লকডাউনে ঢাকায় বায়ুদূষণ কমেছে প্রায় ৩৯ শতাংশ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৩৫

কঠোর বিধিনিষেধের সময় ঢাকার বায়ুদূষণ কমেছে গড়ে প্রায় ৩৯ শতাংশ। গত ১৪ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিলের হিসাব এটি।

কোনো কোনো জায়গায় দিনের কোনো কোনো সময়, ৭০ শতাংশ পর্যন্ত দূষণ কমেছে। বেশিরভাগ পরিবহণ, খোঁড়াখুঁড়ি-সংস্কার-নির্মাণকাজ এবং বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ থাকায় বাতাসে দূষণ কমেছে। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র-ক্যাপস এর জরিপে এসব তথ্য উঠে আসে।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের আরও কঠিন আচরণ, মানুষকে আবারও বাধ্য করেছে ঘরবন্দি হতে। এই সুবর্ণ সুযোগে প্রকৃতিও সহাস্য প্রকাশে নিজেকে মেলে ধরল।

ঢাকার মতো শহরে যেখানে ধোঁয়া আর ধূলায় দৃষ্টি বেশি দূর যায়না, দেখতে গেলেও চোখ জ্বালাপোড়া করে, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, সেখানে এখন দৃষ্টির সীমা বহুদূর, ঘ্রাণও মিলছে আরামে। আগে যে আকাশ ছিল ঘোলাটে, সে আকাশ এখন স্বচ্ছ। নগরীর গাছ-গাছালি, পাখ-পাখালিও নির্ভার।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. আতিক রহমান বলেন, ‘ইটভাটাগুলো থেকে প্রায় ৫৬ ভাগ দূষণ বেশি হতো তা এখন অনেকটাই কমে গেছে। সেইসাথে গাড়ি চলাচল না থাকায় রাস্তার দুই পাশের বর্জ্য বা ধূলা অতটা নড়ছে না। গাড়ি পেছন থেকে যে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া বের হয় সেটা একান্তই কমে গেছে।’

ঢাকার বাতাস এখন তুলনামূলক ভালো। বেসরকারি অধ্যয়ন কেন্দ্র-ক্যাপস এর জরিপ অনুযায়ী, ১৪ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকার বায়ুমান ছিল ১৩১ দশমিক ৩। আংশিক নিষেধাজ্ঞার সময় ৫ এপ্রিল থেকে ৮ এপ্রিল পর্যন্ত, বায়ুমান ছিল ২১৪ দশমিক ৫।

পহেলা এপ্রিল থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত, বায়ুমান ছিল ১৬৮ দশমিক ৩। গত বছর করোনা ভাইরাসের প্রথম ঢেউ চলাকালে সাধারণ ছুটিতেও ঢাকার বায়ুমান সন্তোষজনক ছিল। সে বছর ১৪ থেকে ১৬ এপ্রিল বায়ুমান ছিল ১৩৩ দশমিক ৭।

বায়ুমান অনুযায়ী, ১শ থেকে ১৫০ পর্যন্ত সুস্থ মানুষের জন্য সহনীয় তবে অসুস্থদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ১৫০ থেকে ২শ পর্যন্ত সবার জন্যই অস্বাস্থ্যকর। ২শ থেকে ২৫০ পর্যন্ত অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর।

স্বভাবতই মানুষ দূষণপ্রবণ বলে প্রকৃতির জন্য তা রীতিমতো অত্যাচার। সেক্ষেত্রে মানুষ ঘরের বাইরে থাকলে সে অত্যাচার হয়ে ওঠে মাত্রাতিরিক্ত। কাজেই মানুষের সাময়িক ঘরে থাকা মানে প্রকৃতির সাময়িক বিশ্রাম, সাময়িক মুক্তি।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ