সৌদিতে নারী শ্রমিক: যা বলছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:৪৮

সৌদি আরবে বাংলাদেশী নারী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের কোন ধরণের অভিযোগ আসলে তা তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলছে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশী নারী শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কিছু সংগঠণ সম্প্রতি সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধের দাবী তুলে আসছে। তবে সরকার বলছে, শ্রমিকদের সুরক্ষার দিকেই তারা নজর দিচ্ছেন।

রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

রিয়াদে সৌদি আরবের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির সভা শেষে এই সংবাদ সম্মেলন করা হল।

এদিকে এ সম্পর্কিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যেসব নারী প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আছে তারা ফিরে না আসা পর্যন্ত রিক্রুটিং এজেন্সি তাদের আবাসন ও অন্যান্য দায়িত্ব বহন করবে।

সেই সঙ্গে নারী কর্মী যতদিন কর্মরত থাকবে ততদিন তার দায়-দায়িত্ব বাংলাদেশ ও সৌদি রিক্রুটিং এজেন্সি বহন করবে।

নারী কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এ সংক্রান্ত আইটি প্ল্যাটফর্মে কর্মীর বিস্তারিত তথ্য, সৌদি ও বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সি এবং নিয়োগকর্তার তথ্য থাকবে।

তবে সেই প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাপ্রুভাল থাকবে কিনা সেবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া যেসব নারী কর্মী কাজ ত্যাগ করে পালিয়ে রয়েছেন তাদেরকে পুলিশ নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তর করবে না বলেও জানানো হয়।

নারী কর্মিরা তাদের কাজের মেয়াদ শেষ করে দেশে ফিরে আসার দায়িত্ব রিক্রুটিং এজেন্সির থাকবে এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস ও সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে।

আর কেউ যদি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবার কাজ করতে চান সেক্ষেত্রে অবশ্যই চুক্তি নবায়ন করতে হবে। তবে এই নবায়ন অবশ্যই বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুমোদিত হতে হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয় যে, সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবীমা নেই। অসুস্থ্য কর্মীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, পর্যাপ্ত পরিমাণে স্বাস্থ্যবীমা করার জন্য নিয়োগকর্তাদের বাধ্য করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নেবে বলেও জানানো হয়।

এছাড়া অভিযোগ থাকলে সৌদি শ্রম আদালতে মামলা করার পদ্ধতি আরো সহজ করা হবে বলেও আশ্বস্ত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সৌদি আরবে বর্তমানে ২ লাখ ৯৩ হাজার নারী শ্রমিক রয়েছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ফেরত এসেছে। এই মুহূর্তে ২০০ জন নারী স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফেরত আসতে চায়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা বলেন, এদেরকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

৩৪ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগ গুলো তদন্ত করে তাদেরকেও ফেরত নিয়ে আসা হবে বলেও জানান মিস্টার রেজা।

তিনি বলেন, "দূতাবাসকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে কেস টু কেস তদন্ত করে আমাদের কাছে তথ্য পাঠাতে। এই চেইনের মধ্যে যারাই এটার সাথে জড়িত থাকুক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।"

সম্প্রতি বছরগুলোতে সৌদি আরব থেকে নারী শ্রমিক ফেরত আসার এবং সেখানে বিভিন্ন ধরণের নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো বন্ধের দাবি ওঠে।

বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক বলেছে, সেখানে ধর্ষণসহ নানা ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে এবছর ৯০০ জনের মতো বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মি দেশে ফেরত এসেছে।

ফেরত আসা নারী শ্রমিকরা ধর্ষণসহ নানাভাবে নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগ করছেন। সংস্থাটি আরও বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে নারী শ্রমিকদের মৃতদেহ দেশে আসার সংখ্যাও বেড়েছে।

এ বছর সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মির ৪৮ জনের মৃতদেহ দেশে আনা হয়। তাদের মধ্যে ২০ জনই সৌদি আরবে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আত্মহত্যা করেছেন। বিবিসি

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ