেটি করতে দেননি। পরবর্তীতে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এসে দেশবিরোধী এই পরামর্শ বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল, যদিও জননেত্রী শেখ হাসিনার জোরালো বিরোধিতার কারণে খালেদা জিয়া এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

২০১১ সালের জুন এবং ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ সরকারের এক প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে আমি ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তরে বিশ্বব্যাংকের সাথে বেশ কয়েকবার সভা করেছিলাম, যা মূলত দুপক্ষের মধ্যে দর-কষাকষির সভা ছিল। এছাড়া বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশেও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের সাথে আমাদের বিভিন্ন সময়ে সভা হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, বিশ্বব্যাংক বরাবরই ঋণ/সহায়তা গ্রহণকারী দেশগুলোর প্রকৃত কল্যাণের চেয়ে নিজেদের মতামত চাপিয়ে দিতেই বেশি আগ্রহী। তাদের সিদ্ধান্ত সেই রাষ্ট্রের জন্য লাভজনক কি না সেটি তারা দেখতে আগ্রহী নয়। তাদের নীতিমালার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে তারা বেশি আগ্রহী। বিভিন্ন দেশে তাদের খবরদারি (ঐবমবসড়হু) প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অনেক সময় তারা স্ববিরোধী অবস্থানও নেয়। অনেক সময় তারা ব্যবসায়িক, গোষ্ঠী স্বার্থকেন্দ্রিক, রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে নামে। পৃথিবীব্যাপী অনেক গবেষণায় উন্নয়ন সহযোগীদের এই ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে। এমন কী বিশ্বব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় পদে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিবর্গের মধ্যে কেউ কেউ (যেমন- সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোসেফ স্টিগলিটস) তাদের লেখায় এটি তুলে ধরেছেন।

বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল বার্তা দিয়েছিল। ১৯৯৮ সালের বন্যার সময় তারা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, বাংলাদেশে ২ কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে ঐ ভয়াবহ বন্যায় একটি মানুষও না খেয়ে মরেনি। ২০০৯-১০ সালে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যখন দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করার জন্য জরুরিভিত্তিতে ও জোরালোভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিলেন, তখন বিশ্বব্যাংক বলেছিল ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করতে গিয়ে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ধসে পড়বে। তাদের সেই ভবিষ্যদ্বাণীকে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা ভুল প্রমাণ করেছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসহ সকল খাতে শেখ হাসিনার সাহসী ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি বিস্ময়করভাবে উন্নতি লাভ করেছে।

পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে চরম অমানবিক ও অপমানজনক আচরণ করেছিল। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে এই অপমান মেনে নেওয়া যায় না। তারা দুর্নীতির কথা বলে এই প্রকল্পে প্রতিশ্রুত অর্থায়ন বন্ধ রাখল। পদ্মা ব্রিজের পাশাপাশি দুটি বৃহৎ বিদ্যুৎ কেন্দ্র (বিবিয়ানা-১ এবং বিবিয়ানা-২ প্রকল্প) নির্মাণ প্রকল্পেও বিশ্বব্যাংক ইতোপূর্বে তাদের প্রতিশ্রুত ঋণ প্রত্যাহার করল। এ প্রকল্প দুটিতে তাদের অনেক আগ্রহ ছিল। কোনো কারণ প্রদর্শন ছাড়াই তারা বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুটি থেকে ঋণ প্রত্যাহার করে নিল।

শুধু তাই নয়, আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করল। এদেশের কিছু ব্যক্তিবর্গ এবং গোষ্ঠী বাংলাদেশ যাতে বিশ্বব্যাংক থেকে প্রতিশ্রুত ঋণ না পায়, তার জন্য অনেক অপপ্রচার করল। তারপর এ প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের প্রতিশ্রুত ঋণ প্রত্যাহারের বিষয় নিয়ে কতই না মায়াকান্না করল তারা। তারা এটা নিয়ে অপপ্রচার করল যে, এতে দেশের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল। পরে কানাডার আদালতে প্রমাণিত হলো- পদ্মা ব্রিজ প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি। বিশ্বব্যাংকের ঋণের তোয়াক্কা না করে শেখ হাসিনা আমাদের নিজেদের অর্থেই আজ পদ্মা ব্রিজ নির্মাণ করেছেন।

এই বিশ্বব্যাংক একই সময়ে তাদের নিজেদের পলিসির ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনেও বাধা দিয়েছিল। ২০১৩ সালের অক্টোবরে ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের সাথে এ নিয়ে আমাদের বেশ তর্ক-বিতর্ক হয়েছিল। আমার এখনও মনে আছে, ঐ সভায় আমি তাদের দেখিয়ে দিয়েছিলাম বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক কীভাবে তাদের নিজেদেরই পলিসি’র ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছিল। শেখ হাসিনার সাহসী উদ্যোগ ও সফল কূটনীতির কারণে বাংলাদেশ যখন এ প্রকল্পগুলো স্থাপনে কয়েকটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সহযোগিতা পেয়ে গেল, তখন বিশ্বব্যাংক ইউ-টার্ন নিয়ে এদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা করতে আবার ফিরে এলো।

আমার কাছে মনে হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বহুপাক্ষিক ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে নানা কৌশলী পদক্ষেপ নিয়েছে। এ সকল পদক্ষেপ ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করে লবিস্টদের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এ কাজগুলো করা হয়েছিল। আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. ইউনূস লবিস্টদের মাধ্যমে বিদেশে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন বাংলাদেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে।

এটি আমাদের মনে রাখতে হবে, পৃথিবীর অনেক দেশেই মানি লন্ডারিং হয়। তবে দেশের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে সেই টাকা দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের ঘটনা খুব কমই দেখা যায়। দেশের টাকা নানাভাবে বিদেশে পাচার করে ষড়যন্ত্রকারীরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। পদ্মা সেতুসহ দেশের নানা উন্নয়নকে নস্যাৎ করার জন্য পাচার করা টাকা লবিস্টদের মাধমে তারা ব্যবহার করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করার জন্য তারা বিদেশে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। এই টাকা দেশ থেকে পাচার করা টাকা। চক্রটি দেশ থেকে পাচার করা টাকা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার কাজে ব্যবহার করছে।

২০১৬ সালের অক্টোবরে বিশ্বব্যাংকের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে একই মঞ্চে বসে বাংলাদেশের যে প্রশংসা করেছিলেন তার মর্মার্থ হচ্ছে, আর্থ-সামাজিক প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাফল্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পৃথিবীর অনেক দেশ বাংলাদেশকে মডেল হিসেবে অনুসরণ করতে পারে। তার বক্তব্যে মনে হয়েছে, আর্থ-সামাজিক সকল সূচকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল বিশ্বের মধ্যে শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র। উক্ত অনুষ্ঠানে দর্শক হিসেবে আমিও উপস্থিত ছিলাম। মঞ্চে উপবিষ্ট রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সেদিন তার উপস্থিতি, ভাষণ, এমন কী তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজে এটি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র- বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ আজ বিশ্বসভায় নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
বিদেশে নানা লবিস্ট ফার্মের মাধ্যমে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে অশুভ গোষ্ঠী বাংলাদেশের ক্ষতি করতে চেয়েছে। স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনার আত্মবিশ্বাস, মনোবল আর সুদক্ষ নেতৃত্বের কাছে এসব কিছুই টেকেনি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সকল ষড়যন্ত্র আর প্রতিবন্ধকতা নস্যাৎ করে এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মতো বিশ্বমোড়লদের খবরদারিকে অগ্রাহ্য করে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা তার আকাশচুম্বী মনোবল, ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা, অসীম সাহস এবং অতুলনীয় মেধা ও দক্ষতা দিয়ে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ভৌত কাঠামো পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে বাঙালির স্বপ্নজয় করেছেন। তার নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ আরও বহু দূর এগিয়ে যাবে।

লেখক : তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ

এই বিভাগের আরো সংবাদ