এয়ারপড প্রো ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনার প্রত্যাশা অ্যাপলের

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০৮

অ্যাপলের আইফোন ব্যবসা বিভাগ খারাপ সময় পার করছে। টানা কয়েক প্রান্তিক আইফোন বিক্রি কমার প্রভাব পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্বে। চলতি বছর প্রথমবার অ্যাপলের মোট রাজস্বে আইফোনের অবদান অর্ধেকের নিচে নেমেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির হার্ডওয়্যার ব্যবসা বিভাগের সম্ভাবনাময় পণ্য হিসেবে দেখা দিয়েছে ওয়্যারলেস ইয়ারফোন ‘এয়ারপড প্রো’। বিশ্বজুড়ে উল্লেখযোগ্য চাহিদার কারণে চীনভিত্তিক উৎপাদন অংশীদারদের এয়ারপড প্রো ও এয়ারপড উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে অ্যাপল। খবর নিক্কেই এশিয়ান রিভিউ।

২০১৬ সালে প্রথম প্রজন্মের এয়ারপড বাজারে ছেড়েছিল অ্যাপল। ক্ষুদ্রাকৃতির ও দেখতে আকর্ষণীয় পরিধেয় প্রযুক্তিপণ্যটি খুব অল্প সময়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরই অংশ হিসেবে গুগল ও মাইক্রোসফটের পাশাপাশি চীনা ডিভাইস নির্মাতারা ওয়্যারলেস ইয়ারফোন ব্যবসায় অর্থ লগ্নি করতে শুরু করেছে।

অ্যাপলের এয়ারপড ও এয়ারপড প্রোর প্রধান উৎপাদন অংশীদার হলো চীনভিত্তিক ‘লাক্সশেয়ার-আইসিটি’ নামে একটি চুক্তিভিত্তিক পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। চীনে দুটি উৎপাদন কারখানা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এ প্রতিষ্ঠান ছাড়াও অন্যান্য ছোট উৎপাদন অংশীদারদের এয়ারপড ও এয়ারপড প্রো উৎপাদন বাড়ানোর জন্য চিঠির মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছে অ্যাপল। আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি এমন একসময় চীনভিত্তিক এয়ারপড ও এয়ারপড প্রো উৎপাদন অংশীদারদের উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনে উৎপাদিত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

ওয়াশিংটন চাইছে অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করুক এবং স্থানীয়ভাবে পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করুক। তবে অ্যাপল চীনা উৎপাদন অংশীদারদের ওয়্যারলেস ইয়ারফোন এয়ারপড ও এয়ারপড প্রো উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে আরো একবার প্রমাণ দিল তারা ডিভাইস উৎপাদনের জন্য এখনই চীন ছাড়তে রাজি নয়। বাস্তবে এটা সম্ভবও নয়। অ্যাপলের মতো মার্কিন একাধিক প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতার উৎপাদন হাব হলো চীন। চুক্তিভিত্তিক ডিভাইস নির্মাতা এখনো এর বিকল্প দাঁড় করাতে পারেনি। যে কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের মুখেও এয়ারপড ও এয়ারপড প্রোর বাড়তি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে চীনা উৎপাদন অংশীদারদের উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

জিএসএম এরিনার তথ্যমতে, অ্যাপলের দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা পণ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম ওয়্যারলেস ইয়ারবাড বা ইয়ারফোন। এ ডিভাইসের বিক্রি বার্ষিক ২০ কোটি ইউনিট ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। আগামী বছরের শুরুতেই বিশ্বব্যাপী ৮ কোটি ইউনিট এয়ারপড বিক্রির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

বৈশ্বিক বাজারে চলতি বছর দুটি মডেলের এয়ারপড এনেছে অ্যাপল। গত অক্টোবরে প্রতিষ্ঠানটি বাজারে ছেড়েছে এয়ারপডের সর্বশেষ সংস্করণ এয়ারপড প্রো। ডিভাইস জোড়ার দাম ধরা হয়েছে ২৪৯ ডলার। নয়েজ ক্যান্সেলেশন ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সুবিধা থাকায় অল্প সময়ের মধ্যে মডেলটি গ্রাহকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আইফোন বিক্রি কমার কারণে চলতি বছর অ্যাপলের রাজস্ব আয়ের পতন ঠেকাতে এয়ারপডের এ মডেল কার্যকর ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের গবেষক পাভেল নায়া বলেন, এয়ারপড প্রো বাজারে আনার মধ্য দিয়ে ওয়্যারলেস ইয়ারফোনের ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড সেট করে দিয়েছে অ্যাপল। গ্রাহকরা পণ্যটি দারুণ পছন্দ করেছেন।

আইফোন বিক্রি কমতে থাকায় অ্যাপল নতুন খাতে ব্যবসা বাড়াতে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) বিভাগের পাশাপাশি অধিগ্রহণ ও একীভূতকরণে জোর দিচ্ছে। গত জুলাই মাসে ১০০ কোটি ডলারে সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি ইন্টেলের স্মার্টফোন মডেম চিপ বিভাগ অধিগ্রহণের ঘোষণা দেয় অ্যাপল। বিভিন্ন কাজে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে প্রতিষ্ঠানটির নগদ অর্থের মজুদও কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন এয়ারপড প্রো ডিভাইসে ব্যবসায় সম্ভাবনা দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।

আইফোনকেন্দ্রিক উদ্ভাবন এখন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। আইফোনের বিক্রি বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা ব্যবসা বিভাগ ও নতুন অ্যাপল টিভি প্লাস স্ট্রিমিং সেবায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে অ্যাপল। যে কারণে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্বে আইফোনের গুরুত্ব কমলেও অ্যাপ স্টোরসহ বিভিন্ন সেবা খাতের গুরুত্ব বাড়ছে।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ