শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদের সমর্থনে পোস্ট দেয়া যাবে না ফেসবুকে

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০১৯, ১১:৫৬

এ মাসের মাঝামাঝি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদ ও লিনউড মসজিদে এক শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদীর গুলিতে নিহত হয়েছেন ৫০ জন। আহত হয়েছিলেন ৪২ জন।

আর মসজিদে চালানো তাণ্ডব ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেছিল হামলাকারী।

যদিও সে সময় তাৎক্ষণিকভাবে লাখ লাখ ভিডিও ডিলিট করেছে বলে দাবি করেছে ফেসবুক।

এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে ওঠা নিন্দা আর প্রতিবাদের মুখে এবার ফেসবুক জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহ থেকে শ্বেতাঙ্গ বর্ণবাদের ‘স্তুতি বা প্রশংসা, সমর্থন এবং প্রতিনিধিত্বমূলক’ কোনো ধরনের পোস্টই আর এ মাধ্যমে শেয়ার করা যাবে না।

বুধবার এক ব্লগ পোস্ট দিয়ে ফেসবুক জানিয়েছে, ‘সুশীল সমাজ এবং একাডেমিকদের সঙ্গে ৩ মাস আলোচনার পর সংস্থাটি বুঝতে পেরেছে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদকে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ ও সংগঠিত ‘হেট ক্রাইমে’র থেকে আলাদা করা যাবে না।

এ ছাড়া যে কোনো জঙ্গি মতাদর্শ প্রচারে ব্যবহৃত সরঞ্জামাদি চিহ্নিত এবং ব্লক করার ক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কর্তাব্যক্তিরা।

এ ধরনের জিনিসপত্র ফেসবুকে যারা সার্চ করবেন তাদের তথ্য সরাসরি উগ্র জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে এমন সংস্থার কাছে পাঠানো হবে।

এর আগে ফেসবুক শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের কিছু কর্মকাণ্ড, যেসব জিনিসপত্রকে তারা বর্ণবাদী বলে মনে করেনি, তা চালানোর অনুমতি দিয়েছিল।

এর মধ্যে শ্বেতাঙ্গদের জন্য আলাদা জাতিরাষ্ট্রের দাবি সংবলিত প্রচারণাও ছিল।

এ বিষয়ে ফেসবুক একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে। ‘এটা আমেরিকানদের নিজেদের নিয়ে গর্ব এবং বাস্কদের বিচ্ছিন্নতাবাদের মত ব্যপার, যাকে আমরা সেখানকার মানুষের নিজেদের পরিচয়ের জরুরি অংশ বলে মনে করি।’

ফলে প্রতিজন ব্যবহারকারীর নিজের পরিচয়কে সম্মান জানানোর জন্য সেগুলো বন্ধ করা হতো না বলে জানিয়েছে ফেসবুক।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের ঘটনার পর ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে জঙ্গি মতাদর্শ প্রচারের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাতে ব্যবহার না করা হয়, সেজন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব নেতাদের অনেকেই।

নিউজিল্যান্ডের ঘটনায় সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডান বলেছেন, এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছিল ‘প্রকাশক, শুধু পোস্টম্যান বা বার্তাবাহক না’।

এর আগে ফেসবুক জানিয়েছিল, মসজিদে হামলার ঘটনার ভিডিওটি মুছে ফেলার আগে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ লাখ ভিডিও ব্লক করেছে এবং তিন লাখ ভিডিও ডিলিট করেছে।
খবর বিবিসি

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ