অবশেষে সন্ধান মিললো নিখোঁজ ব্ল্যাকহোলের

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২১, ১৭:১৪

প্রতিটি ছায়াপথের কেন্দ্রেই স্বাভাবিক নিয়মে খুঁজে পাওয়া যায় একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল। যা পারতপক্ষে নির্ধারণ করে সেই ছায়াপথের আকার এবং স্থান-কাল নিয়ামককে। তবে পৃথিবী থেকে ৩০০ কোটি আলোকবর্ষ দূরের একটি গ্যালাক্সি দেখে প্রথমে তাজ্জব বনে গিয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। বিশালাকার সেই গ্যালাক্সির কেন্দ্রে নেই কোনো ব্ল্যাকহোল। সম্প্রতি সমাধান হলো এই রহস্যের। আর বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো খুঁজে পেলেন ভাসমান ব্ল্যাকহোল। যা চমকে দিয়েছে বিজ্ঞানীমহলকে।

অ্যাবেল-২২৬১। মহাকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল গ্যালাক্সি ক্লাস্টার নামে খ্যাত এই গ্যালাক্সিতেই ঘটেছে এমন ঘটনা। এই গ্যালাক্সি প্রায় ১০ লাখেরও বেশি আলোকবর্ষ অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত। যার ব্যাস আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি থেকে দশগুণ বড়। বেশ কয়েকবছর আগেই এই গ্যালাক্সি খুঁজে পাওয়া গেলেও, তার কেন্দ্রে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল খুঁজে পাননি বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি হাব স্পেস টেলিস্কোপ এবং সুবার স্পেস টেলিস্কোপের তোলা বেশ কিছু ছবি চমকে দেয় বিজ্ঞানীদের।

আসলে এই দূরবর্তী গ্যালাক্সির কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুতে স্থির নেই সেখানকার সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলটি। বরং গ্যালাক্সির মধ্যেই ভেসে বেড়াচ্ছে সেটি। কেন্দ্র থেকে প্রায় ২০০০ আলোকবর্ষ দূরে থেকে প্রদক্ষিণ করে যাচ্ছে গ্যালাক্সির গ্যালাকটিক সেন্টারকে। আর এর ওজন সূর্যের তুলনায় কয়েক লাখ কোটি বেশি।

কিন্তু এতদিন পর হঠাৎ কীভাবে হাবলের চোখে পড়ল এই ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ব? বিজ্ঞানীরা জানান, সম্প্রতি একটি নক্ষত্রকে গিলে ফেলে এই ব্ল্যাকহোলটি। দৈত্যাকার তারাটির রহস্যজনক মিলিয়ে যাওয়া নিয়েই সংগ্রহ করা শুরু হয়েছিল মহাজাগতিক তথ্য। আর সেখান থেকেই প্রকাশ্যে আসে এই ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ব।

বিজ্ঞানীদের অনুমান, বেশ কয়েক লাখ বছর আগে বড় মাত্রার কোনো বিস্ফোরণের সাক্ষী ছিল এই গ্যালাক্সিটি। যার কারণে গ্যালাক্সির গ্যালাকটিক সেন্টার থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলটি। পরে তা অন্য আরেকটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তৈরি করে একটি শক্তিশালী বায়োনারি। যা গ্যালাক্সির গ্যালাকটিক সেন্টারকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করে চলেছে এখনও।

আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্রে থাকা সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলটির নাম সিজাটেরিয়াস ‘এ’। এটি আমদের সৌরজগৎ থেকে প্রায় ২৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরে, যা সূর্যের চেয়ে প্রায় ৪০ লাখ গুণ ভারী। 

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ