ডেঙ্গুজ্বর : এর মৌসুম কি দীর্ঘায়িত হবে?

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০১৯, ১০:৪২

ডেঙ্গুর প্রকোপ কমার কোনো লক্ষণ এখনো নেই। সরকারের দেওয়া হিসাবেই বলা হচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৭০৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এর মধ্যে শনিবার জানানো হয়, এ মাসের ১৭ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতলে ভর্তি রোগীর যে সংখ্যা তা জুলাই মাসের সংখ্যার দ্বিগুণ।

আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবার ডেঙ্গু মৌসুম দীর্ঘায়িত হবে কিনা?

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের গবেষণা বলছে, জুলাই মাসে রোগীর সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ২৫৩ জন, যা আগস্ট মাসের ১৭ তারিখ পর্যন্ত হয়েছে ৩৩ হাজার ১৫ জন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হওয়ার কারণে উদ্বেগ অনেক বেশি।

কিন্তু ডেঙ্গুর মৌসুম দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৯৫৩ সালের পর এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তার কারণে বছরের শুরুতে এডিস মশার ঘনত্ব অনেক বেড়েছে। সেটা ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত আরও বেড়েছে। ফলে জুন-জুলাইতে বাংলাদেশে এডিস মশার একটি বড় কমিউনিটি ডেভেলপ করেছে। আর ডেঙ্গু ভাইরাস যেহেতু ঢাকায় আগে থেকেই ছিল, সেটা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডেঙ্গুর এখন যা পরিস্থিতি, তার থেকে খুব বেশি বাড়বে বলে আমার মনে হয়না। তবে এটি খুব কমে যাবে এটাও বলা যাবে না।’

ডেঙ্গু না বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি সরকারের নেয়া নানা রকম উদ্যোগ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াকে কারণ মনে করেন।

যদিও সরকারের মশা মারার ওষুধ আনা এবং বিতরণ নিয়ে নানা রকম সমালোচনাও রয়েছে।

তবে বাংলাদেশে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে। এর মধ্যে জুলাই মাসের শেষের দিকে ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যেতে শুরু করে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্ত রোগীদের প্রায় সবাই ঢাকা থেকে গেছেন, কিংবা তাদের মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়েছে এমনটা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা বরগুনার বাসিন্দা ময়না আক্তার গত ৫ দিন থেকে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

এক মাসের মধ্যে ময়না আক্তারের পরিবারের অন্তত ১০ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন।

ময়না আক্তার বলেন, ‘আমার এক ভাই ডেঙ্গুতে মারা গেছে, তাকে দেখতে ঢাকা থেকে তার শ্যালক আর তার স্ত্রী এসেছিল। তার পর থেকেই আমাদের বাড়ির আট-নয়জনের ডেঙ্গু হইছে। গত রাতে আমার এক ভাইকে এখান থেকে ঢাকায় রেফার করে পাঠাইছে। আরেকজন আছে বরগুনা সদর হাসপাতালে। এ ছাড়া আমাদের বাড়ির দুইটা বাচ্চা আছে এই হাসপাতালের শিশু ইউনিটে। আর আমি আছি, আমার এখনো জ্বর আছে, গায়ে দানা দানা (র‌্যাশ) আছে।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেব বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৭০৬ জন মানুষ ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৩৪ জন। আর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪০ জন মানুষ মারা গেছেন।

যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে বেশি বলা হচ্ছে।

এদিকে, ঈদের ছুটিতে শহর এলাকার বাসিন্দাদের গ্রামে যাওয়া এবং বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে থাকার ফলে বিশেষ করে ঢাকায় ডেঙ্গু বাড়তে পারে এমন একটি আশঙ্কার কথা বলছেন অনেকে।

সরকারের সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলছেন, গ্রাম থেকে শহরে ফেরা মানুষের জন্য বর্তমান সপ্তাহটি বিশেষভাবে সচেতন থাকতে হবে। ধরুন যিনি ঢাকার বাইরে গেছেন, যাওয়ার আগে হয়তো বাড়িঘর সব পরিষ্কার করে গেছে। কিন্তু এরপর তো বৃষ্টি হয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় পানি জমেছে। সুতরাং ঢাকায় ফেরার পর তাকে যেটি করতে হবে, তা হলো বাড়িঘরে যেসব জায়গায় পানি জমে থাকতে পারে সেসব জায়গা পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। যাতে এডিস মশা জন্মাতে না পারে। কারণ এডিস মশার জীবন চক্রই এ রকম যে একটি মশাও বাসার চার-পাঁচজনকে আক্রান্ত করে ফেলতে পারে।’

যে কারণে এডিস মশা থেকে নিজেকে দূরে রাখার সমস্ত উপায় অবলম্বন করার পরামর্শ দেন তিনি।
খবর বিবিসি বাংলা

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ