শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০১৮, ১৫:১৫

ঢাকা, ২৫ জুলাই, এবিনিউজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, উন্নয়ন করতে গেলে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী প্রয়োজন। এ কারণে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

আজ বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত শিক্ষার্থীদের ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক-২০১৭’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানে দেশের ৩৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ১৬৩ জন স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদক পরিয়ে দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার খরচটাকে আমি খরচ হিসেবে দেখি না, এটাকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। আজ আমরা যাদের পেছনে বিনিয়োগ করছি তারাই একদিন এ দেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে। বিভিন্ন উদ্ভাবনী ও আবিষ্কারে তারা এগিয়ে থাকবে। তখনই এ দেশ হবে সোনার বাংলা।

তিনি বলেন, আজ যারা স্বর্ণপদক পেল তাদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেল। আজকের ছেলেমেয়েরা এ দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তুলবে। আমরা ক্ষুধা মুক্ত, দারিদ্র্য মুক্ত করছি। ভবিষ্যতে ছেলেমেয়েরা এ দেশকে সত্যিকারের সোনার বাংলা হিসেবে গড়বে,যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিলেন।

স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছি। এ গতি যেন থেমে না যায়। এ দায়িত্ব তোমাদের। কেউ যেন বলতে না পারে বাংলাদেশ ভিক্ষুকের দেশ।

শেখ হাসিনা বলেন, আজ আমি খুব শান্তি পাচ্ছি। কারণ, এক সময় এ দেশে মেয়েদের শিক্ষায় বিরাট বাধা ছিল। আজ যে ১৬৩ জনকে স্বর্ণপদক দিলাম তার মধ্যে ১০১ জনই মেয়ে, আর ৬২ জন ছেলে। খুব ভালো লাগার পাশাপাশি একটু খারাপও লাগছে যে, ছেলেরা পিছিয়ে থাকবে কেন? আমি চাই ছেলেমেয়ে সমান গতিতে এগোবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সময় মেয়েদের অবহেলা করা হতো, মেয়েরা পিছিয়ে ছিলো। এখন সেটা নেই। সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে তারা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এটা ধরে রেখে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা এবার ৭ দশমিক ৭৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি। এটাও ধরে রাখতে হবে। কারণ, প্রবৃদ্ধি বেশি থাকলে জনগণ তার সুফল পায়। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয় এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়তে চাই।


অনুষ্ঠানে বর্তমান সরকারের আমলে নেওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ৮৪টি পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও গবেষকরা ইউজিসি ডিজিটাল লাইব্রেরির মাধ্যমে বিশ্বের ১৩টি সুপ্রতিষ্ঠিত প্রকাশকের ৩৪ হাজারেরও অধিক ই-রিসোর্স এক্সেস সুবিধা পাচ্ছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক সহায়তায় ‘উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের অর্থায়নে ৪২২টি রিসার্চ প্রজেক্ট, ২টি টেকনোলজি ট্রান্সফার অফিস, ৮টি ফ্যাবল্যাব, ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পকারখানার মধ্যে যৌথ গবেষণা, ৬৯টি কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল, ১৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল লাইব্রেরি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩টি ভার্চুয়াল ক্লাস রুম, ১৯টি ক্যাম্পাস নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ফলে গবেষণার প্রকৃত আবহ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষার গুণগতমান নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে ‘অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল আইন’ পাস হয়েছে এবং শিগগিরই এর কার্যক্রম শুরু হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মানসমৃদ্ধ করা এবং তাদের তদারকি, নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য ‘উচ্চশিক্ষা কমিশন’ প্রতিষ্ঠার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানের শুরুতে মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. দিল আফরোজ বেগম স্বাগত বক্তব্য রাখেন।  এ ছাড়া  শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ