শ্রীমঙ্গলে ইউএনও'র ডাকে স্বেচ্ছাশ্রমে হাওরে ধান কাটা উৎসব

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২১, ১৮:২০

শ্রীমঙ্গলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ডাকে সাড়া দিয়ে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মিলে হাইল হাওরে কৃষকের বোরো ধান কেটে দিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার হাইল হাওরের বরুনা গ্রামে এই ধান কাটা উৎসব অনু্ষ্ঠিত হয়। আজ সকালে ধান কাটা উৎসবে যোগ দেন উপজেলা অফিসার্স ক্লাবের কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ,  ছাত্রলীগ নেতা-কর্মী, সবুজবাগ ম্যারাথন গ্রুপ, বিশ্ববিদ্যালয় চা সংসদ কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।   

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বার্হী অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা আবহাওয়া অফিস থেকে তথ্য পেলাম সিলেট অঞ্চলে ২১ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাতের ফলে হাওর অঞ্চলে বন্যার আশংকা রয়েছে। ইতিমধ্যে হাওর অঞ্চলে ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে। যদি বন্যা হয় তাহলে সব ধান পানিতে তলিয়ে যাবে। এতে কৃষকদের বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে। এজন্যই আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে কৃষকের ধান কেটে দেয়ার উদ্দ্যোগ নেই।

এদিকে গতকাল বুধবার শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব নজরুল ইসলাম 'উপজেলা প্রশাসন শ্রীমঙ্গল'-ফেসবুক পেজে 'ভলান্টিয়ার প্রয়োজন' শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস দেন। স্ট্যাটাসটি হুবহু নীম্নে তুলে ধরা হলো ভলান্টিয়ার প্রয়োজন

চলতি সপ্তাহে সিলেট অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার সম্ভাবনা থাকায় পেকে যাওয়া বোরো ধান দ্রুত ঘরে তোলা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে আগামীকাল ২২ এপ্রিল আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে ধান কেটে দিতে হাইল- হাওর যাচ্ছি।

ছবি তুলতে নয়; প্রকৃত অর্থে যারা ধান কাটতে পারেন তারা চলে আসুন আগামীকাল সকাল ৯টায় বাইক্কাবিলে। যাদের কাঁচি আছে তারা নিয়ে আসতে পারেন; যাদের নেই তাদের কাঁচি সরবরাহ করা হবে। সকলের ১ বা ২ ঘন্টার স্বেচ্ছাশ্রম আমাদের জীবিকাকে দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

আগামীকাল সকাল ৯ টায় বাইক্কাবিল/ হাইল-হাওর। মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার নজরুল ইসলামের আহবানে সাড়া দিয়ে আজ সকালে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, ছাত্র-শিক্ষক, রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রণি-পেশার মানুষ ধান কাটায় অংশ নেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্হিত ছিলেন শ্রীমঙ্গলের এসি ল্যাণ্ড মো. নেছার উদ্দিন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি, শিক্ষক নেতা জহর তরপদরসহ কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজন।

এবিএন/আতাউর রহমান কাজল/জসিম/জুয়েল

এই বিভাগের আরো সংবাদ