লন্ডন ডায়েরি : আকবর, ঔরঙ্গজেব বা শাহজাহানের চশমা

  শ্রাবণী বসু

২৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

লন্ডনে নিলামে উঠছে মোগল আমলের দু’টি অতি-বিরল চশমা। সম্মিলিত দাম উঠতে পারে ৪৫ লক্ষ পাউন্ড। মোগল সম্রাট বা শাহজাদাদের মর্যাদার প্রতীক ছিল চশমা। নিলামে ওঠা হিরের চশমাটির নাম আলোর বলয়, পান্নার চশমাটির নাম স্বর্গদুয়ার। সতেরো শতকে এই চশমা কোন মোগল বাদশা গড়ার অনুমতি দিয়েছিলেন, স্পষ্ট নয়। আকবর থেকে ঔরঙ্গজেব- যে কেউ হতে পারেন। চশমাটি শাহজাহানের হওয়াও সম্ভব। শোনা যায়, স্ত্রী মমতাজ় মহলের মৃত্যুর পর বাদশা নাকি এতই চোখের জল ফেলেছিলেন, দৃষ্টিশক্তি কমে গিয়েছিল। চোখের শুশ্রূষায় পান্নার প্রয়োজন হয়েছিল।

সূক্ষ্ম কারুকাজের দায়িত্ব বর্তেছিল শিল্পীর উপর। ২০০ ক্যারাটেরও বেশি ওজনের হিরের খণ্ড ও অন্তত ৩০০ ক্যারাটের পান্না থেকে চশমার কাচ কাটা হয়! এমন উদাহরণ আর মেলেনি। ১৮৯০-এ রোজ় কাট ডায়মন্ডে সাজানো নতুন ফ্রেম বসে চশমাগুলোয়। হিরেগুলো নাকি গোলকোন্ডার খনির।

আর পান্নার উৎস কলম্বিয়ার মুসো খনি। সাধারণ চশমায় তো শুধু চোখের দেখা শুধরোয়। এই চশমায় নাকি মনের চোখেরও উন্নতি হবে। হিরে উদ্ভাসিত করবে অন্তরকে। আরোগ্যসাধনের ও অশুভ নিবারণের আশ্চর্য ক্ষমতা আছে নাকি পান্নায়। আর্টস অব দি ইসলামিক ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড ইন্ডিয়া সেলের অংশ হিসাবে সদবি’জ-এ নিলামটি হবে ২৭ অক্টোবর।

রোডসের মূর্তি
অক্সফোর্ড থেকে সিসিল রোডসের মূর্তি সরানো নিয়ে ফের বিতর্ক। ওরিয়েল কলেজ মূর্তির কাছে ফলকে লিখেছে, রোডস খনিজ, জমি ও জীবন লুট করে সম্পদলাভ করেন। কলেজভবনটি তাঁর অর্থে নির্মিত, তবে তাঁর কারণে প্রাণহানি হয়েছে। আন্দোলনকারীরা সরব, এতে রোডসের কুকীর্তিকে লঘু করা হচ্ছে। অনেকেই রোডসকে দক্ষিণ আফ্রিকায় জাতিবিদ্বেষের হোতা মনে করেন। উনিশ শতকের এই ব্যবসায়ী কলেজের ছাত্র, কলেজকে অনুদান দিয়েছিলেন। বহু ভারতীয় ছাত্রই রোডস স্কলারশিপে অক্সফোর্ডে যান।

বিদেশমন্ত্রীর ‘গৃহ’যুদ্ধ
এত দিন ব্রিটেনে বিদেশ সচিব হলেই কেন্ট-এ শেভনিং নামক ৩০০০ একরের সম্পত্তিটির একচেটিয়া মালিকানাও পাওয়া যেত। ১৫০০ ঘর, টেনিস কোর্ট, প্রাকৃতিক পুষ্করিণী, সুইমিং পুল— অতিথি সৎকার হোক বা অবসরযাপন, বিলাসিতার অভাব হত না। বর্তমান বিদেশ সচিব লিজ় ট্রুসের মন্দ কপাল, বিদেশ মন্ত্রকে তাঁর পূর্বসূরি ডমিনিক রাব এখন দেশের উপ-প্রধানমন্ত্রী। তাঁরও অধিকার আছে শেভনিং ব্যবহারের। রাব ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সেই অধিকার তিনি হাতছাড়া করছেন না। ফলে, ঠান্ডা-যুদ্ধ বেধেছে দু’জনের। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, বরিস জনসনকে হস্তক্ষেপ করতে হল।

পরিবেশের পুরস্কার
লাল নয়, সবুজ গালিচায় হাঁটলেন তারকারা। প্রিন্স উইলিয়াম পরলেন আগে পরা সবুজ ভেলভেট জ্যাকেট। স্ত্রী কেটের পরনে দশ বছরের পুরনো গাউন। শুরু হল বিশ্ব জুড়ে পরিবেশ রক্ষারত তরুণদের জন্য উইলিয়ামের আর্থশট পুরস্কার। পাঁচ বিজয়ীর অন্যতম ভারতের বিদ্যুৎ মোহন। তিনি শুদ্ধ বায়ু বিভাগের বিজেতা ‘টাকাচর’ সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা। সংস্থার আবিষ্কৃত সস্তা যন্ত্র ট্রাক্টরে থাকে। ফসলের অবশেষকে বিক্রয়যোগ্য জ্বালানি ও সারে পরিণত করে। কৃষকদের অবশেষ বা নাড়া পোড়ানোর ফলে দিল্লির আশপাশের আকাশ দূষিত কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। এই প্রযুক্তিতে কার্বন নিঃসরণ ৯৮% পর্যন্ত কমবে।

জনসনের অতিথি-ভাগ্য
গ্লাসগোর জলবায়ু সম্মেলনে আয়োজক বরিস জনসনের ডাক ফেরাচ্ছেন অতিথিরা। চিনের প্রেসিডেন্ট শি চিনফিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেরা আসবেন না। ফলে, নরেন্দ্র মোদীকে রাজি করাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন জনসন। স্পেনে ছুটি কাটাতে গিয়েও তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন! কয়লায় নির্ভরশীল ভারত ও চিনের দরুন দূষণ বাড়ে। তাদের প্রতিনিধিত্ব জরুরি। বাইডেন, মাকরঁ-কে নিয়ে জনসন নিশ্চিন্ত। তাঁরা আসছেন। থাকবেন শেখ হাসিনাও।

এই বিভাগের আরো সংবাদ
ksrm