পরীক্ষায় খারাপ করলে সন্তানকে বকাঝকা করবেন না : প্রধানমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০১৮, ১২:৫৭ | আপডেট : ১৯ জুলাই ২০১৮, ১৫:৪৬

ঢাকা, ১৯ জুলাই, এবিনিউজ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পরীক্ষার ফল খারাপ করলে সন্তানকে বকাঝকা করবেন না। বকাঝকা করবেন না, এটা কোনো সমাধান নয়। বরং কী কারণে তার ফল খারাপ হলো তা খুঁজে বের করে সেটার সমাধান করুন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ২০১৮ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং ফলের পরিসংখ্যান হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রধানমন্ত্রীর হাতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল তুলে দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারের বার্টন টিপে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফল উন্মুক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছো তাদের আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। যারা ভালো করতে পারোনি তারা ভেঙে পড়বে না। আগামীতে আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করে ভালো ফলাফল করবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা সবাই মেধাবী। এ মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। গড়তে হবে সোনার বাংলাদেশ। আমি আশা করি, আমাদের ছেলেমেয়েরা দেশের বাইরে গিয়ে বড় বড় ডিগ্রি নিয়ে এসে দেশ ও জাতির উন্নয়নে প্রধান ভূমিকা পালন করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এ দেশকে শিক্ষিত জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই যাতে আগামীতেও এ উন্নতির ধারা অব্যাহত থাকে। শিক্ষা ছাড়া একটা জাতি চলতে পারে না। তাই  শিক্ষাব্যবস্থাকে উন্নত করতে যে সমস্ত জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই সেসব জায়গায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে দিয়েছি। আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। বাজেটেও এর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমরা সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কওমি শিক্ষা ব্যবস্থাকেও উন্নত করে দিয়েছি। তা ছাড়া কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। সার্বিকভাবে শিক্ষাকে সবদিক থেকে উন্নত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, পরীক্ষায় নকল এড়াতে এবার যে পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে তা বেশ কার্যকর। এতে করে নকল কমে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা বদনাম হতো প্রশ্নপত্র ফাঁস... প্রশ্নপত্র ফাঁস সমস্যাটা কিন্তু শুধু আমাদের দেশে না। অনেক উন্নত দেশেও এই সমস্যাটা দেখা যাচ্ছে কারণ ডিজিটাল হওয়াতেৃ ডিজিটালের যেমন সুফল আছে, মাঝেমাঝে কিছু কুফলও এসে যায়। খুব তাড়াতাড়ি সেটা প্রচার হয়ে যায়।

তিনি বলেন, এখন পরীক্ষা শেষ করতে যেরকম প্রায় দুই মাস সময় লেগে যায়, তা কমিয়ে আনতে পারলে শিক্ষার্থীদের যেমন আরও বেশি মনোযোগী করা যাবে, পরীক্ষা নিয়ে ‘গুজব আর অপপ্রচারের’ হাত থেকেও মুক্তি মিলবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসেন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী। এর পর প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নেত্রকোনাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীও তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানতে চান তারা লেখাপড়া শিখে কী করবে। শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।

এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৭ লক্ষাধিক শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে। একই সঙ্গে এবারই প্রথম পরীক্ষা অনুষ্ঠানের ৫৫ দিনের মাথায় পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হলো। এ বছর এইচএসসিতে ৬৬.৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন, যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৯ হাজার ২৬২ জন।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ