শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০১৮, ১২:২৮ | আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৮, ১৪:৫৫

ঢাকা, ০৫ আগস্ট, এবিনিউজ : আন্দোলন থেকে সরে এসে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনরতদের দাবির সবগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তৃতীয় পক্ষ মাঠে নেমেছে, ঢাকার বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসেছে এখানে, তাদের কাজ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করা, যখনই আমি এটা জেনেছি, আমি আতঙ্কিত বোধ করছি। শিক্ষার্থীদের এখন যদি কিছু হয়, তবে এর দায়িত্ব কে নেবে।

আজ রবিবার সকালে গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ১০ জেলার ৩০০ ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার কানেকটিভিটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অভিভাবক-শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা তাদের ক্লাসে ফিরিয়ে নিন, পড়াশোনা করা তাদের দায়িত্ব। তারা যেন সে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে।

শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এদের দাবি-দাওয়া যা ছিল, সবই একে একে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যেখানেই স্কুল, সেখানেই ট্রাফিক থাকবে, রাস্তা পারাপার করিয়ে দেবে। আন্ডারপাস করা হবে। ওভারব্রিজ হবে, তবে তা যেন ব্যবহার করে।

প্রযুক্তির অপব্যবহার না করতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি যেন গঠনমূলক কাজে ও মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা হয়। প্রযুক্তি সুন্দর জীবন গঠনের জন্য নোংরা কাজের জন্য নয়।

শেখ হাসিনা বলেন, চালকরা যেন ট্রাফিক রুল মেনে চলে, যারা পথচারী তাদেরও ট্রাফিক রুল জানতে হবে, মানতে হবে। স্কুল থেকে ট্রাফিক রুল যেন শিখতে পারে সে জন্য ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলেছি। শিক্ষকদের সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, ছোট বয়স থেকে শিশুদের শিক্ষা দিয়ে গড়ে তুলতে চাই। প্রযুক্তির ব্যবহার তারা যেন নিজের জীবনকে সুন্দর করা, ভাল চিন্তা নিয়ে বেড়ে উঠে। স্বাধীন দেশের ভাবমূর্তি কোনোভাবে যেন নষ্ট না হয় সেদিকে সকলকে নজর দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ২৩ বছরের ইতিহাস জানতে হবে। মুক্তিযোদ্ধার চেতনা নিজের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ট্রাফিক আইন পার্লামেন্টে নীতিগত সমর্থন দিয়ে অনুমোদন দিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা মন্ত্রিসভায় আসবে। পরে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার পর তা পার্লামেন্ট উত্থাপন হবে।

তিনি বলেন, তোমরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছি। আগামী দিনে তোমরা আসবে। দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব তোমাদের ওপর পড়বে। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না।

বিএনপি-জামায়তাকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা শ্রেণি আছে তাদের কাজই ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা। তারা ফেসবুকে গুজব ছড়াচ্ছে। আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করল। ২০১৫ সালে অনিক ও হৃদয় নামে দুজন শিক্ষার্থী তাদের বোমায় আহত হয়। তাদের বিদেশে পাঠানো হয় চিকিৎসার জন্য। ইডেন কলেজের এক ছাত্রী তাদের বোমায় আহত হয়। চট্টগ্রামে এক ছোট্ট শিশু অগ্নি সন্ত্রাসে আহত হয়। তারা পেট্রলবোমা মারে। তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন নিয়ে অনেকেই গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে।  পলাশী থেকে আইডি কার্ড তেরি করা হচ্ছে। কখনো মুখে কাপড় বেঁধে অন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দেওয়া হচ্ছে। কখনো হেলমেট পরা হচ্ছে।  অনেকে ব্যাগের ভেতর পাথর রাখছে। ছাত্রদের ব্যাগে বই না থেকে পাথর থাকবে কেন? বিডিআর গেটে হামলা হয়েছে। গুলি করল কারা? শিক্ষার্থীদের মেরে ফেলা হয়েছে বলে গুজব সৃষ্টি করা হয়েছে। মিথ্যাচার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ছাড়া আহত হয় বেশ কয়েকজন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে এরই মধ্যে ২০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ৯টি দাবি করেছে। তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ