স্কটিশ চার্চ কলেজের ইতিহাস

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২১, ১৭:২৭

উনিশ শতকে বাংলায় আধুনিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন রাজা রামমোহন রায়। ১৮১৫ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় নিজের খরচে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি’ নামে একটি ইংরেজি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।  কিন্তু তাতেও বাংলায় ইংরেজি শিক্ষার প্রসার ঘটেনি। সেটা ঘটালেন একজন স্কটিশ পাদ্রি। তিনি আলেকজান্ডার ডাফ। 

স্নাতকস্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই ১৮৩০ সালের ২৭ মে তিনি ভারতে পা রাখেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল এখানকার মানুষদের ইউরোপীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা। সেই উদ্দেশ্যেই বাংলায় আসেন ডাফ। পাশে পেয়েছিলেন রাজা রামমোহন রায়কে। 

এদেশে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে গেলে শুধুমাত্র ইংরেজি শিক্ষাই যথেষ্ট নয়, একথা দু’জনেই বুঝতে পেরেছিলেন। বেশিদিন সময় নিলেন না ডাফ। তৎকালীন ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড বেন্টিঙ্কের সাহায্যে বাঙালি ফিরিঙ্গি কমল বসুর চিৎপুর রোডের বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করলেন এক অবৈতনিক শিক্ষাকেন্দ্র। দিনটা ছিল ১৮৩০ সালের ১৩ জুলাই। মাত্র পাঁচজন পড়ুয়া নিয়ে চালু হয় সেই জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ ইনস্টিটিউশন। 

শুধু ইংরেজি নয়, বাংলা ভাষা, খেলাধুলা ও নীতিবাক্য পাঠ্যক্রম চালু হয় সেখানে। তাতেই ক্ষুব্ধ হন স্কটিশ মিশনারিরা। মিশনারিদের মধ্যে বিভেদের কারণে কয়েক বছরের মধ্যেই ডাফকে স্কটল্যান্ডে ফিরে যেতে হয়। কিন্তু তিনি ভেঙে পড়েননি। নতুন উদ্যমে টাকাপয়সা জোগাড়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন ডাফ। 

১৮৪০ সালে বাংলায় ফিরে আসেন। দেশীয় রাজারাজড়া এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাহায্যে ১৮৪৩ সালে তিনি তৈরি করেন ফ্রি চার্চ ইনস্টিটিউশন। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন কৃতী ছাত্র ছিলেন রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৮৬৩ সালে প্রতিষ্ঠা হয় ডাফ কলেজের। এরপরেই ভারত ছেড়ে চলে যান ডাফসাহেব। 

১৯০৮ সালে এই জেনারেল অ্যাসেম্বলিজ এবং ফ্রি চার্চ ইনস্টিটিউশনকে যুক্ত করে স্থাপিত হয় স্কটিশ চার্চেস কলেজ। হেদুয়ার কাছে তৈরি করা হয় নতুন বিল্ডিং। ১৯২৯ সালে কলেজের নতুন ভবনের নামকরণ হয় স্কটিশ চার্চ কলেজ। 

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ