ব্রিটেনে প্রাইড অব বেঙ্গল পুরস্কারে ভূষিত কবি আহমেদ কায়সার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২২, ১৪:৩৬

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কবি টি এম আহমেদ কায়সার শিল্প ও সংস্কৃতিতে ‘তাৎপর্যপূর্ণ অবদানে’র জন্য প্রাইড অব বেঙ্গল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি দক্ষিণ এশীয় শিল্প, সাহিত্য ও সংগীতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান সৌধ সোসাইটি অব পোয়েট্রি অ্যান্ড ইন্ডিয়ান মিউজিকের পরিচালক। 

গত বুধবার ব্রিটেনের সংসদ ভবন হাউস অব কমন্সের চার্চিল হলে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেয়া হয় । 

ডব্রটিশ-ভারতীয় কোম্পানি এডভাটেক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এই পুরস্কার প্রদান করেন সংস্থার চেয়ারপার্সন ও ব্রিটেনের সাংসদ আনা ফার্থ ও ট্রাস্টি সামিত বিশ্বাস। 

গত চার বছর ধরে প্রবর্তিত এই পুরস্কার  ইতিপূর্বে নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন, ক্রিকেটার সৌরভ গাঙ্গুলীসহ দেশ-বিদেশে যে সব বাঙালী শিল্পে, ব্যবসায়, নারীর ক্ষমতায়নে, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা, একাডেমিক গবেষণায় অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন- তাদেরকই দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এডভাটেক ফাউন্ডেশনের মুখপাত্র সামিত বিশ্বাস। 

এ বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্ম ও স্মৃতির প্রতি বিশেষ সম্মাননার পাশাপাশি লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট এওয়ার্ড পান বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। গণমাধ্যমে অবদানের জন্যে এটিএন বাংলার প্রতিষ্ঠাতা ড. মাহফুজুর রহমান এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক পরিচর্যায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংবাদপাঠিকা ও লেখিকা ড. জাকি রেজওয়ানা আনোয়ারও এ বছর প্রাইড অব বেঙ্গল পুরস্কার পান। 

পুরস্কার প্রদানের পর এক প্রতিক্রিয়ায় টি এম আহমেদ কায়সার বলেন,  ‘এই ছোট্ট জীবনে আমি কোনো রকম কুন্ঠা ছাড়াই বহু জিনিস প্রত্যাখ্যান করেছি এটা ভেবে যে মানুষের প্রেরণা আসবে ফলত তার নিজের অন্তর্গত সত্ত্বা থেকে, বাইরের কোনো প্রতিষ্ঠানকে এই দায়িত্ব কিছুতেই অর্পণ করা উচিত নয়। কিন্তু তবু এই পুরস্কার নিতে আমি লিডস শহর থেকে সম্মানজনক হাউস অব কমন্স পর্যন্ত এসেছি প্রথমত তাকে সম্মান জানাতে যিনি আমাকে মনোনয়ন করেছেন এই পুরস্কারের জন্য।’ 

কায়সার বলেন, যদি সামান্য কিছু অবদান রেখে থাকি যুক্তরাজ্যের শিল্প ও সঙ্গীত মঞ্চে, তা বোধ করি এজন্যে যে জীবনভর আমি মানুষে মানুষে সংযোগ রচনা করতে চেয়েছি। নিজের কাজের চাইতেও অন্যের ভাল কাজগুলো জনসমক্ষে নিয়ে আসতে চেয়েছি। সেতুবন্ধন রচনা করতে চেয়েছি এক শিল্পের সঙ্গে আরেক শিল্পের, এক সংস্কৃতির সঙ্গে আরেক সংস্কৃতির। কিছুদিন আগেও রয়াল আলবার্ট হলে আমাদের প্রোডাকশন ফ্রিডা কাহলো থ্রু ইন্ডিয়ান ক্লাসিক্যাল মিউজিক দেখে দর্শকেরা জিজ্ঞেস করেছেন, মেক্সিকান শিল্পের সঙ্গে ভারতীয় সঙ্গীতের অন্বয় বা যোগসাজসের ভিত্তি কোথায়? আমি বলেছি, আমি যতটা বাঙালি বা যতটা ভারত উপমাদেশিয় ঠিক ততটাই আর্ন্তজাতিক এবং বিশ্বের সমস্ত শিল্প সংস্কৃতির উত্তরসূরিও। 

তিনি বলেন, সব শিল্পের মূলে যে মানবিক আবেগ লুকিয়ে আছে তা কোনো ভৌগলিক সীমারেখা দিয়ে খন্ডন করা যাবে না। আমরা এই সার্বজনীন মানবিকতাকেই প্রচার করতে চাই যা সংকীর্ণ কোনো ভৌগোলিক বলয়ে বিভক্ত নয়।  

বিশিষ্ট টিভি উপস্থাপিকা উর্মি মাজহারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ বর্ণাঢ্য উদযাপনে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ বীরেন্দ্র শর্মা, সাংসদ রোশনারা আলি  লন্ডন সিটির ডেপুটি মেয়র রাজেশ আগরওয়াল, সাংসদ আনা ফার্থসহ ব্রিটেনের রাজনীতি, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমের বিশিষ্ট নেতারা।

এবিএন/এসএ/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ