শুধু ভাতার ওপর নির্ভরশীল হলে চলবে না : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ১৭ জুলাই, এবিনিউজ : আমরা এমন পরিমাণে ভাতা দিব, যা দিয়ে আপনি খাদ্য কিনতে পারবেন; কিন্তু কাজ আপনাকে করতে হবে। শুধু ভাতার ওপর নির্ভরশীল হলে চলবে না। যারা কর্মক্ষম তারা কাজ করবেন। শুধু ভাতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে বসে থাকলে কর্মবিমুখ হয়ে পড়বেন। 

আজ মঙ্গলবাল সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ভাতার টাকা ইলেকট্রনিক পদ্ধতির মাধ্যমে বণ্টনের কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, কারো সংসার চালানোর দায়িত্ব আমরা নেব না। তবে যে ভাতা দেব সে ভাতায় আপনাদের খাবারের ব্যবস্থা হবে। বয়স্ক মানুষ যখন ভাতা পায় তখন ছেলেমেয়েরাও তাকে গুরুত্ব দেয়। তার পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা দূর হয়। তাকে সংসারে বোঝা না ভেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে আমরা ক্ষুধামুক্ত করতে পেরেছি। দারিদ্রমুক্ত করার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আজ কিছু দুঃখি মানুষের মুখে হাসি দেখে আমি সত্যিই খুব অভিভূত। বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে আমরা গড়ে তুলব। প্রতিটি গ্রামে মানুষ শহরের মতো সুবিধা পাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আগে ভাতার টাকা ব্যাংক ও পোস্ট অফিসের মাধ্যমে যেতো। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। আজ আমরা সেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে যার যা প্রাপ্য তার কাছেই পৌঁছে দেব। কেউ আর কমিশন খেতে পারবে না। সরাসরি টাকা আপনার হাতে পৌঁছে যাবে। প্রতিটি জায়গায় নামের তালিকা করে ডাটাবেজ করে রাখব। ১ কোটি ৪০ লাখ মা এখন মোবাইল ফোনে টাকা পাচ্ছে তার বাচ্চারা স্কুলে যাচ্ছে সে কারণে।

তিনি বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ করেছি যার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল সেবা পাচ্ছি আমরা। ’৯৬ এ যখন সরকার গঠন করি তথন দেখি ৪০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি। আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম খাদ্য ঘাটতি দূর করতে হবে। তখন বিএনপি ছিল সংসদে বিরোধী দল। সংসদে তারা বলতো খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া যাবে না। তা হলে বাইরে থেকে সাহায্য পাওয়া যাবে না অর্থাৎ ভিক্ষা পাওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মানুষের কথা চিন্তা করি। সমাজের কথা চিন্তা করি। এ জন্য বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা চালু করেছি। হিজড়া, বেদে সম্প্রদায়, সমাজের অনগ্রসর যারা তাদের উন্নয়নে কাজ করি। তাদের জন্য ভাতা প্রবর্তন করেছি। ’৯৬ এ যখন এগুলো প্রবর্তন করি। আমি সরকারে আসার পর প্রত্যেক এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক করলাম। এর মাধ্যমে প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেই। বিএনপি সরকার এসে কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেয়। কারণ এ থেকে সেবা পেলে জনগণ নাকি নৌকা মার্কায় ভোট দেবে। 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামনে নির্বাচন, জনগণ ভোট দিলে আগামীতে আবার ক্ষমতায় আসব, নয় তো আসব না। এটা জনগণের ওপর নির্ভর করে, আল্লাহর ওপর নির্ভর করে। আল্লাহ যাকে ইচ্ছে ক্ষমতা দেন।

প্রথম পর্যায়ে গোপালগঞ্জ, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপকারভোগীরা এ সুবিধা পাবেন। পরে প্রধানমন্ত্রী এসব এলাকার উপকারভোগীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কথা বলেন।

প্রথম পর্যায়ে মঙ্গলবার থেকে এক লাখ ১৫ হাজার উপকারভোগী তাদের গত এপ্রিল-জুন সময়কালের ভাতাগুলো ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাবেন।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ডাক্তার মোজাম্মেল হক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।

এবিএন/সাদিক/জসিম