নেইমার কি পাকা অভিনেতা নাকি সবচেয়ে বেশি ফাউলের শিকার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৮, ১১:৪৬

ঢাকা, ০৮ জুলাই, এবিনিউজ : ব্রাজিলের সুপারস্টার নেইমারকে নিয়ে এবারের বিশ্বকাপে বিতর্ক কম হয়নি। প্রতিদিনই নানা কারণে সংবাদ হয়েছেন তিনি।

কিন্তু ইউরোপীয় গণমাধ্যমের বিচারে, নেইমার হচ্ছেন আসলে পাকা অভিনেতা, খেলার মাঠে পড়ে গিয়ে মারাত্মক চোট পাওয়ার অভিনয়ে তার জুড়ি মেলা নাকি ভার।

ব্রাজিল এখন ছিটকে পড়েছে বিশ্বকাপ থেকে। কিন্তু তাই বলে নেইমারকে নিয়ে আলোচনা থেমে নেই।

ইন্টারনেটে তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের শেষ নেই। এ রকম একটি বিদ্রুপাত্মক পোস্ট এক কথিত ফুটবল স্কুল নিয়ে, যেখানে নাকি ছেলেদের ডাইভ দিয়ে পড়ে গিয়ে কিভাবে চিৎকার করতে হবে তার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়!

ফ্রান্সের খেলোয়াড় এবং অভিনেতা এরিক ক্যানটোনা ইউরোস্পোর্ট চ্যানেলের বিশেষজ্ঞ কর্ণারে এ রকম কিছু বিদ্রুপাত্মক ভিডিও আপলোড করেছেন। এ রকম একটি ভিডিওতে তিনি নেইমারকে তুলনা করেছেন ‘চার চাকা লাগানো স্যুটকেসে’র সঙ্গে, যেটি সহজে এই চাকার ওপর ঘুরতে পারে।

অন্যদিকে মারাডোনার মতো কিংবদন্তি নেইমারের সমালোচনা করেছেন যেভাবে অন্য কোন খেলোয়াড়ের ছোঁয়া লাগা মাত্র নেইমার যেভাবে ব্যাথা পাওয়ার অভিনয় করেছেন।

তবে মনে রাখতে হবে নেইমার হচ্ছে ব্রাজিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।

ব্রাজিলের জন্য টুর্নামেন্টে তিনি দুটি গোল দিয়েছেন। ২৭ গোলের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন। এবং ১৩ বার গোল মুখে শট নিয়েছেন।

তার পরিসংখ্যানের দিকে যদি মনোযোগ দেয়া যায়, তা হলে কথিত নাটুকেপনার বাইরে আরও অনেক মিশ্র চিত্রই কিন্তু আপনি দেখতে পাবেন।

সুইস টিভি চ্যানেল আরটিএস স্পোর্টস সম্প্রতি একটি সমীক্ষা প্রকাশ করেছে। এতে তারা দাবি করছে নেইমার এবারের টুর্ণামেন্টে ব্রাজিলের চারটি ম্যাচে নাকি মোট ১৩ মিনিটি ৫০ সেকেন্ড মাটিতে বসে কাটিয়েছে। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাদের প্রথম ম্যাচটিও রয়েছে।

এ পরিসংখ্যান এর পর আরও অনেক গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়। শেয়ার করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

সবচেয়ে বেশি ফাউলের শিকার?
তবে আরেকটি তথ্য হজম করার জন্য এক মিনিট সময় নেয়া যাক। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে নেইমারের বিরুদ্ধেই কিন্তু এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ফাউল হয়েছে! মোট ২৬ বার!

লিওনেল মেসি বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চাইতে অনেক বেশি। মেসির বিরুদ্ধে ফাউল হয়েছে ১৫ বার, আর রোনালদোর বিরুদ্ধে ১৪ বার।

পরিসংখ্যান ওয়েবসাইট ফাইভ থার্টি এইট ডটকম দাবি করছে, গত তিনটি বিশ্বকাপের পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিলে আসলে খেলার মাঠে নেইমারকেই সবচেয়ে বেশি তাড়া করা হয়েছে।

প্রতি খেলায় গড়ে তার বিরুদ্ধে ফাউল হয়েছে ৫ দশমিক দুই। অথচ নেইমার এ নিয়ে মাত্র দ্বিতীয় বার বিশ্বকাপ খেলেছেন। রোনালেদো আর মেসি বিশ্বকাপ খেলেছেন চার বার করে।

এর আগের বার ব্রাজিল বিশ্বকাপে নেইমারের বিরুদ্ধে ফাউল হয়েছিল ১৮ বার। মেসির বিরুদ্ধেও একই সংখ্যায়। তবে মেসি গেল বিশ্বকাপে খেলেছিলেন ৭টি ম্যাচ। আর নেইমার ৫ম ম্যাচেই এমন গুরুতর আঘাত পান যে, মাটিতে পড়ে যান। তার পিঠে আঘাত লেগেছিল কলম্বিয়ার যুনিগার হাঁটুর গুঁতো লেগে।

মেরুদণ্ডের একটি হাড়ে সাংঘাতিক আঘাত পান, তবে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গেছেন। এটি তার খেলোয়াড় জীবনের সমাপ্তি টেনে দিতে পারত। 

খেলার মাঠে কী ঘটে তা দেখা এবং এর মানে বোঝার নানা উপায় আছে। আমি নিজে বার বার সহিংস ফাউলের শিকার হয়েছি আমার খেলোয়াড় জীবনে, বলছেন সাবেক বর্ষসেরা বিশ্ব ফুটবলার এবং বিশ্বকাপ জয়ী তারকা রোনালদো। তার মতে, ‘যারা তার ওপর লাথি মারছে তাদের হাত থেকে নেইমার নিজেকে রক্ষা করছেন মাত্র।’

আর রেফারিরাও এখানে নেইমারকে রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

নেইমারের পক্ষে সবচেয়ে জোরালোভাবে দাঁড়িয়েছে তাদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার একটি সংবাদপত্র ‘ওলে’। এই পত্রিকার বিরুদ্ধেই ব্রাজিলবিরোধী ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে উস্কানি দেয়ার অভিযোগ আছে।

গত দোসরা জুলাই ওলে তাদের ওয়েবসাইটে একটি ভিডিও প্রকাশ করে যেখানে নেইমার এ পর্যন্ত যত শারীরিক আঘাতের শিকার হয়েছেন, তা একসঙ্গে দেখানো হয়েছে।

ডিয়েগো মাসিয়াস বলেন, ‘হ্যাঁ, নেইমার অনেক সময় বাড়িয়ে দেখায় এবং তার নাটুকেপনা তার বিপক্ষেই যায়।’

‘কিন্তু সব দলই কিন্তু একটার পর একটা নেইমারের বিরুদ্ধে লেগে আছে। খেলার মাঠে তাকে ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে, সারাক্ষণ তাড়া করা হচ্ছে।’
সূত্র : বিবিসি

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ