শিক্ষক হেনস্তা ও বিচারের দাবিতে চবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২২, ১৬:৫১

সাভারের আশুলিয়ার হাজী ইউনুস আলী স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক উৎপল কুমার সরকারকে হত্যা এবং অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের মানহানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি।

বৃহস্প্রতিবার (৩০ জুন) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্ত্বরে এই মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. সেলিনা আখতার ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সজীব কুমার ঘোষ।

এছাড়া এতে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. বেনু কুমার দে, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সিরাজুদ্দৌলা চৌধুরী, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. তাপসী ঘোষ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রাহমান নাসির, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর এস এম মনিরুল ইসলাম।

মানববন্ধনে বক্তারা শিক্ষক হেনস্তার সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেন। দেশে যাতে আর কোনো শিক্ষকের সাথে এরকম ন্যাক্কারজনক ঘটনা না ঘটে তার জন্য সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেন।

এ সময় সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সিরাজুদ্দৌলা চৌধুরী বলেন,পৃথিবীতে একটি দেশ আছে দেশটির নাম বাংলাদেশ, যে দেশটির সৃষ্টির পেছনে ছাত্রদের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। সেই ছাত্ররা এখন শিক্ষকদের সাথে রূঢ় আচরণ করবে সেটা প্রত্যাশিত নয়। দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যাল পর্যন্ত সবার বেতন ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দেশ ও জাতির ভাগ্য উন্নয়নে এবং ছয় দফার আন্দোলনে শিক্ষকদের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। আজ কেন, কোন কারণে এসব ছাত্র বেয়াড়া হয়ে যাচ্ছে এগুলোও বিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে। যেসব ছাত্ররা এসব ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তারা একজনের জীবন নিয়েছে, আরেকজনকে জীবন্ত মৃত করে ফেলেছে। যাদের সামনে এসব ঘটনা ঘটেছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। আইন সব দেশেই আছে। আইন বাস্তবায়ন না হলে সে দেশে নৈরাজ্যের সৃষ্টি হয়। তদন্ত করতে হবে এসব ঘটনার পেছনে কেউ জড়িত আছে কিনা। এছাড়া কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ জড়িত আছে কিনা। এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি আমরা এই মানববন্ধনের মাধ্যমে।

চবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. সেলিনা আখতার বলেন, একজন ১৯ বছর বয়সী ছাত্র কোথা থেকে এত সাহস পায় একজন শিক্ষককে হেনস্তা করার। কিভাবে প্রকাশ্যে দিবালোকে একজন শিক্ষককে হত্যা করা হল তার সুষ্ঠু বিচার করতে হবে। কোথায় দাঁড়িয়ে আছে আমাদের এই সমাজ। কি শিখবে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম। কিভাবে একজন শিক্ষকের গলায় জুতার মালা দেয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে এসব ঘটনা ঘটে। কি হলো আমাদের সমাজের। শিক্ষকদের নিরাপত্তা আজ কোথায় গেল। আমি ধিক্কার জানাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে, আমি ধিক্কার জানাই এই সমাজকে। আমি একজন শিক্ষক হিসেবে এসব মেনে নিতে পারি না। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অনুরোধ করব এই ঘটনার বিচার করতে। তিনি মানবতার মা। তিনি নিশ্চয়ই ন্যায়বিচার করবেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুন ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে নড়াইলের কলেজশিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসের গলায় জুতার মালা পরানো হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে। অন্যদিকে গত ২৭ জুন সাভারের আশুলিয়ায় ছাত্রের স্ট্যাম্পের আঘাতে নিহত হন প্রভাষক উৎপল কুমার সরকার।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ