ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ: একজন ভাষাতত্ত্ববিদ ও জ্ঞানতাপসের গল্প

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৮, ১৪:৪৪

ঢাকা, ১২ জুলাই, এবিনিউজ : জন্ম ১০ জুলাই ১৮৮৫ সাল; ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অবিভক্ত চব্বিশ পরগণা জেলার পেয়ারা গ্রামে। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক। বলা হচ্ছেÑ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র কথা। ১৯১০ সালে সিটি কলেজ, কলকাতা থেকে সংস্কৃতে সম্মান-সহ বিএ এবং কলকাতা বিশ^বিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক দর্শনতত্ত্বে এমএ (১৯১২) ডিগ্রি অর্জন। পিএইচডি ডিগ্রি (১৯২৫) লাভ করেন সরবোন বিশ^বিদ্যালয়, প্যারিস থেকে। পড়াশোনা শেষ করার পূর্বেই কিছুকাল তিনি যশোর জেলা স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। পরে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ^বিদ্যায়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই বাংলা বিচিত্রা’র প্রতিবেদন।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে যিনি নিবিড় গবেষণার মাধ্যমে উন্নততর স্তরে নিয়ে গিয়েছেন তিনি জ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি একাধারে লেখক, গবেষক, শিক্ষক, বহুভাষাবিদ ও মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আত্মপ্রবঞ্চনা, ভ-ামি ও কৃত্রিমতাকে তিনি কখনোই প্রশ্রয় দিতেন না এবং নিজের মধ্যে ধারণও করতেন না। সারাজীবন কীভাবে বাংলাভাষা ও সংস্কৃতি বিকাশে নিজেকে নিবেদিত রাখতে হয় তার উজ্জ্বল উদাহরণ তিনি। যে কারণে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর প্রসঙ্গ তুললেই আমাদের চোখের সামনে দিগন্তপ্রসারিত করে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে একজন প্রকৃত জ্ঞানতাপসের প্রতিকৃতি। তাকে বলা হতো ‘চলন্ত বিশ^কোষ’। কারণ এমন কোনো বিষয় নেই, যা তিনি সমাধান দিতে পারতেন না। মূলত তিনি ছিলেন একজন ভাষাবিজ্ঞানী এবং বাংলা সাহিত্যের গবেষক। তিনি ঢাকা, রাজশাহী এবং কলকাতা বিশ^বিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন। তার উচ্চমার্গীয় পা-িত্য, নিরলস গবেষণা এবং নবতর চিন্তার মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যের ভা-ারকে সমৃদ্ধ করেছেন। বাঙালির ভাষাকে জ্ঞানসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ও অবদান সবচেয়ে বেশি। তার মতো নিরহঙ্কার পা-িত্যের আগমন বাঙালির জাতীয় জীবনে খুব কমই ঘটেছে। তার পা-িত্য, গভীর গবেষণা, ভাষাচর্চা ও তার জীবনাদর্শ অবশ্য অনুকরণীয়।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নাম উচ্চারিত হলেই আচকান-পায়জামা পরিহিত মাথায় উঁচু টুপি, মুখে দীর্ঘ শ্মশ্রুশোভিত এক মহান পুরুষের উজ্জ্বল সৌম্যমূর্তি চোখের সামনে ভেসে ওঠেÑ যার পা-িত্যের গভীরতা মহাসাগরের মতো, যার সম্মানের উচ্চতা হিমালয়ের মতো, আর তার ব্যক্তিত্ব প্রাচীরের মতো সুদৃঢ়। তিনি বাঙালির কাছে চিরচেনা এক প্রিয় নাম। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য তার অপরিসীম অবদানে সমৃদ্ধ।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সাদামাটা সরল জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। কিন্তু তার চিন্তার জায়গাটি ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তার সময়ে যে কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে রাজনীতিতে এ কে ফজলুল হক ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। সাহিত্য ও সংগীতে কাজী নজরুল ইসলাম, তিনি তাদের মধ্যে একজন। তিনি ছিলেন যুগের ও সময়ের নায়ক। শিক্ষা, গবেষণা, ভাষা ও জ্ঞানচর্চায় তার সমকক্ষ মুসলিম সমাজে আর ছিলেন না। শিক্ষক হিসেবে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীকে নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন। জ্ঞানের আলো জ¦ালিয়েছেন প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর মন ও মননে। জীবিতকালেই সাত পুরুষের শিক্ষক হিসেবে অনেকের শ্রদ্ধাভাজন হয়েছেন তিনি। বেদ পুরাণ থেকে হাদিস কোরআন, আর্য জাতির প্রাচীনতম প্রেমকাহিনি থেকে মধ্যযুগের রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ইউসুফ-জুলেখার প্রেমকাহিনি, ভাষার ইতিহাস থেকে সাহিত্যের ইতিহাস, সিংহলি ভাষা থেকে তিব্বতি ভাষা, গীতার পাঠাস্তর থেকে চর্যার পাঠাস্তর, গো বধের উৎপত্তি থেকে পুঁথিসাহিত্যের উৎপত্তি, আরবি বর্ণমালা থেকে বাংলা বর্ণমালা, বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি প্রভাব থেকে উর্দু-হিন্দি প্রভাব, চর্যাপদের কবি কাহ্নপার কাল নির্ণয় থেকে চ-ীদাসের কাল নির্ণয়, ভাষার উৎপত্তি থেকে ভবিষ্যতের মানুষ আরও অজস্র বিষয়ে লিখে ও গবেষণা করে বাঙালির জ্ঞানভা-ারকে সমৃদ্ধ করেছেন। তার রচনাশৈলী প্রাঞ্জল, তথ্যভা-ারে সমৃদ্ধ, তিনি সবসময় বাগাড়ম্বর পরিহার করে চলতেন। কঠিন কথা সহজ করে বলার ক্ষেত্রে তার জুড়ি মেলা ভার।

অনেক প্রাচীন গল্পকথাকে তিনি আধুনিককালের উপযোগী করে রূপান্তর করে দেন। গবেষণামূলক রচনা ছাড়াও তার সৃজনশীলতা কবিতা, গল্প ও নাটিকা রয়েছে। তিনি অজস্র নাট্যপুস্তক লিখেছেন যেগুলো দেশে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তার অনেক গবেষণামূলক রচনাই পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত। তার ইংরেজি ভাষায় রচনাগুলো মূলত গবেষণাধর্মী। তিনি তার জীবদ্দশায় বহু ভাষণ-অভিভাষণ দিয়েছেনÑ যা এদেশের গণমানুষের চিন্তাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। ভাষা আন্দোলনে তার বক্তব্য, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তার বক্তব্য, বাঙালির জাতিসত্তা নির্মাণে তার চিন্তা এদেশের সামাজিক ইতিহাসের একেকটি অধ্যায়কে উন্মোচিত করেছে। বাঙালির ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে গোড়াপত্তনকারীদের তিনিও একজন। বহুভাষাবিদ এই প-িত দার্শনিক বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সমৃদ্ধিতে গবেষক হিসেবে যেমন উজ্জ্বল কৃতিত্বের অধিকারী, ঠিক তেমনি বাংলাদেশকে গভীর আবেগ দিয়ে ভালোবাসতেন। তিনি মনে করতেন বাঙালি বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।

আমাদের ভাষা সমস্যা প্রবন্ধের শুরুতেই তিনি বলেছেনÑ ‘আমরা বাংলাদেশি’। ১৯৪৭ সালের প্রারম্ভে তিনি ঘোষণা দিলেন ‘বঙ্গদেশ আমাদের দেশ’। তারপর ব্যাখায় বললেন, ‘আমাদের কথাবার্তার, ভয়-ভালোবাসার চিন্তা-কল্পনার ভাষা বাংলা। তাই আমাদের মাতৃভাষা বাংলা।’ এই সরল উক্তিতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মাতৃভাষা প্রেমের মাধুর্য লুকিয়ে আছে। ১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে তিনি কালজয়ী উক্তি করেছিলেন। বলেছিলেন, ‘আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য, আমরা বাঙালি। এটি একটি আদর্শের কথা নয়। এটি একটি বাস্তব কথা। মা-প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারায় ও ভাষায় বাঙালিত্বের এমন ছাপ মেরে দিয়েছে যে তার মালা-তিলক-টিকিতে কিংবা টুপি-লুঙ্গি-দাড়িতে ঢাকবার জোটি নেই।’ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর পক্ষেই কেবল সম্ভব এমন উক্তি করা। বাঙালিত্বের স্বপক্ষে এ উক্তি করে তিনি সর্বপ্রথম পাকিস্তানের শোষণবাদী সাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর চপেটাঘাত করেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের যারা গোড়াপত্তন করেছিল, তিনি তাদের অন্যতম। বাঙালির ভাষা আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।
ভাষা আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামে ও সাফল্যে প্রতিষ্ঠিত আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি। এই প্রতিষ্ঠানটির স্বপ্নদ্রষ্টা এবং প্রস্তাবক ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। তিনি প্রস্তাব করেছিলেনÑ ‘আমাদের একটি একাডেমি (পরিষদ) গড়তে হবে, যার কর্তব্য হবে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষা থেকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাহিত্য শ্রেষ্ঠ গ্রন্থাবলির অনুবাদ বাংলায় প্রকাশ। (বশির আল-হেলাল, বাংলা একাডেমির ইতিহাস, বাংলা একাডেমী, ১৯৮৬, পৃষ্ঠা-৯) বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠা ও বিকাশের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। এদেশের অনেকেই রয়েছেনÑ যারা ভাষাসংগ্রামে অংশগ্রহণ না করেও নিজেদের ভাষাসৈনিক হিসেবে দাবি করেন। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ তাদের ঘৃণা করতেন। তিনি কখনও আত্মপ্রতারণা, মিথ্যা, ভাঁওতাবাজি, ভ-ামিকে প্রশ্রয় দিতেন না।

আমাদের যে ক’জন মনীষী বহির্বিশে^ খ্যাতি অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ অন্যতম। তার জন্ম পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার পেয়ারা গ্রামে। জন্ম তারিখ ১০ জুলাই ১৮৮৫ সাল। তারা ছিলেন পীর বংশের লোক। তার পিতা মফিজউদ্দিন আহমদের কর্মস্থল ছিল হাওড়া। মাতা নুরুন্নেসা কলকাতার চব্বিশ পরগনার চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাতের অন্তর্গত দেগঙ্গা এলাকার ভাসলিয়া গ্রামের কাজী আবদুল লতিফের কনিষ্ঠা কন্যা। তিনি যে পরিবারে জন্মেছিলেন সে পরিবারে প্রচলিত ছিল শিক্ষাদীক্ষার ঐতিহ্য। তার ডাকনাম ছিল সদানন্দ। তখনকার দিনে অনেক মুসলমান পরিবারে ছেলে-মেয়েদের ইসলামি নামের সঙ্গে থাকত একটি বাংলা নামও। তার আকিকার সময় নাম রাখা হয়েছিল মুহম্মদ ইব্রাহীম। পরবর্তীকালে তার প্রকৃত নাম হয় জননীর স্বপ্নে প্রাপ্ত নাম মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

ছোটবেলা থেকেই শহীদুল্লাহ ছিলেন মেধাবী ও বিচক্ষণ। অতি অল্প বয়সেই তিনি বাড়িতে আরবি ও ফারসি ভাষা শিখে ফেলেন। যা বড় হয়ে কাজে আসে তার। তিনি প্রথমে ভর্তি হন হাওড়া ইংরেজি স্কুলে। ১৮৯৯ সালে বার্ষিক পরীক্ষায় তিনি রূপার পদক অর্জন করেন। অতঃপর হাওড়া জেলা স্কুল থেকে ১৯০৪ সালে সাফল্যের সাথে এনট্রান্স পাস করেন। এরপর ভর্তি হন বাংলার বিখ্যাত প্রেসিডেন্সি কলেজে। ১৯০৬ সালে অত্র কলেজ থেকে তিনি এফএ পাস করেন। টাকার প্রয়োজনে ১৯০৮-০৯ সালে যশোর জেলা স্কুলে শিক্ষকতা করেন। এরপর ১৯০৯-১০ সেশনে কলকাতা সিটি কলেজ হতে সংস্কৃতিতে অনার্সসহ বিএ পাস করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ১৯১২ সালে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এমএ পাস করেন কলকাতা বিশ^বিদ্যালয় থেকে।

তিনি ১৯১৫ সালে সীতাকু- হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কয়েক মাস চাকরি করেন। মাঝখানে তিনি ১৯১৫-১৯ সাল পর্যন্ত বশিরহাট আইন ব্যবসায় নিয়োজিত ছিলেন। সেখানে তিনি আইন পেশায় সুনাম ও খ্যাতি অর্জন করেন। পূর্ব বাংলায় ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় স্থাপিত হলে ১৯২১ সালে বাংলা বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে একাধারে চার বছর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯২৪ সালে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের খ-কালীন অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার জ্ঞান জীবনদর্শন বাঙালির বহুমাত্রিক জীবনকে অগ্রসর করার পাথেয়। শিক্ষকতা তার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।

তিনি ১৯২৮ সালে প্যারিস গমন করেন। সেখানকার সরবোন বিশ^বিদ্যালয়ে বৈদিক ভাষা, প্রাচীন পার্সি ও তিব্বতি ভাষা গবেষণা করেন। ওই বিশ^বিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি দেশে চলে আসেন এবং ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তিনি ১৯৩৭ সালে উক্ত বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান হন। এখানে তিনি ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত অধ্যাপক ছিলেন। একই সালে তিনি রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে চলে যান। এই বিশ^বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব নেন তিনি। তার জ্ঞানের ও পা-িত্যের সুনাম সর্বভারতে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি ১৯৬১-৬৪ সালে বাংলা একাডেমির ইসলামী বিশ^কোষ প্রকল্পের অস্থায়ী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলা ব্যাকরণের বিভিন্ন নিয়ম-নীতি ও গঠন প্রণালির উদ্ভাবন করেন। বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণের শ্রেণিবিন্যাসে তিনি যথেষ্ট অবদান রাখেন।

মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ‘বৌদ্ধগণের ভাষা’ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ। এই প্রবন্ধে উত্থাপিত যুক্তির মাধ্যমে তিনি চর্যাপদের ভাষা-সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান ঘটাতে চেয়েছেন। চর্যার ভাষণ নিয়ে নানা মত রয়েছে। কেউ বলেন এটা কোনো ভাষা নয়, এটা একটি কৃত্রিম খিচুড়ি ভাষা, কেউ বলেছেন, এটা অপভ্রংশ, কেউ বলেছেন হিন্দি, কেউ বলেছেন মৈথিলী। আবার কারও মতে উড়িষ্যা বা আসামীয়। ড. শহীদুল্লাহ এক্ষেত্রে সবপক্ষের মতের পুনর্বিচার করেছেন। সাহিত্যিক জীবনে মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বড় পরিচয় তিনি ভাষাতত্ত্ববিদ। তার বহুল আলোচিত প্রবন্ধ মাগধী প্রাকৃত ও বাংলা। এই প্রবন্ধে বাংলা ভাষার উৎপত্তি সম্পর্কে তার বহুল বিতর্কিত মত ব্যক্ত করেছেন। তিনি গৌড়া প্রাকৃত যেথা বাংলা ভাষার উৎপত্তি নির্ণয় করতে গিয়ে পূর্ববর্তী গ্রীয়ার সন, হর্নলের কথা বর্ণনা করেছেন। পাশাপাশি সাধু ভাষা কেন মধ্যবঙ্গের উপভাষাকে ভিত্তি করে গড়ে উঠল, তার কারণ নির্ণয় করেছেন। সাধু ভাষায় আবির্ভাব সম্পর্কে তার এ মত খুবই মূল্যবান। তার মতে বাংলা ভাষার শুরু হয়েছে ৬৫০ খ্রিস্টাব্দ থেকে। তবে তার পূর্ববর্তী প-িত কেউ এমন মত পোষণ করেনি।

এবিএন/মাইকেল/জসিম/এমসি

এই বিভাগের আরো সংবাদ