নর্থ সাউথের পাঁচ ট্রাস্টির বিদেশ যাওয়া বন্ধ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২২, ২১:৪৮

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ ট্রাস্টির বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুদক উপ-পরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ নিষেধাজ্ঞার ওই আদেশ দেন।
 
এর আগে নতুন ক্যাম্পাস স্থাপনের জন্য জমি কেনার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ওই ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় গত ৫ মে।

মামলার বাদী ছিলেন দুদক উপপরিচালক ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারি। তিনিই মামলাটি তদন্ত করছেন। তদন্ত পর্যায়ে ওই পাঁচ জনের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো।

নিষেধাজ্ঞা দেওয়া পাঁচ ট্রাস্টি হলেন, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম.এ. কাশেম, বেনজীর আহমেদ, রেহানা রহমান, মোহাম্মদ শাহজাহান। 

এছাড়া জালিয়াতি, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত আশালয় হাউজিং অ্যান্ড ডেভেলপার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিন মো. হিলালীর নামও রয়েছে নিষেধাজ্ঞার আওতায়।

সূত্র জানায়, গত রোববার হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের আদালতে ট্রাস্টি এম এ কাশেম, বেনজীর আহমেদ, রেহানা রহমান ও মোহাম্মদ শাহজাহান আগাম জামিন আবেদন করেন। জামিন আবেদন খারিজ করে আদালত তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

আদালতের আদেশে ঢাকার শাহবাগ থানা পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদেরকে নিম্ন আদালতে হাজির করতে বলা হয়। 

ওই আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার তাদেরকে ঢাকা মহানগর আদালতে হাজির করা হয়। ওই সময় আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে তারা কারাগারে আছেন।

দুদক সূত্র জানায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ অনুযায়ী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হলো প্রতিষ্ঠানের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ। 

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড আর্টিকেলস (রুলস অ্যান্ড রেগুলেশনস) অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় একটি দাতব্য, কল্যাণমুখী, অবাণিজ্যিক ও অলাভজনক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা সরকারের সুপারিশ-অনুমোদনকে পাশ কাটিয়ে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের কতিপয় সদস্যের অনুমোদন-সম্মতির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থাপনের নামে ৯০৯৬ দশমিক ৮৮ ডেসিমেল জমির ক্রয় মূল্য বাবদ অতিরিক্ত ৩০৩ কোটি ৮২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৭ টাকা অপরাধজনকভাবে গ্রহণ করে আত্মসাত করেছেন। 

পাঁচ ট্রাস্টিসহ ছয় জন অপরাধলব্ধ ওই অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তরের মাধ্যমে হস্তান্তর করে ও অবস্থান গোপন করে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

এবিএন/আব্দুর রাজ্জাক/জসিম/এআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ