কোটচাঁদপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১৪:০০

নিখোঁজের ১১ ঘণ্টা পর গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ মিলল কোটচাঁদপুর রেলস্টেশনের বাউন্ডারি রেলিংয়ে। সে পৌরসভাধীন রুদ্রপুর গ্রামের বিশারত আলীর স্ত্রী। খবর পেয়ে যশোর জিআরপি পুলিশ আজ শনিবার সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছেন। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৯টার পর থেকে গৃহবধূ রেহেনা খাতুন বাড়ি থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এরপর থেকে তাঁর স্বামী বিশারত আলী শ্বশুর বাড়িসহ সব জায়গায় খোজ করেন। তবে রাতে তাঁর কোন সন্ধান করতে পারেননি। শনিবার সকাল ৭ সময় জানতে পারেন মৃত্যুর ঘটনা। পরে রেলস্টেশনে  এসে লাশটি শনাক্ত করেন তিনি।

রেহেনা খাতুন কোটচাঁদপুর পৌরসভাধীন রুদ্রপুর গ্রামের বিশারত আলী স্ত্রী। তবে আত্মহত্যার প্রকৃত কারন এখনও জানা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন,পারিবারিক কলহ থেকে এ  আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে। 

মৃতের মা রেবেকা খাতুন বলেন, শুক্রবার রাতে জামাই ফোন করে জিজ্ঞাসা করছিল, রেহেনা আমাদের বাড়িতে এসেছে কিনা। রাত থেকে তাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর থেকে আমাদের প্রতিটি আত্মীয়স্বজনদের বাসায় খোঁজ করি। শনিবার সকালে জামাই আবারও ফোন করেন। বলেন রেহেনাকে পাওয়া গেছে। ভাল আছে তাড়াতাড়ি চলে আসেন। এরপর এসে দেখতে পায় আমার মেয়ের লাশ রেলের রেলিং ঝুলছে।

তিনি বলেন, গেল ২০ বছর আগে রেহেনাকে কোটচাঁদপুরের রুদ্রপুর গ্রামের বিশারত আলীর সঙ্গে বিয়ে দিই। সংসারে তাদের ২ টি ছেলে মেয়েও আছে।

ছেলে পলাশ বিশ্বাস বলেন, আমি নানি বাড়ি কাগমারি গ্রামে থাকি। রাতে জানতে পারলাম মাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর আমি ঘুমিয়ে পড়ি।

শনিবার সকাল ৭টার দিকে জানতে পারি, কোটচাঁপুর রেলস্টেশনে একটা লাশ বাউন্ডারি রেলিং ঝুলছে। পরে ঘটনাস্থলে এসে দেখি আমার মায়ের ঝুলন্ত লাশ। 

তিনি বলেন, আমি নানি বাড়িতেই থাকি। আব্বা আম্মুর সাথে কি ঘটেছিল আমি জানিনা।

এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর থানার ডিউটিরত উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ মোঃ আজিজ বলেন, শনিবার ভোর ৬ টা বাজে। এ সময় কল আসে ৯৯৯ থেকে। জানতে পারি মৃত্যুর ঘটনাটি। এরপর ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। গিয়ে দেখতে পায়, রেলস্টেশনের বাউন্ডারি রেলিংয়ের সঙ্গে গলায়  রশি ঝুলছে লাশটি। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রেলের কর্মকর্তাদের জানিয়ে চলে আসি।

কারন ওটা জিআরপি পুলিশের দায়িত্ব। ওই লাশ আমরা উদ্ধার করতে পারি না। তবে পরে জানতে পারলাম জিআরপি পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে গেছেন।

যশোর জিআরপি পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক( এসআই) অসিম কুমার দাস বলেন, লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়না তদন্তের জন্য যশোর নেয়া হবে। এরপর ময়না তদন্ত শেষে লাশটি,তাঁর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রাথমিক তদন্তে কি পেলেন, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে, সে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বল সম্ভব হবে, প্রকৃত ঘটনা কি। 

এবিএন/সুব্রত কুমার/জসিম/গালিব

এই বিভাগের আরো সংবাদ