শুক্র গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব!

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:৪৭

মহাবিশ্বে এই পৃথিবী ছাড়া কোথায় প্রাণের অস্তিত্ব? তা খুঁজতে মানুষের চোখ বারবার মঙ্গলগ্রহে ছুটলেও খবর এসেছে শুক্র গ্রহ থেকে। পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের এই গ্রহটিতে মেঘে ফসফিন গ্যাস দেখতে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যা প্রাণের অস্তিত্বের বিষয়ে তাদের আশাবাদী করে তুলেছে।

সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে এমন কোনো প্রামাণ্য তথ্য এখনো মেলেনি; কিন্তু পৃথিবীতে ফসফিন গ্যাস উৎপাদনে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকার কথা মাথায় রেখে তারা ভাবছেন, তা হলে শুক্র গ্রহেও তেমন কোনো অনুজীব থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

রয়টার্স জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক গবেষক দল প্রথমে হাওয়াই দ্বীপে স্থাপিত জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল টেলিস্কোপে শুক্র গ্রহের মেঘপুঞ্জে ফসফিন গ্যাস দেখতে পান। এরপর চিলির আতাকামা মুরুভূমি থেকে এএলএমএ রেডিও টেলিস্কোপ দিয়ে তা নিশ্চিত হন।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী গেন গ্রেভস বলেন, ‘এটা একেবারে অপ্রত্যাশিত, স্তম্ভিত করে দেওয়ার মতোও বটে।’

এ আবিষ্কার নিয়ে নেচার অ্যাস্ট্রনমি সাময়িকীতে যে লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে, তার মূল লেখক যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির এ গবেষক।

ফসফিন হল ফসফরাস ও হাইড্রোজেন মিলে গঠিত একটি রাসায়নিক যৌগ। পৃথিবীতে কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রাকৃতিকভাবে ফসফরাসের সঙ্গে হাইড্রোজেনের মিলন ঘটিয়ে এ গ্যাস তৈরি করে। তবে পৃথিবীতে রসায়নাগারে কিংবা কারখানায় না হয় ফসফিন গ্যাস তৈরি করা যায়, কিন্তু শুক্রে তো কোনো কারখানা নেই। তা হলে শুক্র গ্রহের পৃষ্ঠের ৫০ কিলোমিটার উপরে মেঘরাশির মধ্যে এই ফসফিন কেমন করে এলো?

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির মলিকুলার পদার্থবিদ কার্লা সোস-সিলভা বলেন, ‘আমাদের এই আবিষ্কারের ব্যাখ্যা যদি করতে হয়, তবে আমি সবার আগে বলব প্রাণ। এটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, যদি এটা ফসফিনই হয়, তবে তার মানে এটাই দাঁড়ায় যে এর পেছনে প্রাণ আছে। তার মানে আমরা একা নই।’

তিনি বলেন, ‘শুক্র এখন হয়ত বাসযোগ্য নয়, তবে অনেক অনেক কাল আগে হয়ত এর পৃষ্ঠে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল। হয়ত গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া এই গ্রহকে এখন অবাসযোগ্য করে তুলেছে।’

উল্লেখ্য, সৌর জগতে প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়ার কথা যখন চিন্তা করা হয় তখন সেই তালিকার শীর্ষে কোনোভাবেই শুক্র গ্রহকে রাখা হয় না। মানুষের বাসস্থান পৃথিবীর তুলনায় গ্রহটি একটি নরককুণ্ড। এর বায়ুমন্ডলের প্রায় ৯৬ শতাংশই কার্বন ডাই অক্সাইড। পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রা পিৎজা ওভেনের মতো চারশ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি। এখন পর্যন্ত যতগুলো মহাকাশযান শুক্র গ্রহে অবতরণে সক্ষম হয়েছে তার সবই কয়েক মিনিটের মধ্যে নষ্ট হয়েছে। আর যদি এর পৃষ্ঠদেশ থেকে ৫০ কিলোমিটার উপরে যদি পৌঁছানো যায় তাহলে সেটি প্রকৃতপক্ষে হবে ‘শার্টের হাতার মতো পরিস্থিতি’। আর শুক্র গ্রহে যদি জীবনের অস্তিত্ব পাওয়া যায় তাহলে নিশ্চিতভাবে সেটি এসব স্থানেই খুঁজতে হবে।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ