আজকের শিরোনাম :

সুনামগঞ্জে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২১, ১৯:৫০

নামগঞ্জের জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের মঙ্গলকাটা গ্রামে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় ও ৮টি বসতঘর ভাঙ্গচুর লুটপাটের ঘটনা ঘেেটছে। রবিবার রাতে সদর উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের বিজয়ী  ইউপি সদস্যের সমর্থকরা পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী জানায় জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের টিউবওয়েল মার্কা নিয়ে  বিজয়ী হন আব্দুল মোতালিব। কেন্দ্র থেকে ফলাফল ঘোষণা পর উত্তেজিত সমর্থকরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পরাজিত প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান  শাহাজ উদ্দিন ও সমর্থক আদম আলীর বাড়ি ঘরে হামলা অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাঙ্গচুর করে। ঘরে থাকা আসবাবপত্র থালাবাসন ভেঙ্গে গুড়িয়ে ফেলে।  হামলার সময় ৮ টি পরিবারের ৪০ জন সদস্য প্রাণ রক্ষার জন্য ঘর থেকে পালিয়ে বাড়ির পাশে আমন ক্ষেতে গিয়ে আশ্রয় নেন।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের গৃহবধু সাহেলা আক্তার বলেন, বিজয় মিছিল নিয়ে অর্ধশতাধিক লোকজন তাদের বাড়ি ঘরে হামলা করে গুড়িয়ে দিয়েছে। ভাত খাবার প্লেট পানি খাওয়ার গ্লাস সহ ঘরের সব কিছু ভেঙ্গে ফেলেছে। আদম আলীর পুত্রবধু তহুরা খাতুন বলেন হামলার সময় তারা পরিবারের শিশুদের নিয়ে বাড়ির পাশে ধান ক্ষেতে লুকিয়ে ছিলেন। তা না হলে হতাহতের ঘটনা ঘটতো। বীরমুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী ও পরাজিত মেম্বার প্রার্থী শাহাজ উদ্দিনের মা ফুল বানু (৯০) বলেন, তাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ৪ টি বসতঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। এছাড়া আদম আলীর চারটি বসত ঘর ও আসবাবপত্র সব কিছু ভেঙ্গে দিয়েছে।

রানু বেগম বলেন, রাম দা, কিরিচ, রড সহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়ি ঘরে হামলা হয়। এখন পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছু নেই। রান্না করার হাড়িপাতিল পর্যন্ত নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।  তারা মোহাম্মদ আলী, আদম আলী, লোকমান আলী, তহুরা খাতুন, শাহাজ উদ্দিন, জমির আলী, সফর আলীসহ ৮ জনের বসতঘরে ব্যাপক ভাঙ্গচুর করে। আদম আলী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি শাহাজ উদ্দিনের সমর্থনে কাজ ভোট প্রার্থনা করেছিলেন। তাই প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বসতঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, হামলাকারীরা নগদ ৮ লাখ টাকা ও কয়েক ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে।

জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান রসিদ আহম্মদ বলেন, নির্বাচনী বিরোধকে কেন্দ্র করে বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি সোমবার সকালে ক্ষতিগ্রস্তদের বসতঘর দেখে এসেছেন এবং পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন। দুই পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়ের প্রস্ততি চলছে। সদর থানার ওসি মুহাম্মদ সহিদুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে।

 

এবিএন/অরুন চক্রবর্তী/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ
ksrm