ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে: মোস্তাফা জব্বার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ মে ২০১৯, ২১:৫৩

ফাইল ফটো
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে নিরাপদ ইন্টারনেট অপরিহার্য। এ জন্য লাগসই করণীয় নির্ধারণ করে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজটি একক কোনো বিভাগ ও সংস্থার কাজ নয়। তিনি ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজটি সমন্বিত উদ্যোগে এগিয়ে নিতে নবগঠিত ডিজিটাল নিরাপত্তা সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী আজ ঢাকায় ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আলোচিত হওয়ার তিন বছর আগে ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার কাজ শুরু করেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাংলাদেশ প্রথম করবে এটাও কেউ ভাবেনি।  ডিজিটাল জগতের নিরাপত্তা একটি বিশাল বিষয়। এটা নিয়ে বিতর্ক করার সুযোগ নেই। আগামীর বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির প্রয়োজনে আমি যখন আমার শিশুটিকে প্রোগ্রামিং শেখাব, ওয়েবসাইট থেকে যখন এ বিষয়ক অ্যাপস ডাউন লোড করতে বলবো  সেই ক্ষেত্রে আমার দায়িত্ব হচ্ছে ৫ বছরের শিশু থেকে নতুন প্রজন্মকে যেন নিরাপদ ইন্টারনেট দিতে পারি। যদি না পারি তাহলে আমি জেনেশুনে অপরাধ করছি। একটি খারাপ জায়গায় জেনেশুনে নতুন প্রজন্মকে ঠেলে দিচ্ছি। একদিকে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনের কথা বলব অন্যদিকে নিরাপত্তার কারণে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন করব, এভাবে আমরা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার উপযোগী মানুষ তৈরি করতে পারব না উল্লেখ করেন টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।

ভবিষ্যতের বিস্ময়কর প্রযুক্তির ফলে ড্রাইভারবিহীন গাড়ি চলবে, রোবট গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজে মানুষের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে উল্লেখ করে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তি চায় কিন্তু মানুষকে বাদ দিয়ে নয়। আমরা ডিজিটাল প্রযুক্তি চাই মানুষের জীবনযাপনকে সহজ করার জন্য, জীবনকে উন্নত করার জন্য। ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্পকে সামনে রেখে প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা সেই জায়গায় পৌঁছাতে চাই।

মন্ত্রী যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে প্রযুক্তিকে নিরাপদ রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, গত তিন মাসে ২২ হাজার পর্নো সাইট, আড়াই হাজারেরও বেশি জুয়ার সাইট বন্ধ করা হয়েছে, টিক টক নামের একটি অ্যাপের ২ লাখেরও বেশি ভিডিও নামিয়ে  ফেলতে বাধ্য হয়েছে।

আইসিটি বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য অপরাজিতা হক, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির মহাপরিচালক মোঃ রাশেদুল ইসলাম এবং বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অভ্ বাংলাদেশের ভিসি ড. মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম। কর্মশালায় মুক্ত আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম এবং আইএসপিএবি’র সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম।

এবিএন/রাজ্জাক/জসিম/এআর

এই বিভাগের আরো সংবাদ