নেপথ্যসঙ্গীত ও বাংলা আধুনিক গানের কীর্তিমান শিল্পী গীতা দত্ত

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২১, ১১:৩৭

গীতা দত্ত একজন স্বনামধন্য বাঙালি সঙ্গীতশিল্পী। তিনি মূলত ১৯৫০ এবং ১৯৬০-এর দশকে হিন্দি ছবিতে নেপথ্যসঙ্গীত এবং বাংলা আধুনিক গান গাওয়ার জন্য বিখ্যাত। আজ ২৩ নভেম্বর কীর্তিমান এই সঙ্গীতশিল্পীর জন্মদিন। ১৯৩০ সালের এইদিনে গীতা দত্ত ফরিদপুর জেলার একটি ধনী জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

পরিচালক, অভিনেতা গুরু দত্তের সাথে বিয়ের আগে তার নাম ছিল গীতা ঘোষ রায়চৌধুরী। বিয়ের আগে গীতা রায় নামে সুপরিচিত ছিলেন। ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর বাবা মার সাথে বোম্বের দাদারে একটি অ্যাপার্টমেন্টে থাকতে আরম্ভ করেন।  

গীতা যখন বারো বছর বয়সী ছিলেন । সুরকার হনুমান প্রসাদ একবার গীতার গান শুনে মুগ্ধ হন । তিনি ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে গীতাকে ভক্ত প্রহলাদ নামের একটি চলচ্চিত্রে প্রথম গান গাওয়ার সুযোগ দেন । এই ছবিতে গীতা কোরাসে মাত্র দুই লাইন গান গেয়েছিলেন কিন্তু তার মধ্যেই তার কৃতিত্ব ফুটে উঠেছিল।

পরের বছরে গীতা নেপথ্যগায়িকা হিসাবে দো ভাই ছবিতে কাজ পান। এই ছবিতে তার গান হিন্দি ছবির জগতে গায়িকা হিসাবে তাকে প্রতিষ্ঠিত করে। প্রথম দিকে গীতা ভজন এবং দুঃখের গান গাওয়ার জন্য পরিচিত ছিলেন। ১৯৫১ সালে শচীন দেববর্মণের সুরে বাজি চলচ্চিত্রে তাঁর গাওয়া গান তাঁর সঙ্গীতজীবনে নতুন দিক আনে।

তার কণ্ঠস্বরের যৌনতা এবং পাশ্চাত্য সুরে সহজে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার জন্য ১৯৫০এর দশকে লাস্যময়ী এবং ডান্স ক্লাবের গানে তাকে প্রথম পছন্দ করে তোলে।শচীন দেববর্মন দো ভাই ছবিতে গীতার কণ্ঠের জাদু প্রথম ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তিনি গীতার কণ্ঠের বাঙালি টানকে সুন্দর ভাবে ব্যবহার করেছিলেন দেবদাস (১৯৫৫) এবং পেয়াসা(১৯৫৭) ছবিতে।

পেয়াসা ছবিতে আজ সাজন মুঝে অঙ্গ লাগা লে বাঙালি কীর্তন গানকে গীতা সফল ভাবে হিন্দিতে গেয়েছিলেন। শচীনদেব বর্মনের সুরকার হিসাবে শুরুর দিকের গানগুলিকে গায়িকাদের ভিতরে গীতাই সবথেকে ভালভাবে গেয়েছিলেন। ও পি নাইয়ারের সুরে গীতা সব ধরনের গানেই পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন।

গেল শতাব্দীর ৫০-এর দশকে দুই প্রধান নেপথ্যসঙ্গীত গায়িকা ছিলেন তিনি এবং লতা মঙ্গেশকর। হিন্দি গান ছাড়াও গীতা দত্ত গুজরাটি ছবিতেও প্রধান নেপথ্য গায়িকা ছিলেন। তিনি গুজরাটি ভাষায় বিখ্যাত সুরকার অবিনাশ ব্যাসের সুরে বেশ কিছু গান গেয়েছিলেন।

১৯৫০ দশকের শেষ এবং ১৯৬০-এর দশকের শুরুতে গীতা বেশ কিছু বিখ্যাত বাংলা গান গায়। এই সময়ে বাংলা ছবি এবং সঙ্গীতের জগতে স্বর্ণযুগ চলছিল। তার বেশিরভাগ বাংলা গানেরই সুরকার ছিলেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায় তবে তিনি নচিকেতা ঘোষ এবং সুধীন দাশগুপ্তের সুরেও কিছু গান গেয়েছিলেন।

তার কিছু মনে রাখার মত বাংলা গান হচ্ছে- তুমি যে আমার, এই সুন্দর স্বর্ণালি সন্ধ্যায়, নিশি রাত বাঁকা চাঁদ আকাশে, ওগো সুন্দর জানো নাকি, এই মায়াবী তিথি, আমি শুনেছি তোমারি গান। তিনি ১৯৭২ সালের ২০ জুলাই মারা যান।

এবিএন/শংকর রায়/জসিম/পিংকি

এই বিভাগের আরো সংবাদ