কলকাতার টানা ৬ষ্ঠ হার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০১৯, ১১:০৭

মৌসুমের শুরুটা উড়ন্ত ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের। আসরের প্রথম ৫ ম্যাচের ৪টিতেই জিতেছিল বলিউড সুপারস্টার কিং খানের দল। হেরেছিল যে ম্যাচে, সেটিতে সুপার ওভার ভাগ্য যায়নি দীনেশ কার্তিক, আন্দ্রে রাসেলদের পক্ষে। এর শুধু এক-দুই ম্যাচ নয়, টানা ৬টি ম্যাচ গোমরা মুখে মাঠ ছাড়তে হলো কলকাতার সমর্থকদের। যার সবশেষটি ছিল বৃহস্পতিবার, তাও কি না ঘরের মাঠে। কলকাতার মাঠে খেলতে এসে পয়েন্ট টেবিলের তলানির দল রাজস্থান ছিনিয়ে নিয়েছে ৩ উইকেটের জয়, যা কি না কলকাতার টানা ষষ্ঠ পরাজয়।

অধিনায়ক দীনেশ কার্তিকের ঝড়ো ৯৭ রানের ইনিংসে ১৭৫ রানের লড়াকু পুঁজিই পেয়েছিল কলকাতা। দুই স্পিনার সুনিল নারিন ও পীযুষ চাওলা ওভারে ছয়ের কম রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে লড়াই জমিয়েছিলেন বেশ। কিন্তু পেসাররা পারলেন না সঙ্গ দিতে। তাই তো ৪ বল ও ৩ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে গেছে স্টিভেন স্মিথের দল।

তবে জয়টা যত সহজ মনে হচ্ছে, তত সহজ ছিল না আইপিএলের প্রথম আসরের চ্যাম্পিয়নদের জন্য। রান তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৫.২ ওভারেই ৫৩ রান করে ফেলেন অজিঙ্কা রাহানে এবং সাঞ্জু স্যামসন। আগের ম্যাচে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড হারানো রাহানে খেলেন ২১ বলে ৩৪ রানের ইনিংস। এমন শুরুর পরেও ১০ রানের ভেতরে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রাজস্থান। পীযুষ চাওলার লেগস্পিনে বোল্ড হওয়ার আগে ১৫ বলে ২২ রান করেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান স্যামসন। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথকে (৬ বলে ২) বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখান কলকাতার তারকা অলরাউন্ডার সুনিল নারিন।

ব্যর্থ হন ইংলিশ অলরাউন্ডার বেন স্টোকস (১০ বলে ১১) এবং ভারতীয় অলরাউন্ডার (১১ বলে ১১)। লেগস্পিনার শ্রেয়াস গোপাল টানা তিন চারের মারে ৯ বলে ১৮ রান করে আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু ১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি সাজঘরে ফেরত যান দলীয় ১২৩ রানের মাথায়।

তখনও জয়ের জন্য ২৮ বলে ৫৩ রান করতে হতো রাজস্থানকে। উইকেটে তখন ১৭ বছর বয়সী ডানহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার রিয়ান পরাগ এবং ক্যারিবীয় বংশোদ্ভূত ইংলিশ পেস অলরাউন্ডার জোফ্রা আর্চার। দুজন মিলে মাত্র ২১ বলে যোগ করেন ৪৪ রান।

এর মধ্যে সুনিল রানের করা ১৭তম ওভার থেকে ১৫ এবং প্রাসিদ কৃষ্ণার ১৮তম ওভার থেকে ১৩ রান নিয়ে দলের জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেন আর্চার ও পরাগ। দুই ওভারে যখন ১৮ রানের প্রয়োজন বল হাতে আসেন আন্দ্রে রাসেল।

ওভারের প্রথম তিন বলে কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ১ রান করে নেন দুই ব্যাটসম্যান। চতুর্থ বলেই ছক্কা হাঁকান পরাগ। সমীকরণ নেমে আসে ৮ বলে ৯ রানে, ৩০ বলে ৪৭ রানে পৌঁছে যান তিনি। আইপিএল ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিটা পরের বলে পেয়েই গেছিলেন পরাগ।

রাসেলের করা বাউন্সারটি তার ব্যাট ছুয়ে চলে যায় ফাইন লেগ বাউন্ডারিতে, চারের সংকেত দেন আম্পায়ার ইয়ান গোল্ডও। কিন্তু তার আগেই ভারসাম্য হারিয়ে ব্যাট দিয়ে স্টাম্প ভেঙে ফেলায় হিট উইকেটে পরিণত হন পরাগ, সমাপ্তি ঘটে ৫ চার ও ২ ছয়ের মারে খেলা ৩১ বলে ৪৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটির।

পরাগের বিদায়ের পর শেষ ওভারে ৯ রান প্রয়োজন ছিল রাজস্থানের। প্রাসিদ কৃষ্ণার প্রথম বলে ফাইন লেগ দিয়ে ৪ এবং পরের বল এক্সট্রা কভার দিয়ে ছক্কা মেরে দুই বলেই ম্যাচ শেষ করে দেন আর্চার। বল হাতে কিপটে স্পেল করা আর্চার ব্যাট হাতে খেলেন ২টি করে চার-ছক্কার মারে ১২ বলে ২৭ রানের ম্যাচ জেতানো ক্যামিও।

রাজস্থানের এ জয়ের পর পয়েন্ট টেবিলের তিন দলের অবস্থান হলো সমান্তরাল। সমান ১১টি করে ম্যাচ খেলে ৮ পয়েন্ট এখন কলকাতা, রাজস্থান এবং ব্যাঙ্গালুরুর ঝুলিতে। নেট রানরেটের কারণে তিন দলের মধ্যে ওপরে কলকাতা এবং তলানিতে ব্যাঙ্গালুরু।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ