জাতীয় সংসদে রাঙ্গা-হারুন বাহাস

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২২, ০৯:৫৮

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা ও বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের মধ্যে বাহাস হয়েছে। ২০২২ সালের অর্থবিলের আপত্তি জানিয়ে হারুন তার বক্তব্যে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের সময় না দেওয়ার অভিযোগ করে স্পিকার শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে। পরে হারুনের বক্তব্যের জবাব দেন রাঙা। সেখানে তিনি হারুনকে বক্তব্য প্রদানে বাধা দেওয়ার হুমকি দেন। এর আগে এক অধিবেশনেও বিএনপির হারুনের বক্তব্যে নাখোশ হয়ে বিরোধী দলীয় প্রধান রাঙা সংসদের লবীতে যে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তিনি দায়ী থাকবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।

অর্থ বিলের সংশোধনীর ওপর আলোচনাকালে বিএনপি দলীয় সদস্য হারুন তার বক্তব্যে স্পিকারের বিরুদ্ধে সময় না দেওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘সরকারি দলের সদস্যদের অনির্ধারিত বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু আমাদেরকে সময় বাড়িয়ে দিতে আপনি রক্ষণাত্মক থাকেন।’ 

বাজেটের ওপর মাসব্যাপী এই আলোচনায় বাজেট নিয়ে খুবই কম কথা হয়েছে। বলেন, ‘এই সংসদে জনহিতকর আলোচনার চাইতেও অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের আলোচনায় লক্ষ্য করেছি, আমরা সকলেই পদ্মা সেতু ও পদ্মা নদী বিশেষজ্ঞ হয়ে গিয়েছি। দীর্ঘ এক মাস যাবৎ পদ্মা সেতু ও নদী নিয়ে যত লেখালেখি ও আলোচনা হয়েছে। এতে গোটা জাতি এত বেশি অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ বলার অপেক্ষা রাখে না।’

স্পিকারের বিরুদ্ধে সময় কম দেওয়ার অভিযোগ তুলে হারুন আরও অভিযোগ করেন, বিশেষ অধিকার নোটিশ উত্থাপন করেছি, সেখানে আপনি সতর্ক করে বলেছেন, দু মিনিটে শেষ করবেন। আমি ১৯৯৬ সাল থেকে সংসদে আছি। বিশেষ অধিকারে আলোচনা স্পিকার ধৈর্য সহকারে শোনেন। 

আগের দিন সরকার দলীয় সদস্য মমতাজ বেগমের বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে হারুন বলেন, ‘আমরা মাত্র কয়েকজন সদস্য। আমরা কথা বলতে গেলে এত যদি আপত্তি ও বাঁধা থাকে তাহলে বলেন, আমরা সংসদ ছেড়ে চলে যাই। সংসদে কথা বলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে আপনাকে।’ 

তার এই অভিযোগে স্পিকার বলেন, ‘এক মিনিট কেন আপনাকে চার মিনিট সময় দেওয়া হয়েছে। কথা বলার সময় তো খেয়াল থাকে না। আপনাদের প্রাপ্য সময়ের তুলনায় বেশি সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করি। আপনি যে কথাগুলো বলেছেন-সেটা ভেবে বলা প্রয়োজন।’ 

পরে রাঙা তার বক্তব্যে স্পিকারকে সুন্দরভাবে সংসদ পরিচালনার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘একজন বিরোধী দলীয় সদস্য আপনাকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছেন। অন্য কোন স্পিকার হলে তার মাইক বন্ধ করে দিতেন। আমি এটা ২০০১ সালে দেখেছি। পদ্মাসেতু নিয়ে কেন তাদের এত গাত্রদাহ।’ 

তিনি এ সময় কিছুটা হাস্যচ্ছলে বলেন, ‘আমরা বিরোধী দল থেকে চাইব, সরকারকে উৎখাত করতে। কিন্তু আল্লাহ না চাইলে কীভাবে উৎখাত করব। প্রধানমন্ত্রী এখন দেশের সবচাইতে জনপ্রিয় ব্যক্তি। পদ্মা সেতুতে এমন জনপ্রিয়তা বেড়েছে যাতে বিএনপির মতো জাতীয় পার্টিকে থালা নিয়ে রাস্তায় নামতে হবে।’

এ সময় মাইক ছাড়াই হারুন টিপ্পনী কেটে বলেন, এ‘খন সময় বাড়িয়ে দেন। এর জবাবে রাঙা বলেন, আপনাকে কি প্রধান হুইপের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে?’ তিনি স্পিকারের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি দুঃখ প্রকাশ করে বলছি-উনি যখন কথা বলবেন আমি কিন্তু কথা বলব, ওনাকে কথা বলতে দেব না।’ 

পরে সংশোধনী আলোচনায় অংশ নিয়ে হারুন বলেন, ‘সংসদে আমরা আলোচনা করছি। এখানে আলোচনার অনেক বিষয় আসছে। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এমন দলকে বিরোধী দলের চেয়ারে বসিয়েছেন। আমি জীবনেও এই ধরনের আলোচনা শুনি নাই। যে ধরনের হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে। আমি আতঙ্কিত। এখানে সাড়ে তিন শ জনের মধ্যে আমরা মাত্র কয়েকজন সদস্য। আপনি যদি হুমিকধমকি দেন আমরা চ্যাপটা না ভর্তা হয়ে যাব। এই অবস্থানে আপনি (স্পিকার) আমাদের সুরক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।’

হারুন বলেন, ‘এইভাবে সংসদ হয় না। এতে সংসদের গ্রহণযোগ্যতা ও মর্যাদা মানুষের কাছে প্রশ্নের মুখে পড়বে।’  

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ