নষ্ট মোবাইল ফেরতের বিনিময়ে টাকা দেয়ার উদ্যোগ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১২:০৪

নষ্ট মোবাইল ফোন কী করবেন, কোথায় ফেলবেন- এ নিয়ে অনেকে বেশ চিন্তিত থাকেন। এটি এমন এক ধরনের জিনিস যা নষ্ট হয়ে গেলেও সহজে ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলতেও খারাপ লাগে। তা হলে কী করা যেতে পারে?

দেশের মোবাইল ফোন আমদানিকারকরা বলছেন, নষ্ট মোবাইল ফোন তাদের কাছে জমা দিলে টাকা পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব জানিয়েছেন, নষ্ট মোবাইল ফোন ফেরত দিলে যাতে ফোনের মালিক কিছু টাকা পায়- সে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি মোবাইল ফোন সেট গড়ে ৩ বছরের বেশি ব্যবহার করা যায় না। ফলে ৩ বছর পরে এটি ইলেকট্রনিক বর্জ্যে পরিণত হয়। দেশের ১০০টি শপিং মলে আমাদের বুথ থাকবে, যেখানে নষ্ট মোবাইল ফোন ফেরত দিয়ে টাকা পাওয়া যাবে।

খুব শিগগিরই এ ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মাহবুব।

প্রথম দফায় ঢাকার ৫ থেকে ১০টি শপিং মলে এ উদ্যোগ কার্যকর করা হবে। এর পর পুরো বাংলাদেশে সেটি চালু হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মোবাইল ফোন আমদানিকারকদের সংগঠন বলছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় চার কোটি মোবাইল হ্যান্ড সেট নষ্ট হয়।

গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ৩ কোটি হ্যান্ড সেট আমদানি করা হচ্ছে। ফলে এখান থেকে যে ইলেকট্রনিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে সেটি পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

মাহবুব বলেন, যারা নষ্ট মোবাইল ফোন দিতে আসবে, তাদের যদি কিছু টাকা না দেয়া হয়, তা হলে বিষয়টিতে মানুষজনের আগ্রহ থাকবে না।

তবে কত টাকা দেয়া হবে- সেটি নির্ধারিত হবে মোবাইল ফোনের অবস্থার উপর ভিত্তি করে।

নষ্ট মোবাইল দিয়ে কী হবে?
বাংলাদেশে প্রতি বছর বেশ দ্রুততার সঙ্গে ইলেকট্রনিক বর্জ্য বাড়ছে। 

পরিবেশ অধিদফতরের এক হিসাবে বলা হচ্ছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ৪ লাখ টন ইলেকট্রনিক বর্জ্য হয়েছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে এটি ১২ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে।

মোবাইল ফোন ইমপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব বলছেন, ইলেকট্রনিক বর্জ্যের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণের মাত্রা অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ দূষণ ঠেকানোর জন্যই নষ্ট মোবাইল ফোন সেট সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগ সফলভাবে কার্যকর করা গেলে, নষ্ট ল্যাপটপ কিংবা অন্যান্য ইলেকট্রনিক বর্জ্য সংগ্রহের প্রবণতা গড়ে উঠবে।

নষ্ট মোবাইল ফোন সেট সংগ্রহ করে সেগুলো বিভিন্ন রি-সাইক্লিং শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে সরবরাহ করা যাবে।

এসব ফোন সেটের বিভিন্ন উপাদান থেকে নানা রকমের জিনিস উৎপাদনের কাজে লাগতে পারে।

মাহবুব বলেন, ‘আমরা সম্পূর্ণ সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজটি করছি। তবে এজন্য সরকার এবং রি-সাইক্লিং শিল্পকে এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, নষ্ট মোবাইল ফোন ফেরত দিয়ে মানুষ যদি কিছু টাকা না পায়, তা হলে তারা উৎসাহিত হবে না।’
খবর বিবিসি

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ