কারাগারে খালেদা জিয়ার একবছর: কী বলছে বিএনপি?

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:০০

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তার রাজনৈতিক জীবনে কখনো এত দীর্ঘসময় ধরে কারাভোগ করেন নি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি গত বছর ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে কারাভোগ করছেন। এর মধ্যে দলটি তার মুক্তির দাবিতে আইনি এবং রাজনৈতিক বেশ কিছু কর্মসূচী দিলেও কোন সুবিধা করতে পারেনি।

একটি দলের প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়ার কারাভোগের এক বছরে কী বলছে বিএনপি?

ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে খালেদা জিয়া সহ বিএনপির গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা শুরু করে দলটি। সেখানে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা যেমন উপস্থিত ছিলেন তেমন ছিলেন ঢাকার বাইরে থেকে আসা বেশ কিছু নেতাকর্মী।

তবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের বাইরে থাকায় সভাপতি ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম খান।

দলের চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবিতে আসা অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোর তিন আসন থেকে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন এবার। তিনি বলছিলেন দেশে আইনের শাসনের অভাবেই তাদের নেত্রী কারাবন্দী হয়ে রয়েছেন।

তিনি বলছেন, "বাংলাদেশে আদৌ আইনের শাসন আছে কি না এই মুহূর্তে সেটাই বড় প্রশ্ন। আইনের শাসন যদি থাকতেন তাহলে অনেক আগেই দেশনেত্রী কারামুক্ত হতে পারতেন"।

যদিও এই প্রতিবাদ সভায় আসা প্রতিটা নেতাকর্মী বলেছেন রাজনৈতিকভাবেই খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে। তাহলে একটা দল হিসেবে বিএনপি কতটা রাজনৈতিক ভাবে সামাল দিতে পেরেছে সেই বিষয়টিকে?

দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী অবশ্য রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার জন্য দলের মধ্যে যে দুর্বলতা ছিল সেটা স্বীকার করেন।

তিনি বলছেন, "আমাদের যেভাবে আন্দোলনটা করার কথা ছিল আমি মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এই ব্যর্থতার পিছনে রাষ্ট্র যন্ত্র কাজ করেছে। এখানে সাংগঠনিক দুর্বলতা না, এখানে আমাদের যে যার অবস্থান থেকে বের হয়ে আসা দরকার ছিল"।

একই ধরণের বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরি।

বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ বলেন, ''শুধু খালেদা জিয়া নয় বিএপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী এখন আহত অবস্থায় কারাগারে রয়েছেন।''

বিএনপি আরেকজন কেন্দ্রী নেতা শামসুজ্জামান দুদু নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ''খালেদা জিয়া কি কারাগারেই মৃত্যুবরণ করবেন আর বিএনপি খণ্ড- বিখন্ড হয়ে যাবে কিনা সেটা এখন নেতাকর্মীদের ভেবে দেখতে হবে।''

বিএনপির একজন নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন বলছিলেন নেতৃত্বের জায়গায় অবশ্যই খালেদা জিয়ার অভাব অনুভব করেন তারা।

তিনি বলছেন, "ডেফিনেটলি এই অভাব অপূরণীয়।সব সময় নেত্রীর অভাব ফিল করি। তবে সাংগঠনিক জায়গা যদি বলেন তাহলে বলবো অতীতে যেমন ছিলাম এখনো তেমনি আছি। কারণ তারেক রহমান তিনি যেখানেই থাকেন সেখান থেকে নির্দেশনা দিয়েছেন সেই অনুযায়ী প্রত্যেকটা নেতাকর্মী কাজ করেছেন সেটা আমার কাছে মুখ্য বিষয়"।

খালেদা জিয়া গ্রেফতারের পর এই এক বছরে বিএনপি কে রাস্তায় তেমন কোন আন্দোলনে দেখা যায়নি। অনেক নেতাকর্মী বলেছেন তাদের ধারণা ছিল না এত দিন তিনি জেলে থাকবেন।

তাহলে এখন তারা কোন পথে এগোবেন?

বিএনপির একজন নেতা আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলছেন, "আমরা তখন জেলে ছিলাম। আমরা আট দিন আগেই এরেস্ট হয়ে গিয়েছিলাম। এই সরকার যদি সোজা পথে হাটতে না চায় তাহলে এখন কীভাবে দেশনেত্রীকে বাকা পথে বের করে আনতে হয় সেটা এদেশের আন্দোলনকামী ছাত্র-জনতা জানে এবং সেই রুপটিই তিনি এখন দেখবেন"।

গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। পরে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট।

দলের সিনিয়র নেতারা প্রতিবাদ সভা করে খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবি করেন। তারা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন এবং বিগত নির্বাচনের সমালোচনা করেন। তারা নেতাকর্মীদের একত্রিত হয়ে তাদের ভাষায় লড়াই করার আহ্বান জানান। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য দলীয় কোন কর্মসূচী ঘোষণা করেনি তারা।-বিবিসি

এবিএন/মমিন/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ
well-food