আওয়ামী লীগের টেকসই বন্যা ব্যবস্থাপনা

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২০, ২১:৫১

বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। ভৌগোলিক অবস্থান, দেশের ভূমিবৃত্তি ও আবহাওয়ার কারণে বাংলাদেশ প্রতিবছরই ছোট বড় বন্যায় আক্রান্ত হয়। দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং সময় সময়ে বন্যার মাত্রা ও স্থায়িত্ব স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হওয়ায় দুর্যোগ ও বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। তবে বন্যা বাংলাদেশের মানুষের জীবন-যাত্রা ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বন্যার সঙ্গে বসবাস করে এবং সাহসিকতার সঙ্গে বন্যা মোকাবেলা করার সংস্কৃতি আমাদের দীর্ঘদিনের। প্রতিবছর যে সাধারণ বন্য হয়, তা বাংলাদেশের প্লাবন ভূমির জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এই বন্যার পানি যে পলিমাটি বয়ে আনে, তা আমাদের কৃষিকাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

চলতি বছর বন্যায় ৩৩টি জেলা বন্যা আক্রান্ত হয় এবং দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৫০ লক্ষাধিক মানুষ। কারিগরি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ থেকে বলা যায়, চলতি বছরের বন্যা ব্যাপকতার দিক থেকে ১৯৮৮ সালের বন্যাকে অতিক্রম করেছে, যদিও ১৯৯৮ সালের বন্যা ছিল আরও ব্যাপক। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিবেচনায় অতীতের বন্যাগুলো ছিল অনেক বেশি ভয়াবহ। চলতি বছরে বন্যায় প্রায় পঞ্চাশ লক্ষাধিক লোক আক্রান্ত হয়, যেখানে ১৯৮৮ এবং ১৯৯৮ সালে আক্রান্ত লোকের সংখ্যা তিন কোটিরও বেশি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৯৮৮ সালে প্রায় ১.২ বিলিয়ন টঝউ এবং ১৯৯৮ সালে প্রাড ২.৮ বিলিয়ন টঝউ। চলতি বছরে বন্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১৬,২৬১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ১৪৮৭টি স্থানে মাত্র ২৮৩.৩৯৮ কি.মি. বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা মোট বেড়িবাঁধের ১.৭৪ শতাংশ। বিগত বন্যাগুলো থেকে অধিক তীব্র ও স্থায়ী হওয়ার পরেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অন্যান্য বছরের চেয়ে অনেক কম। ক্ষতিগ্রস্ত ২৮৩.৩৯৮ কি.মি. বাঁধ মেরামতের জন্য দ্রুততম সময়ে ৬২৬টি প্যাকেজে কাজ শুরু হয়। সামগ্রিকভাবে সাম্প্রতিক সময়ে আগাম আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস, সমন্বিতভাবে সরকারের যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ এবং বিগত এক দশকে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সময়োপযোগী প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে।


সংগৃহীত: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবপেজ থেকে ।

এবিএন/ইমরান/জসিম/এসই 

 

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ