ময়মনসিংহের বারি তিল চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২২, ২০:১৩

কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি তিল আবাদ করে ময়মনসিংহের কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়েছেন। ফলে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত এ তিল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
 
কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহে জেলায় তিলের আবাদ প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে গিয়েছিলো। কিন্তু বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) উদ্যোগ নিয়ে আবার কৃষকদের দিয়ে তিল চাষ শুরু করানো হয়। উদ্ভাবিত এ তিল চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। এ বছর ত্রিশালের বালিপাড়ায় ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলের ১০০ বিঘা জমিতে বারি তিল ৩ ও ৪ জাতের আবাদ করা হয়। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় জমিতে তিলের বাম্পার ফলন হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়ায় বারি  উদ্ভাবিত উন্নত জাতের তিল ফসলের উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন প্রযুক্তি শীর্ষক মাঠ দিবসে কৃষি বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সরেজমিন বিভাগ ময়মনসিংহের আয়োজনে ও তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের অর্থায়নে এই মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইন্সিটিউট মহা পরিচালক ড. দেবাশীষ সরকার।

এসময় সরেজমিন বিভাগ ময়মনসিংহের প্রধান বৈজ্ঞানিক  কর্মকর্তা ড. মো: মনিরুজ্জামান এর সভাপতিত্বে ও উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো: এমরাউল ইসলামের সঞ্চালনায় এসময় অরো উপস্থিত ছিলেন, আঞ্চলিক কৃষি গবেষনা কেন্দ্র জামালপুরের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মঞ্জুরুল কাদির, তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়ক ড. ফেরদৌসী বেগম, বীজ প্রযুক্তি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আবু হেনা ছরোয়ার জাহান, ত্রিশাল উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ তানিয়া রহমান, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ বাদল প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. দেবাশীষ সরকার বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন কোন জায়গা খালি রাখা যাবে না। সেই নিদের্শনাকে বাস্তবায়নের লক্ষে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কাজ করে যাচ্ছে।
সেই সাথে এই তিল চাষের তেমন কোন খরচ নেই পানির  প্রয়োজন হয়না। পাশাপাশি তিলের তেল ত্বক আর স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। পতিত জমিতে তিল চাষ দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে পারলে ভোজ্যতেল আমদানি খরচ থেকে মুক্তি পাবে সরকার।

তিনি আরো বলেন, ‘বারি তিল-৪ জাতের তেলজাতীয় এ ফসল একটি জাতের ফসল। এ জাতের তিল মাত্র ৯০ থেকে ৯৫ দিনের মধ্যে কর্তন করা যায় এবং উৎপাদনের হার বিঘা প্রতি ৫ মণ। তাছাড়া এ তিলে মোট আটটি প্রকৌষ্ঠ রয়েছে, যা সাধারন তিলে মাত্র চারটি প্রকৌষ্ঠ বিদ্যমান। এর ফলে সাধারন জাতের তিলে যেখানে প্রতি কেজিতে ২৫০ গ্রাম তেল পাওয়া যায় সেখানে নতুন বারি তিল-৪ জাতের তিলে প্রতি কেজিতে ৪৫০ গ্রাম তেল পাওয়া যায়। এটি তেল স্বাস্থ্য সম্মত হওয়ায় এ জাতের তিল ফসল একটি সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে দেখা দিয়েছে’।

স্থানীয় কৃষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, নদীর পাড়ের জায়গা আগে পতিত পড়ে থাকতো, কোন ফসর চাষ হতো না। বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনস্টিটিউটের সরেজমিন গবেষণা বিভাগের ময়মনসিংহ আমাদের পাশে থেকে তিলের উন্নত চাষাবাদের কলা কৌশল শিখাচ্ছে। এখন আমরা বিগত দুই বছর যাবত তিল চাষ করছি। ক্ষেতে প্রচুর পরিমাণে তিল ধরেছে। আমরা এতে লাভবান হবো বলে আশা করছি।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা জানান, তিলে কোনো কোলস্ট্রোরেল নেই। তিল তেল নিরাপদ ভোজ্য তেল। স্থানীয় জাতের তিল হেক্টরে ৫শ থেকে ৬শ কেজি ফলে। কিন্তু বারি তিল হেক্টরে ফলে প্রায় ১৫শ কেজি। ১ কেজি বারি তিল থেকে সাড়ে ৪শ গ্রাম তেল পাওয়া যায়। কিন্তু স্থানীয় জাতের ১ কেজি তিলে মাত্র ২শ ৫০ গ্রাম তেল উৎপাদিত হয়। তিল আবাদ এখানে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আমারা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে আবার তিল চাষ শুরু করেছি। তিল চাষে কৃষক লাভবান হবেন। আগামীতে তিলের আবাদ বৃদ্ধি পাবে।


এবিএন/মো: মঈন উদ্দিন রায়হান/জসিম/তানভীর হাসান

এই বিভাগের আরো সংবাদ