ঢাবিতে পড়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল পঞ্চাশোর্ধ বেলায়েতের

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২২, ১৭:৫০

আর্থিক দুরবস্থায় উচ্চশিক্ষায় যতি পড়ার পর বয়স পেরিয়েছে পঞ্চাশ। জীবনের নানা হড়াই উৎরাই পেরিয়ে পঞ্চান্ন বছর বয়সে পরীক্ষায় বসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন নিয়ে। তবে তার সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি বেলায়েত শেখ।

এর আগে ঢাবির ভর্তির পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেন গাজীপুরের বেলায়েত শেখ। ঢাবির বাণিজ্য বিভাগ থেকে ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত ভবন কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

মঙ্গলবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি বেলায়েত শেখ। দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনস্থ অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, এবারের ’ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় সর্বোমোট ৭১২৬২ জন অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগ থেকে সমন্বিতভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬১১১ জন। এরমধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ হতে পাশ করেছেন ৪৮১১ জন, মানবিক বিভাগ থেকে পাশ করেছেন ২৯৫ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা থেকে পাশ করেছেন ১০০৫ জন। শতকরা হিসেবে সমন্বিতভাবে ৮.৫৮ শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে দেখা যায়, বেলায়েত শেখ ১২০ নম্বরের মধ্যে ২৬ দশমিক ০২ নম্বর পেয়েছেন। এমসিকিউ অংশে উত্তীর্ণ না হওয়ায় তার লিখিত অংশের উত্তরপত্র মূল্যায়ন হয়নি।তিনি এমসিকিউ অংশের বাংলায় ১৫ নম্বরের মধ্যে দুই, ইংরেজিতে ১৫ নম্বরের  মধ্যে ২ দশমিক ৭৫, সাধারণ জ্ঞানে ৩০ নম্বরের  মধ্যে ৩ দশমিক ২৫ পেয়েছেন। এ ছাড়া এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে ২০ নম্বরের মধ্যে ১৮ দশমিক ০২ পেয়েছেন।

৫৫ বছর বয়সে ‘ভর্তিযুদ্ধে’ নেমে টিকতে না পারায় আক্ষেপ নেই বেলায়েতের। তিনি বলেন, ‘ঢাবিতে হয় নাই, এতে আমার কোনো আফসোস নাই, ভাগ্যের ওপর কিছু নাই। এই বয়সে ইয়াংদের সঙ্গে চেষ্টা করেছি, এটাই বড় অর্জন। তবে তিনি জানান, আরও তিনটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেবেন তিনি। সেখানে না হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বেন।

বেলায়েত শেখ গত ১৯ মে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র প্রকাশ করেন। এরপরই গণমাধ্যমসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে নিয়ে শোরগোল পড়ে যায়।সবাই তাকে শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানান।

সংসারের অস্বচ্ছলতা, দরিদ্রতা আর বাবার অসুস্থতার কারণে ১৯৮৩ সালে লেখাপড়া থেকে ছিটকে গিয়ে সংসারের হাল ধরেছিলেন তিনি। কিন্তু কোনো বাধাই যেন দাবিয়ে রাখতে পারেনি তাকে। সন্তানদের সঙ্গেই শুরু করেন লেখাপড়া। 

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার  কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামের মৃত হাসেন আলী শেখ ও জয়গন বিবির ছেলে বেলায়েত শেখ। চলতি বছর তিনি এইচএসসি (ভোকেশনাল) পাশ করেন ঢাকা মহানগর কারিগরি কলেজ থেকে। এর আগে ২০১৯ সালে বাসাবোর দারুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসা থেকে দাখিল (ভোকেশনাল) পাশ করেন। 

তার স্বপ্ন ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে পড়াশোনার। সেই লক্ষ্যে সাইফুরস ভার্সিটি কোচিংয়ের মাওনা শাখায় ক্লাস করেন তিনি। পেশায় তিনি একজন সাংবাদিক। জাতীয় দৈনিক করতোয়ার শ্রীপুর প্রতিনিধি তিনি। এ ছাড়া জেটিভি অনলাইনের প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করছেন।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ