আজকের শিরোনাম :

সৈয়দপুরে এক নবজাতককে বিক্রির অভিযোগ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯:২৭

নীলফামারী সৈয়দপুরে এক নবজাতককে বিক্রি করেছেন বাবা-মা। আজ (৩ আগস্ট) মঙ্গলবার সকালে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। নবজাতকের বাবা-মা ২০ হাজার টাকায় নবজাতক পুত্র সন্তানকে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিশ দুই ঘণ্টার মধ্যে নবজাতককে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরে দিয়েছে। ঘটনাটি ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আজ সকাল সোয়া ৭টার দিকে শহরের নিচু কলোনি এলাকার নাদিমের স্ত্রী জোসনা বেগম (৩২) প্রসব বেদনা নিয়ে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে সকাল প্রায় ৯টার দিকে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন তিনি। এরপর একই এলাকার জনৈক জামিলা খাতুনের কাছে ওই নবজাতককে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন ।

সৈয়দপুর শহরের কুন্দল এলাকার রফিক মিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তিনি জানান, হাসপাতালের মূল গেটে  নবজাতকের বাবার সঙ্গে এক মহিলা ক্রেতার চুক্তিপত্র সম্পাদন হতে দেখি। চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর শেষে মহিলাটি নবজাতকের বাবার হাতে এক বান্ডিল টাকা তুলে দেন। নবজাতক ক্রেতা শহরের একই এলাকার খায়রুল ইসলামের স্ত্রী জামিলা খাতুন। পরে ঘটনাটি চাউর হয়ে গেলে সৈয়দপুর সদর পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তা আব্দুর রহিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নবজাতক ক্রেতা জামিলা খাতুনের কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন।

নবজাতকের মা জোসনা বেগম জানান, জামিলা খাতুন আমার দূর সম্পর্কীয় ফুপাতো বোন। তাঁর কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় তাকে আমরা স্বেচ্ছায় বাচ্চাটিকে লালন পালন করতে দিয়েছি। তবে আমার চিকিৎসার খরচ বাবদ তিনি আমাদের ২০ হাজার টাকাও দিয়েছেন।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নবিউর রহমান জানান, সকাল ১০টার দিকে ঘটনাটি জানতে পেরে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ওমেদুল হাসান সম্রাট ও গাইনি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাসুদা আফরোজসহ ওই ওয়ার্ডে পরিদর্শনে যাই। সেখানে নবজাতকের মা জোসনা বেগমকে দেখতে পাই, কিন্তু ওই সময় নবজাতককে বেডে পাওয়া যায়নি।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান জানান, খবর পেয়ে আমাদের পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল উপস্থিত হয়ে নিখোঁজ নবজাতককে উদ্ধার করে। নবজাতক বিক্রির বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।


এবিএন/এম. ওমর ফারুক/জসিম/তোহা

এই বিভাগের আরো সংবাদ