রামগড়ে ২স্ত্রী নিয়ে অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে স্বামীর নিজে আত্মহত্যা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২১, ২০:৩০

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা রামগড় উপজেলাতে দুই স্ত্রী নিয়ে পারিবারিক অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে ঈদের দিন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে সিরাজুল ইসলাম(৩৫) নামে এক ব্যক্তি। শুক্রবার(১৪ই মে) রামগড় পৌরসভার ফেনীরকুল এলাকায় প্রথম স্ত্রী নার্গিস সুলতানার বাপের বাড়িতে তিনি আত্মহত্যা করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পৌর ৮নং ওর্য়াডের ফেনীরকুল এলাকায় ঘরের সিলিংয়ের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। নিহত যুবকের নাম মো: সিরাজুল ইসলাম(৩৫)। তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার বাগানবাজার গার্ডের দোকান এলাকার বাসিন্দা মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মাটিরাঙ্গার বাসিন্দা মৃত: মো: আশরাফ আলীর পুত্র সিরাজুল ইসলাম রামগড় পৌরসভার ফেনীরকুলের বাসিন্দা শেখ আহম্মেদের কন্যা নার্গিস সুলতানাকে বিয়ে করে ঘরজামাই হয়ে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। তার দুই টি সন্তানও রয়েছে। এরমধ্যে প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে সে গোপনে চট্টগ্রামে আরেকটি বিয়ে করেন।

দ্বিতীয় বিয়ের কথা ফাঁস হওয়ার পর প্রথম স্ত্রী তাকে দ্বিতীয় স্ত্রীর কাছে যেতে দিতো না। এ অবস্থায় খোরপোষ না দেয়া এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করায় দ্বিতীয় স্ত্রী স্বামী সিরাজুলের নামে আদালতে মামলা দেন। এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে কিছুদিন আগে সে জামিনে ছাড়া পেয়ে আসে। এনিয়ে পারিবারিক কলহ ও অশান্তি সব সময় লেগে থাকে। দুই স্ত্রীকে নিয়ে সিরাজুল মারাত্মকভাবে মানসিক দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় শুক্রবার ঈদের দিন দুপুরে ফেনীরকুল এলাকায় প্রথম স্ত্রীর বাপের বাড়িতে তিনি আত্মহত্যা করেন।

পুলিশ আরো জানায়, ঘরের সিলিংয়ের সাথে স্ত্রীর ওড়না বেঁধে গলায় ফাঁস দিয়ে সে আত্মহত্যা করে। এসময় ঘরে স্ত্রী বা সন্তান কেউ ছিল না। ১০বছর বয়সী বড় ছেলে বাজার থেকে এসে ঘরের সিলিংয়ের সাথে বাবাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার দিলে প্রতিবেশিরা এসে ওড়না কেটে তার মরদেহ নামায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

রামগড় থানার এসআই অজয় চক্রবর্তি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই স্ত্রী নিয়ে পারিবারিক অশান্তির কারণেই সিরাজুল গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান জানান,‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের কারণেই আত্মহত্যা করে থাকতে পারে ওই ব্যক্তি। তবে এটি আত্মহত্যা কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে ময়নাদতন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর।’ তিনি আরও জানান, ফেনীরকুল এলাকায় শ্বশুর বাড়ির পাশেই নিজে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি ঘর করে স্ত্রী সন্তান নিয়ে থাকতেন সিরাজুল ইসলাম।

রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুজ্জামান আরো বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের করা হয়েছে। মামলার প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য রামগড় উপজেলার ফেনীরকুল এলাকায় দীর্ঘ বছর ধরে স্ত্রী ও দুই ছেলে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন সিরাজুল ইসলাম। পেশায় ছিলেন একজন টমটম চালক। প্রথম স্ত্রীর কাছে গোপন রেখে চট্টগ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিলো সিরাজুল। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন যাবৎ প্রথম স্ত্রীর সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিলো বলে পারিবারিক সূত্রে জানা যায়। ঘটনার সময় স্ত্রী ঘরের বাইরে রান্না ঘরে কাজ করছিলেন। রান্নার কাজ শেষে ঘরে গিয়ে সিলিংয়ের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের খবর দেয় স্ত্রী। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে পুলিশ তার ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

এবিএন/চাইথোয়াই মারমা/জসিম/জুয়েল

এই বিভাগের আরো সংবাদ