কুয়েতে আটক এমপি পাপুলের বিচার শুরু বৃহস্পতিবার

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫:১৭

মানব পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশি সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শহীদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুলের বিচার শুরু হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর)।

বাংলাদেশের কোনো বর্তমান সংসদ সদস্যকে এর আগে কখনো বিদেশের মাটিতে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে শোনা যায়নি।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের উল্লেখ করে কুয়েতের ব্যক্তিমালিকানাধীন পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে এ খবর প্রকাশ করা হয়েছে।

এই মামলায় কুয়েতের আরও কয়েকজন অভিযুক্ত রয়েছেন, যাদের মধ্যে দেশটির দুজন আইনপ্রণেতাও আছেন।

গত ৬ জুন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয় কুয়েতের সরকারি কৌঁসুলিরা। সেই সময় তার প্রতিষ্ঠানের একজন হিসাবরক্ষকসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ দেয়া, অর্থ পাচার, মানব পাচার এবং ভিসার অবৈধ লেনদেন করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ১৫ জুন আল-কাবাস সংবাদ প্রকাশ করে যে, মোহাম্মদ শহিদ বা কাজী পাপুল নামের এ সংসদ সদস্য তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেছেন যে, তিনজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ ৫০ হাজার দিনার বা এক লাখ ৬৩ হাজার ৩৮৮ ডলার তিনি উপহার দিয়েছিলেন।

এর আগে এই পত্রিকাটি খবর প্রকাশ করে যে, কাজী শহিদের সঙ্গে বিদেশি কর্মীদের পাচারের এসব ঘটনায় কুয়েতের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী এবং কর্মকর্তারাও জড়িত আছেন। বসবাসের অনুমতির অবৈধ লেনদেনের ব্যাপারে কুয়েতের সরকার অভিযান শুরু করার পর এই গ্রেফতারের ঘটনা ঘটল।

কুয়েতের আইন অনুযায়ী, নাগরিকরা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশিদের স্পন্সর করতে পারেন এই শর্তে যে, তারা তাদের জন্য কাজ করবেন। তবে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার ইচ্ছা না থাকলেও অনেকে বিদেশি শ্রমিকদের কাফালা বা বসবাসের অনুমতি দেয়ার নামে ব্যবসা করে থাকেন। ফলে বিদেশি শ্রমিকরা কুয়েতে কাজ খুঁজতে আসেন, কিন্তু মূল স্পন্সরের কাছে তাদের দায়বদ্ধতা থেকেই যায়।

‘কাফালা’ নামের এই স্পন্সরশিপ প্রথার সংশোধন করার জন্য আহ্বান জানিয়ে আসছে আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলো। অথবা আইন পরিবর্তনের আহবান জানিয়েছে যাতে বিদেশি শ্রমিকরা তাদের চাকরি পরিবর্তন করতে পারেন অথবা তার স্পন্সরের অনুমতি ছাড়াই দেশ ত্যাগ করতে পারেন।
খবর বিবিসি

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ