কনটেন্ট ফিল্টারিং; বাংলাদেশে অফিস খোলার বিষয়ে আশ্বাস

দেশের আইনী কাঠামো ও সংস্কৃতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি ফেসবুকের

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০১৯, ০৯:৪১

দেশের আইনী কাঠামো ও সংস্কৃতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। বাংলা ভাষার সঠিক অনুবাদ ও প্রয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব দেবে ফেসবুক। এর ফলে ‘বাজে কনটেন্ট’ প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অপপ্রচার সহজেই বন্ধ হয়ে যাবে। সবচেয়ে বড় কাজ হবে যদি ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশে অফিস খোলে। অফিস খোলার বিষয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষও ইতিবাচক অভিমত দিয়েছে। স্পেনের বার্সিলোনায় মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে যোগ দিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ফেসবুক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানালে তারা এ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা গেছে, মন্ত্রী ফেসবুক প্রতিনিধি দলের কাছে প্রথমেই অনুরোধ করেন বাংলাদেশে তাদের একটি অফিস খোলার জন্য। এ সময় ফেসবুক প্রতিনিধি দল মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে তাদের চিন্তা রয়েছে বাংলাদেশে অফিস খোলার। মন্ত্রী তাদের বক্তব্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর মন্ত্রী বলেন, দেশে সবচেয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, পর্নোগ্রাফি, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, অপপ্রচার। এগুলো বন্ধ না হওয়ায় সমাজে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এছাড়া বাংলা ভাষার সঠিক অনুবাদ না হওয়ায় আরও জটিলতা তৈরি হচ্ছে। নিজস্ব সংস্কৃতি কনটেন্ট প্রকাশ না হলে সমাজে এর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। এসব কথা শোনার পর ফেসবুক প্রতিনিধি দল বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে বলে জানিয়েছে।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশ, আমাদের সমাজ, আমাদের নাগরিকদের ফেসবুকের নিরাপদ ব্যবহারের সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশের আইন, আবহমান বাংলার চিরায়ত সংস্কৃতি, মূল্যবোধ ও নিয়মনীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইন আছে, সেই আইন মোতাবেক ফেসবুককে কনটেন্ট এবং অন্যান্য বিষয় বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা আমাদের কনটেন্ট ফিল্টারিং অথবা যে ধরনের বিষয় যাচাই-বাছাই দরকার সেগুলো করার চেষ্টা করছি। রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটির দিক থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে। কারণ আমাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ইতিহাসটা বেশি দিনের নয়। আমরা চেষ্টা করেছি মানুষকে ইন্টারনেট জগতে ঢোকাতে এবং এই জগতকে নিরাপদ রাখতে। ইউরোপের ৩ থেকে ৪শ’ বছর পেছনে থাকা দেশ হিসেবে বলা হলেও আমাদের সরকারের দূরদর্শী নেতৃত্ব দেশ তথ্যপ্রযুক্তির দিক থেকে অনেকদূর এগিয়ে গেছে। বিশ্বের অনেক দেশ এখন আমাদের কাছে শিখছে। আমরা তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে এত দ্রুত এগিয়ে যেতে পারব তা কল্পনাও করা যায়নি। আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পাঠিয়েছি। দেশে বিপুল ব্যান্ডউইথ রয়েছে। দু’টি সাবমেরিন ক্যাবলের মালিক হয়েছি। বেসরকারী আরও কয়েকটি ক্যাবল রয়েছে আমাদের। সারাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে দেশে সাড়ে ৯ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। এ হার দিন দিন বাড়ছে। এখন আমাদের ইন্টারনেটকে নিরাপদ করতে হবে। নিরাপদ রাখার জন্য সরকার বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
 
বার্সিলোনায় মোবাইল কংগ্রেসে ওয়ার্ল্ডের প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে নানা বিষয়ে আলোচনার মধ্যে নাগরিক সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় প্রত্যয়ের বিষয়টিও প্রাধান্য পায়। বৈঠকে ফেসবুকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ফেসবুকের গ্লোবাল পলিসি সলিউশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্জ এ্যালান ও সাউথ এশিয়ার হেড অব পলিসি অশ্বিনী রানা।

বার্সিলোনায় মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেসে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মহিবুর রহমান, বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হক, টেলিটকের এমডি শাহাব উদ্দিন, টেলিযোগাযোগ বিভাগের উপসচিব ঊর্মি তামান্না, মন্ত্রীর একান্ত সচিব খোরশেদ আলম খান, টেলিযোগাযোগ অধিদফতরের পরিচালক মোঃ তাসকিনুর রহমান, বিটিআরসির উপ-পরিচালক খালেদ ফয়সাল ও সোহেল রানা।

মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, বৈঠকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কনটেন্ট প্রকাশে তাদের গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডের বিষয়টি তুলে ধরেন। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের আইনী কাঠামো ও সংস্কৃতি মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এখন দেখা যাক ফেসবুক তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি কতটা রক্ষা করে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করে তাদের সিস্টেম থেকে পর্নোগ্রাফি সরিয়ে নেয়ার কার্যক্রম চলছে। কনটেন্ট বিষয়ে ফেসবুক বিদ্যমান যে কোন সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য বাংলাদেশে অফিস খোলার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছে। মন্ত্রী এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে বলেন, রেসপন্স টাইমের বিষয়ে ফেসবুককে ইমিডিয়েট রেসপন্স টাইমে আনতে হবে। সরকার কখনও চায় না ইন্টারনেট বন্ধ করতে। বাংলাদেশের ৯৫ ভাগ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মোবাইলে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষও বাংলাদেশে তাদের অফিস খোলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়ার কথা উল্লেখ করেছে ওই বৈঠকে। ফেসবুককে বাংলা ভাষায় সঠিক অনুবাদ এবং প্রয়োগ করতে বলে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জানিয়েছেন, ফেসবুক যদি এই সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা চায়, সে লক্ষ্যে শেখ হাসিনার সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা করবে। ফেসবুকে বাংলা ভাষা ব্যবহারে কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা দূর করতে হবে। বাংলাভাষী মানুষ যেন ফেসবুকে বাংলা পড়তে কোন অসুবিধার মধ্যে না পড়েন। ভাষার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে বলে জানান ফেসবুকের গ্লোবাল পলিসি সলিউশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্জ এ্যালান।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ