করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে ফের সাধারণ ছুটি

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২০, ২২:১৪ | আপডেট : ০৩ জুন ২০২০, ২২:২৭

দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে গেলে সরকার ফের সাধারণ ছুটিতে ফিরে যাবে। এ জন্য আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত সবকিছু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কার মধ্যেই টানা ৬৬ দিনের ছুটি শেষে গত ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন নির্দেশনা মানা সাপেক্ষে সীমিত পরিসরে সরকারি-বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্ধ থাকা গণপরিবহনও (বাস, লঞ্চ, ট্রেন) চালু হয়।  কিন্তু করোনা পরিস্থিতির উন্নতি নেই।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা জানান, এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও শ্রমজীবী, গরিব, খেটে খাওয়া, স্বল্প আয়ের মানুষের জীবিকা এবং দেশের অর্থনীতির কথা বিবেচনা করে সাধারণ ছুটি ও লকডাউন তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে ও ভয়ঙ্কর পর্যায়ে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে অন্য কোনো উপায় থাকবে না। বাধ্য হয়ে পুনরায় সাধারণ ছুটি ও লকডাউন দেওয়া হবে। সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এমন সিদ্ধান্তই রয়েছে।

তারা জানান, এই সময়ে করোনা সংক্রমণের প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য পরীক্ষা আরও বাড়ানো হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে ওই নীতিনির্ধারকরা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের একজন মন্ত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আগামী এক সপ্তাহ কঠোরভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। সংক্রমণের এই মাত্রা আরও বাড়লে পুনরায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা ও লকডাউন দিয়ে তা কার্যকর করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যেতে থাকলে ফের ছুটি দেয়া হবে কিনা- জানতে চাইলে আজ বুধবার (৩ জুন) দুপুরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, আমরা যদি দেখি আমাদের ব্যাপক অবনতি ঘটছে তাহলে তো আমাদের (ছুটিতে যাওয়া ছাড়া) বিকল্প কিছু থাকবে না। আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডগুলো চালিয়ে নেয়ার জন্যই এটা খুলে দেয়া হলো।

তিনি বলেন, মানুষ যাতে মাস্ক পরে নিরাপদ দূরত্বে থাকে, আমরা সেটা বলছি। যখন মানুষ এটা করতে ব্যর্থ হবে এবং এটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে। তখন তো ঘরে থাকা ছাড়া উপায় থাকবে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি যে ৮৫ শতাংশ করোনা আক্রান্ত রোগী ঘরে বসেই চিকিৎসা নিতে পারবে। সংক্রমণ যাতে না বাড়ে সেজন্য আমরা ব্যাপকভাবে চেষ্টা করছি। ছোট দেশ বিশাল জনসংখ্যা, ম্যানেজ করা কঠিন হচ্ছে। আমরা পুলিশ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করছি ইতোমধ্যে।

মানুষের চলাচল বাড়লে করোনা সংক্রমণ আরও বাড়বে জানিয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন স্টেজ আছে, আস্তে আস্তে ছড়াতে ছড়াতে শেষের দিকে হয়তো বেশি ছড়াবে। এর চেয়েও সামনে বাড়বে হয়তো। বেড়ে আবার নামা শুরু করবে।

সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে সরকারি দফতরগুলোকে অফিস করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আমরা ১৫টি দিন দিয়েছি। আজ চতুর্থ দিন যাচ্ছে। প্রথম দিনের চেয়ে আরও কম সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে অফিস করছি। আমাদের ম্যাসেজটা অলরেডি সব জায়গায় পৌঁছে গেছে। অফিস টাইমটাও খুবই ফ্লেক্সিবল। যার যখন কাজ শেষ হবে দ্রুত চলে যাবে। যদি কেউ ২ ঘণ্টায় কাজ শেষ করতে পারে সে চলে যাবে। যদি না এসে বাসায় বসে করতে পারে করে দেবে। কোনো কিছু আটকাবে না। কিন্তু মুভমেন্টটা কম থাকবে।

এদিকে সোমবার (০১ জুন) সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে বলেন, আমাদের অসচেতনতা এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানায় পরিস্থিতি যদি আরও অবনতি হয় এবং তা যদি জনস্বার্থের বিপরীতে চলে যায়, তাহলে সরকারকে বাধ্য হয়ে আবারো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মার্চ মাসের শুরুতে দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী প্রথম ধরা পড়ে। পরিস্থিতি ক্রমে অবনতির দিকে যেতে থাকলে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়তে থাকে। সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী গত ৩০ মে ছুটি শেষ হয়।

দীর্ঘ ছুটির কারণে ইতিমধ্যে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমেছে। কষ্টে পড়েছে নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। তাই এখনও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না থাকলেও জীবিকা ও অর্থনৈতিক কারণে ছুটির পথ থেকে সরে এসেছে সরকার।

এবিএন/জনি/জসিম/জেডি

এই বিভাগের আরো সংবাদ