রাজনৈতিক প্রচারণায় কর্মী পাঠানো বন্ধ করল ফেসবুক

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৩:০১

সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয়  মাধ্যম ফেসবুক রাজনৈতিক দলের কাছে তাদের একনিষ্ঠ কর্মী পাঠাত।

যাদের একমাত্র কাজ ছিল ওই দলের অনলাইন বিজ্ঞাপন কিভাবে বাড়ানো যায় বা উন্নত করা যায় তাতে সাহায্য করা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডিজিটাল পরিচালক বলেছিলেন ফেসবুকের সাহায্যকারী তাকে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিততে সাহায্য করেছিল।

ফেসবুক বলছে, ওই নির্বাচনে আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনকে একই সার্পোট দেয়ার অফার করা হয়, কিন্তু তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

সামাজিক যোগাযোগের এ মাধ্যম ফেসবুক, গুগলের পরেই সবচেয়ে বড় অনলাইন অ্যাডভারটাইসিং ব্রোকার।

গুগল ও টুইটারও রাজনৈতিক প্রচারণায় বিশেষ উপদেশ দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে থাকে।

কিন্তু ফেসবুকের মতো তারা বলেনি যে তারা সেটা আর করবে না বা বন্ধ করার কোনো ইঙ্গিতও দেয়নি।

এদিকে ফেসবুক বলছে তারা বরং সব রাজনৈতিক দলের জন্য তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই বিনামূল্যে বিজ্ঞাপনের ব্যাপারে উপদেশ দেবে।

যা হোক, ফেসবুক কিন্তু এটা বলেনি যে তারা রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করাও বন্ধ করে দেবে।

ব্লুমবার্গের তথ্যমতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ৪৪ মিলিয়ন ডলার ফেসবুকের পেছনে খরচ করেছিলেন তার নির্বাচনী প্রচারণার জন্য।

সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় এ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারকারীদের না জানিয়েই লাখ লাখ গ্রাহকের তথ্য নিজেদের বাণিজ্যিক প্রয়োজনে ব্যবহার করেছিল রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ এনালিটিকা।

তারা ৫০ মিলিয়ন গ্রাহকের তথ্য বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছে- এমন তথ্য ফাঁস হলে আলোড়ন শুরু হয়।

গ্রাহকের অজ্ঞাতে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশে তাদের তথ্য ব্যাবহার করার এই খবর রটে গেলে, ফেসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গকে ব্রিটিশ সংসদে তলব করা হয়।

ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ এ বিষয়ে তাদের ভুল হয়েছিল স্বীকার করেন এবং গ্রাহকদের তথ্য তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে যাওয়ার এ ঘটনাটিকে ‘গ্রাহকদের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গ’ করার শামিল বলে ফেসবুকে দেয়া বিবৃতিতে মন্তব্য করেছেন ।

বিভিন্ন অ্যাপ, ভবিষ্যতে যাতে ফেসবুক কে ব্যাবহার করে গ্রাহকদের তথ্য সহজে হাতিয়ে নিতে না পারে সে জন্য সামনের দিনগুলোয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আরও বেশ কিছু পরিবর্তন আনার অঙ্গীকারও করেছিলেন তিনি।

ফেসবুকের সিইও জাকারবার্গ গ্রাহকদের উদ্দেশে বলেছিলেন, আপনার তথ্যের নিরাপত্তা দেয়া আমাদের দায়িত্ব। কিন্তু সেটি দিতে ব্যর্থ হলে আমাদের সেবা দেয়ার কোনো অধিকার থাকবে না।

ক্যামব্রিজ এনালিটিকা ট্রাম্পের পক্ষে ডিজিটাল প্রচারণা চালানোর সুবিধার জন্য গ্রাহকদের তথ্য ফেসবুক থেকে কৌশলে হাতিয়ে নেয়, এ অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তুমুল আলোড়ন শুরু হয় এবং ক্যামব্রিজ এনালিটিকার প্রধান নির্বাহীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির জের ধরে ব্রিটেনের তথ্য অধিকার সংরক্ষণ বিষয়ক সংস্থা ফেসবুককে ৫ লাখ পাউন্ড জরিমানার পরিকল্পনা করে। ব্রিটেনে এটাই হবে এ ধরনের সবচেয়ে বড় অঙ্কের জরিমানা।

তবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এ জরিমানার অঙ্ক কমানোর চেষ্টা করবে কিনা সে বিষয়ে এখনো কিছু বলেনি।

ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন এবং ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে আসার বিষয়ে গণভোটের ফলাফল প্রভাবিত হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

তথ্য অধিকার সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাটি আরও জানিয়েছে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি বিলুপ্ত হওয়া ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার সহযোগী সংস্থা এসসিএল ইলেকশনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার কথাও ভাবছে।

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কিভাবে হুমকির মুখে পড়তে পারে সে সংক্রান্ত কোনো ব্যাখ্যা ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবহারকারীদের কাছে ব্যাখ্যা করেনি।

এর পাশাপাশি সংস্থাটি ব্রিটেনের ১১টি রাজনৈতিক দলের কাছে চিঠি দিয়েছে যাতে তারা তাদের তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে এবং সেটি ঠিকমতো হচ্ছে কিনা তা নিরীক্ষা করে।

ব্রিটেনে ব্রেক্সিট প্রশ্নে গণভোটের সময় রাজনৈতিক প্রচারণায় জনগণের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষটি নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে।

এ তদন্ত শুরুর ১৬ মাস পরে ব্রিটেনের তথ্য কমিশনারের অফিস থেকে ফেসবুককে জরিমানার উদ্যোগ এসেছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার কাছে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের যেসব ব্যক্তিগত তথ্য ছিল সেগুলো যাতে তারা মুছে ফেলে সেটি ফেসবুক নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে ফেসবুকের নিয়ম-নীতির লঙ্ঘন হয়েছে বলে মনে তথ্য কমিশনারের অফিস।

তবে বন্ধ হয়ে যাবার আগে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা জানিয়েছিল যে ফেসবুকের কাছ থেকে তথ্য মুছে ফেলার অনুরোধ পাওয়ার পর তারা সব তথ্য মুছে ফেলেছে।
খবর বিবিসি

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ