আফগানিস্তান:  বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি জরুরি পর্যালোচনা

  আলাউদ্দীন মল্লিক

২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

আফগানিস্তানের তালেবান যোদ্ধারা
এক নজরে আফগান:
আফগানিস্তান পুরোপুরি স্থলবেষ্টিত - আরব সাগর হতে ৩০০ মাইল (৪৮০ কিলোমিটার) দূরে । দেশটির পূর্ব এবং দক্ষিণে পাকিস্তান আর  পশ্চিমে ইরান এবং উত্তরে মধ্য এশিয়ার রাষ্ট্র তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান এবং তাজিকিস্তান। চীন জিনজিয়াং এর সাথে একটি সংক্ষিপ্ত সীমানা রয়েছে। এদেশটির অধিবাসীদের মধ্যে পশতুন বেশি - পশতু তাদের ভাষা। এছাড়া উজবেক ও  তাজিক জাতির সংখ্যাও কম নয়।  আর আছে ক্ষুদ্র কিছু গোত্র।  পুরো দেশ জুড়ে পাহাড় -পর্বতের সমাহার।  অসংখ্য ক্ষুদ্র গোত্র অসমান ভাবে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকায় আধুনিক সাম্রাজ্য বা জাতি-রাষ্ট্র এখানে গঠিত হতে পারেনি। পাকিস্তানের সাথে খাইবার গিৰিপথটি মধ্যে এশিয়ার সমস্ত বিজেতাদের  ভারত আগমনের একমাত্র পথ।  সিল্ক রোড - অতি প্রাচীন বাণিজ্য পথটি এ দেশটির উপর দিয়ে চলে গেছে।  তাই প্রাচীন সময় হতেই আফগানিস্তান পরিচিত  পৃথিবীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। 

আহমদ শাহ দুররানি (১৭২৩–-১৭৭৩), দুররানি সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমান আফগানিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা দোস্ত মোহাম্মদ খান (১৭৯৩-১৮৬৩): ১৮২৬ - ১৮৩৯ এবং ১৮৪৫-১৮৬৩ পর্যন্ত আফগানিস্তানের আমির ছিলেন। তিনি বারাকজাই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন, বারাকজাই রাজবংশের দুটি শাখা আফগানিস্তান ১৮২৬ থেকে ১৯৭৩ অবধি যখন রাজতন্ত্র শেষ হয় মোহাম্মদ জহির শাহের অধীনে। 

তালিবানি শাসন: ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত আগ্রাসনের বিপরীতে দীর্ঘ ১০ বৎসর গেরিলা যুদ্ধের পর ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত পরাজয়ে পর মুজাহিদীনরা ক্ষমতায় আসলেও নিজেদের অন্তঃ-কলহ মিটাতে ব্যর্থ হলে  ১৯৯২ সালে আফগানিস্তান একটি গৃহযুদ্ধে নেমে আসে । ইসলামী মৌলবাদী গোষ্ঠী তালেবান ১৯৯৬ সালে দেশের অধিকাংশ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে।  ২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান দখল যা প্রায় ২০ বৎসর কাল বজায় ছিল ২০২১ এর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত। 
২০২১ এর ১৫ ই অগাস্ট তালিবানি ২য়  শাসন এর শুরু। আফগানিস্তানে তালিবানি শাসনের দ্বিতীয় পর্যায়টি পূর্বের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রেখে কট্টর-পন্থীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি অন্তবর্তীকালীন পরিষদ ঘোষণা করেছে যার অধিকাংশ কট্টর-পন্থী তালিবানি'দ্বারা পরিচালিত। এর হেড অব স্টেট: মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ, প্রথম ডেপুটি: মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার, দ্বিতীয় ডেপুটি: মৌলভী হান্নাফি, ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী : মোল্লা ইয়াকুব ইত্যাদি।

তালিবানি শক্তি : ওয়েস্ট পয়েন্টে ইউএস কম্ব্যাটিং টেররিজম সেন্টারের মতে, অনুমান ৬০,০০০ যোদ্ধাদের মূল শক্তি । অন্যান্য মিলিশিয়া গ্রুপ এবং সমর্থকদের সংযোজনের সাথে, এই সংখ্যা ২,০০,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। পশতুভাষী প্রাক্তন ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা ডা.  মাইক মার্টিন, তালেবানকে  একক দল হিসেবে সংজ্ঞায়িত না করে বলেন "তালেবানরা স্বাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি ধারকদের একটি জোটের কাছাকাছি - এবং সম্ভবত সাময়িকভাবে - একে অপরের সাথে যুক্ত"।

অনন্য আফগান বৈশিষ্ট্য  :
১. আধুনিক কালে আফগানরা দিনটি মহা প্রতাপশালী শক্তির মোকাবেলা করেছে - ব্রিটিশ, রাশিয়ান (২ বার) আর আমেরিকান।  
২. ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ৩টি যুদ্ধ হয় - ১৯১৯ সালে আফগানরা তাতে চূড়ান্ত ভাবে নিজেদের স্বাধীনতার স্বীকৃতি পায়।  
৩. রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে আঠার ও উনিশ শতকে ১০০ বৎসর ব্যাপি গ্রেট গেম - শেষেও আফগানরা তাদের স্বাধীনতা বজায় রাখে।  দ্বিতীয় বার সোভিয়েত আগ্রাসন যা ১৯৭৯ শুরু হয় এবং ১৯৮৯ সালে শেষ সোভিয়েত সৈন্য আফগানিস্তান ত্যাগ করার মাধ্যমে শেষ হয়।  
৪. ২০০১ সালে একটি মার্কিন নেতৃত্বাধীন বহুজাতিক  বাহিনী আফগানিস্তান দখল শুরু করে যা ২০২১ এর ১৫ ই অগাস্ট অব্দি তালিবানি চূড়ান্ত বিজয় পর্যন্ত বজায় ছিল।  
৫. আফগান জনগণ আধুনিক কালের  জাতি রাষ্ট্রের  তিনটি মূল শাসন ব্যবস্থা প্রত্যক্ষ করেছে।  
ক. ১৯১৯ থেকে ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বাদশা আমানউল্লাহ খান আফগানিস্তান শাসন করেছেন। তৃতীয় ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধের পর আফগানিস্তান ব্রিটিশ প্রভাবমুক্ত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রয়োগে সক্ষম হয়। নি পাশ্চাত্য কায়দায় আফগানিস্তানকে আধুনিক করার প্রচেষ্টাকারী প্রথম আফগান শাসক। এই সময়কালকে আধুনিক সমাজ গঠনের প্রচেষ্টাকারী  প্রজাপালক রাজতন্ত্র বলা যায় । 
খ. ১৯৭৯ - ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত সোভিয়েত দখলদারিত্ব যুক্ত সমাজতন্ত্র বিনির্মাণ  প্রচেষ্টা।
গ. ২০০১ সাল হতে পরবর্তী ২০ বৎসর মার্কিন নেতৃত্বাধীন উদার পশ্চিমা গণতন্ত্র কায়েমের প্রচেষ্টা। 
ঘ. বর্তমান বিশ্বে বাকি থাকছে চীন।  পূর্বাপর ঘটনা হতে প্রতীয়মান হয়, তারা যদি আফগান গনগণকে কোনো নতুন কিছু দিয়ে জাতি -রাষ্ট্র ভিত্তিক শাসন-ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে যায়, পরিণতি একই হবে। যখনি কোনো একক শক্তি এদের পূর্ণ নিয়ান্ত্রনে নেয়ার চেষ্টা করেছে তখনি বিদ্রোহের সূচনা হয়েছে, যার সমাপ্তি হয়েছে আফগান গোত্রগুলোর স্বাধীনতা পুনঃ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। 
৬. এই তিনটি প্রক্রিয়া আফগানরা গ্রহণ করেনি।  আর যারাই তা করতে গিয়েছে, তারাই তাদের প্রচেষ্টা সহ  স্থায়ী বিদায় নিয়েছে। কেন এমনটা হল, তা একটি দীর্ঘ গবেষণার বিষয় হতে পারে।  তবে বহু গোত্র বিভাজিত পাহাড়ি এবং সমাজ ভিত্তিক আফগানরা কোনো সীমান ভিত্তিক একক ক্ষমতা কেন্দ্রিক জাতি-রাষ্ট্রে নিজেদের স্বাধীনতা বিলিয়ে দিবে না।  বরং আব্দুল্লাহ ওসালান যেমনটি ২০০১ সালে মার্কিন দখল-দারিত্বের শুরুতে এর পরিণতি ভবিষ্যৎবাণী করে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে গণ-সংঘতা (Democratic Confederalism) মডেল প্রস্তাব করেন।

আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া।
১. যুদ্ধ শেষ হয়নি।  - ব্যারি পাভেল সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের Scowcroft সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড সিকিউরিটির পরিচালক।
২. কঠিন প্রশ্নের সময়: মার্কিন নীতি ব্যর্থ হলো কেন? – ক্রিস্টোফার প্রেবল স্কাউক্রফট সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড সিকিউরিটির নিউ আমেরিকান এনগেজমেন্ট ইনিশিয়েটিভের সহ-পরিচালক।
৩.  একটি 'ভয়ঙ্কর' প্রত্যাহার: - মীর সাদাত Scowcroft সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড সিকিউরিটির একজন প্রবাসী সিনিয়র ফেলো এবং আফগানিস্তানের যুদ্ধের দুই কমান্ডিং জেনারেলের সাবেক কৌশলগত উপদেষ্টা যিনি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে আফগানদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করছেন।
৪. আবার সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়? - নিলোফার সখী আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া কেন্দ্রের একজন অনাবাসিক সিনিয়র ফেলো এবং ম্যাককম অ্যান্ড কোম্পানির নীতি ও কূটনীতির পরিচালক।
৫. আফগানিস্তান কি সত্যিই 'ভিন্ন' ছিল? - - মার্ক এন ক্যাটজ হলেন আটলান্টিক কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্য কর্মসূচির একজন অনাবাসিক সিনিয়র ফেলো এবং জর্জ মেসন ইউনিভার্সিটি স্কার স্কুল অব পলিসি অ্যান্ড গভর্নমেন্টের সরকার ও রাজনীতির অধ্যাপক।
৬. পাকিস্তানের প্রতি মার্কিন নীতির ব্যর্থতার প্রমাণ:  - অরুণ আইয়ার Scowcroft সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড সিকিউরিটির একজন অনাবাসিক সিনিয়র ফেলো যিনি ৯/১১ হামলার পর সামরিক ও সরকারে কাজ করেছেন।

বাংলাদেশে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া।
আফগানিস্তানে তালেবানদের পুনরুত্থান এবং বাংলাদেশে এর প্রভাব: বাংলাদেশীরা আফগানিস্তানে তালেবানদের পক্ষে  যুদ্ধ করেছে। বাংলাদেশে ফেরার পর তারা শুধু হরকাতুল জিহাদ বা হুজির মতো জঙ্গি সংগঠন তৈরি করেনি, তারা দেশের প্রগতিশীল রাজনীতিকেও ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে। তারা কৌশলগতভাবে তাদের রাজনৈতিক মিত্রদের বেছে নিয়ে তাদের সংগঠন প্রসারিত করেছে এবং তা করার জন্য তারা তালেবানদের কাছ থেকে অর্থ পেয়েছে। - ফজলে হোসেন বাদশা রাজশাহী -২ আসনের সংসদ সদস্য।
উদ্বেগ ভিত্তিহীন নয়: সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের গবেষক ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, প্রধান বাংলাদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন হুজিআইবি এবং জেএমবি সবই আফগান যুদ্ধের অভিজ্ঞদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।, “আমাদের এটাও মনে রাখা উচিত যে আফগানিস্তান থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরাও বাংলাদেশের মূলধারার রাজনীতিতে যোগ দিয়েছে। ২০০৬ সালে হাসিনার নেতৃত্বে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগ  খেলাফত মজলিশের (কেএম) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। কেএমের বেশ কয়েকজন নেতা ছিলেন আফগান প্রত্যাবর্তনকারী এবং তালেবানদের মতো কঠোর ইসলামী আইনের প্রবক্তা 

আমরা "আপহোল্ড ৯৯" কি ভাবি?
দেশের জনগণ:

১. বাংলাদেশ ৯০ ভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠীর - যারা সঠিকভাবে ধর্মকে না জেনে বিভিন্ন ওয়াজ-মাহফিল, জুমার খুৎবা এবং পারিবারিক পরিবেশে, মসজিদের ইমাম এবং স্থানীয় অল্প শিক্ষিত হুজুর এবং রাজনৈতিক বা স্বার্থবাদী কিন্তু জ্ঞানী বলে পরিচিতদের অপব্যাখ্যা  শুনে বা হালের ফেইসবুক হতে মনগড়া ব্যাখ্যা দেখে ধর্মকে আংশিক মান্য করলেও মনে মনে তার চিন্তাটি সঠিক ভাবতে অভ্যস্ত।  তাই উপরে উল্লেখিত প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিবর্গ তাদের অতি সহজে পরিচালিত করে থাকে। 
২. নিজ স্বার্থ বিষয়ে সবাই নিজ ধারণাকেই একমাত্র সঠিক বলে ধারণ করেন। অনেক ক্ষেত্রেই তা ভুল প্রমাণিত হলেও এই ধরণের বেশির ভাগ জনতা নিজেদের মধ্যে যে স্বার্থের জোট তৈরী করেন, তাই তাদের ভুল কাজে পরিচালিত করে।  এজন্য তাদের অতি সহজে ভিন্ন দিকে পরিচালনার কাজটি স্বাথান্নেষী মহলের জন্য সহজ হয়ে উঠে। 
৩.  সারা জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার হার অতি অল্প।  যারা শিক্ষিত তারা বেশির ভাগ অশিক্ষা আর কুশিক্ষায় আচ্ছন্ন।
৪. এই জনগোষ্ঠীর মূল ধারার নেতারা ক্ষমতাকেই একমাত্র মোক্ষ ভাবেন।  যে কোনো প্রকারে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য তারা নিজেদের বিকিয়ে দেন।  পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন তাদের মাথা-ব্যথা নয়।  
৫. ধর্মীয় রাজনীতি করা লোকজন অতীতমুখী।  তারা এমন একটি রাষ্ট্র কায়েম করতে ব্যগ্র - যার আধুনিক কালে কোনো মতেই টেকসই নয়।  তাই সময়ের ব্যবধানে তারা নিজ ব্যক্তি আর পরিবারের জন্য কাজ করে চলেছে।  যেকোনো অগ্রগণ্য ধর্মীয় ব্যক্তির জীবন ও সম্পদ অর্জন বিষয়ে অনুসন্ধান করলে এটি বোঝা যায়।
৬. জনস্বার্থ নিয়ে কাজ করা অংশটি বহিঃ-শক্তি ও রাষ্ট্র কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে চলার কারণে এখন ক্ষয়িষ্ণু হতে হতে নিঃশেষ প্রায়। জনগোষ্ঠীর সচেতন অংশ প্রবল হতাশায় নিমজ্জিত।
৭. শাসক গোষ্ঠী নিশ্চিন্তে জন-স্বার্থ বিরোধী অপ-শাসন চালিয়ে যাচ্ছে।  

দেশে তালিবানি জাগরণ কি আসন্ন?  
১. বৃহত্তর ধর্মীয় গোষ্ঠী আফগানিস্তানে তালিবানি বিজয় নিজেদের সাফল্য বলে মেনে করে।  তারা শীগ্র এদেশে তার প্রতিফলন দেখার চিন্তায় বিভোর। 
২. সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী মহা শঙ্কায় পড়েছেন। 
৩. বৃহত্তর জনগোষ্ঠী আফগানিস্তানে তালিবানি বিজয় নিজেদের গৌরব এবং ধর্মের অবিনশ্বরতা বলেই মনে করেন। তাদের সতর্ক দৃষ্টি তালিবানরা আফগানিস্তানকে কিভাবে পরিচালনা করে। 
৪. দেশের শাসক সরকার এর প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন।  আমাদের ধারণা, বর্তমান শাসকরা ধর্মকে যেভাবে সাফল্যের সাথে ব্যবহার করছেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে  তালিবানি শাসনের সাথে পরোক্ষ সহাবস্থান নিচ্ছে এবং ভারত তার বিনিয়োগ বাঁচানোর জন্য যেভাবে চেষ্টারত, তাতে এই শাসক গোষ্ঠী   তালিবানি শাসকদের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক করে খেলা দেখাবে। 
৫. কিছুটা অতীত পর্যালোচনা করলে মনে হয়, বর্তমান সরকার এই বিষয়ে অগ্রগণ্য বিবেচ্য হবে। ধর্মীয় দলগুলো শাসক গোষ্ঠীর আরো কাছ-কাছি চলে আসবে।  মূল ধারার বিরোধী দলগুলো এখানে বাড়তি সুবিধা নিতে পারবে না।  বাম  দলগুলো এই বার এই ইস্যুতে আরো জন সম্পৃক্তি হারাবে। 
৬. সার্বিক ভাবে আমাদের দেশটি আরো বেশি ধর্মীয় প্রবণতায় পতিত হতে যাচ্ছে।  এ থেকে সহসা উদ্ধার পাওয়া যাবে না।

উদ্ধারের পথ: 
 ১. বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর নিকট ধর্মের সঠিক ও জন স্বার্থ ব্যাখ্যা তুলে ধরা এখন প্রথম দায়িত্ব। 
২. মানুষকে সঠিক কর্মমুখী শিক্ষার দিকে নিয়ে যাওয়া দরকার - যা তাকে রুটি-রুজির পথ দেখাবে। 
৩. মানুষে সাংকৃতিক মান দীর্ঘ-মেয়াদে উন্নীত করতে হবে।
৪. এক্ষেত্রে চিন্তাশীল অংশকে একত্রিত করতে দীর্ঘ মেয়াদি আলোচনার আয়োজন করা যেতে পারে।
৫. আর এসব করার জন্য উদ্যোগী মানুষকে একত্রিত করে বৃহত্তর জন-গোষ্ঠীর কাছে ধারাবাহিক ভাবে যেতে হবে। 
৬. . সামর্থবান লোকজন মিলে প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা যেতে পারে।

আমাদের ভাবনা: 
১. টপ ডাউন (Top-Down) ব্যবস্থার বিপরীতে বটম আপ (Bottom-Up) ব্যবস্থায় মানুষকে নিয়ে কাজ করা। 
২. সঠিক কর্মমুখী শিক্ষার ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ নিয়ে রোড ম্যাপ তৈরী করা। 
৩. পরিবেশ ও জলবায়ু বিপর্যয় বিষয়ে সাধারণ মানুষকে উপযোগী করে গড়ার জন্য প্রচার চালানো।  এটি তার জীবন ঘনিষ্ঠ। এই বিষয়টি নিয়ে সহজে তাদের কাছে যাওয়া যায়।  
৪. কোনো পূর্ব নির্ধারিত মতবাদ চাপিয়ে না দেয়া ।  বরং সাধাবন মানুষকে সংযুক্ত করে পরিবর্তন এমনকি ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি নির্মাণ করা।

লেখকঃ সমন্বয়ক আপহোল্ড ৯৯ ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ
ksrm