সবচেয়ে হালকা উপগ্রহ নির্মাণের নেতৃত্বে ১৯ বছরের তরুণ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১২:৪৪

ভারতের একটি তরুণ দল সম্প্রতি কালামস্যাট-ভি-টু নামে বিশ্বের সবচেয়ে হালকা একটি স্যাটেলাইট উপগ্রহ ডিজাইন ও নির্মাণ করেন। ১ কেজি ২৬০ গ্রাম ওজনের ওই উপগ্রহটি তারা তৈরি করেছেন মাত্র ৬ দিনের মাথায়, যেটি কিনা কক্ষপথে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা সম্ভব হয়।

শিক্ষার্থীদের সেই দলটির নেতৃত্বে ছিলেন ভারতের ১৯ বছর বয়সী স্নাতক পড়ুয়া এক তরুণ। নাম রিফাথ শারুক।

সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও যিনি দাপটের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৭ জনের ওই দলটিকে।

রিফাথ শারুক বলেন, ‘আমরা ভাষা হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমরা পরে আনন্দে একে অপরকে জড়িয়ে ধরলাম। ওটা আমাদের জন্য খুব আবেগঘন মুহূর্ত ছিল। যেটি আসলে কোনো ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না।’

ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা-ইসরো তাদের ক্ষুদ্র এই উপগ্রহটি গত বৃহস্পতিবার একটি রকেটের মাধ্যমে কক্ষপথে সফলভাবে নিক্ষেপ করে। কিন্তু উপগ্রহের ব্যাপারে এমন একটি অনভিজ্ঞ দল কীভাবে এমন ক্ষুদ্র আকারের একটি স্যাটেলাইট তৈরি করে সেটাকে আবার মহাকাশে চালু করতে পারল?

উপগ্রহটির সফল উৎক্ষেপণের ঘটনায় দলের সদস্যদের প্রতি প্রশংসা বাণী আসতে শুরু করে বিভিন্ন মহল থেকে। তবে এ ব্যাপারে শারুক বিবিসিকে বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা রাতারাতি তারকা বনে যাইনি। এর পেছনে আমাদের বছরব্যাপী কঠোর পরিশ্রম জড়িয়ে আছে।’

কালামস্যাট-ভি-টু নামের এ উপগ্রহটির নামকরণ করা হয়েছে ভারতের প্রয়াত ও সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং মহাকাশ গবেষণার বিশিষ্ট পথিকৃৎ ড. এ পি জে আবদুল কালামের নামানুসারে।

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা- ইসরো ওই উপগ্রহটি অতিরিক্ত পে-লোড হিসেবে বিনে পয়সায় বহন করে মহাকাশে নিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবারের ওই উৎক্ষেপণের পেছনে প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মহাকাশে একটি সামরিক উপগ্রহ নিক্ষেপ করা।

শারুক বলেন, ‘আমরা ইসরো থেকে যে সহায়তা পেয়েছি, তার জন্য আমরা অনেক কৃতজ্ঞ। যদি আমরা বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত রকেট দিয়ে উপগ্রহটি মহাকাশে নিক্ষেপ করতাম তা হলে তারা এই উপগ্রহের জন্য ৬০ হাজার থেকে ৮০ হাজার ডলার দাবি করতো। যেটি কিনা আমাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিল না। উপগ্রহটি তৈরি করতে আমাদের খরচ পড়েছে প্রায় ১৮ হাজার ডলারের মতো। এটা অপেশাদার রেডিও যোগাযোগে সাহায্য করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। যেটা মহাকাশে প্রায় দুই মাসের মতো টিকবে।’
খবর বিবিসি

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food