মশা যেন ভোট খেয়ে না ফেলে, নতুন মেয়রদের প্রধানমন্ত্রী

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩:২২ | আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩:৪৭

নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে মেয়রদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাঝে মাঝে অনেকগুলো ঝামেলা চলে আসে। এখন যেমন করোনাভাইরাস; এর আগে এসেছিল ডেঙ্গু। এখন থেকে এই (এডিস) মশা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হবে। মশা আপনার ভোট যেন খেয়ে না ফেলে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। ক্ষুদ্র মশা হলেও অনেক শক্তিশালী এটা মাথায় রাখতে হবে। সেদিকে আপনারা বিশেষভাবে একটু নজর দেবেন। যেন সঠিকভাবে মশা নিধন হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত দুই মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০ বছরে দেশজুড়ে অনেক উন্নয়ন করেছে সরকার। এ ছাড়া অনেক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যেগুলোর কাজ চলছে। ঢাকা শহরসহ সারাদেশে অনেক মেগাপ্রকল্প চলছে। এসব মেগাপ্রকল্পে অনিয়ম হলে আমি কাউকে ছাড়ব না। কাজের ক্ষেত্রে কোনোরকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। 

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারগুলোকে আমরা আরও শক্তিশালী করতে চাই। সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ বাজেট দেয়া হচ্ছে। উন্নয়নের জন্য আমরা শুধু শহর নয় গ্রামের উন্নয়ন করতে চাই। এ জন্য আমরা আলাদা আলাদা বাজেট ঘোষণা করছি। একটা কথা মনে রাখবেন, কেউ আপনাকে ভোট দিয়েছে, আবার কেউ আপনাকে ভোট দেয়নি। যখন আপনি নির্বাচিত হয়েছেন তখন মনে করবেন আপনি সবার প্রতিনিধি। এটিই গণতন্ত্রের নিয়ম। এটা মাথায় রেখে সবার উন্নয়নে আপনাকে কাজ করতে হবে। কেউ যেন বঞ্চিত না হয়।

উন্নয়নের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ শতাংশ, তা আমরা ২০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমরা যখন ক্ষমতায় এসেছি, এর পর বৈশ্বিক মন্দা ছিল, আমরা সেই প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়তে দেইনি। আগে অন্যের কাছে আমাদের হাত পাততে হতো। এখন আর কারো কাছে হাত পাততে হয় না। ইতোমধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে নাম লেখাতে এখন এটি আমাদের ধরে রাখতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলব। ২১০০ সালের জন্য আমরা ডেল্টা প্ল্যান করে বাস্তবায়নের কাজও শুরু করেছি। একটা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। আমরা হাই-ফাই থাকবো, গ্রামের মানুষ থাকবে না, তা হবে না। শহরের মতো গ্রামেও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার।

দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে মাত্র ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো, সেখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৪৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করেছিলাম। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার এসে তা ৩২০০ মেগাওয়াটে নামিয়ে ফেলে। পরবর্তী সময়ে আমরা সরকার গঠন করে সেই ৩২০০ মেগাওয়াট থেকে ফের যাত্রা শুরু করে এখন ২২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি।

স্বাধীনতার পর দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর সুদূরপ্রসারি ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশে ৮২ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করত। এদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই বঙ্গবন্ধু আজীবন চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, দেশ স্বাধীনের পরে তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পান। এক বিধ্বস্ত অবস্থায় শূন্য হাতে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরেই তিনি একটি সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন। শহীদ পরিবার, শিক্ষার্থীদের, সাধারণ নাগরিকদের, সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান, স্কুল-কলেজ, খাদ্য নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। তার এই নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক দক্ষতার ফলেই বাংলাদেশ অতি অল্প সময়েই স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা পেয়েছিল।  

মুজিববর্ষের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৭ মার্চ মুজিববর্ষের ছোট একটা অনুষ্ঠান হবে। উপস্থিত দুই মেয়র ও কাউন্সিলরদের দাওয়াত দিচ্ছি। দলের নেতাকর্মীদের দাওয়াত থাকলো। সবাই ডিসিপ্লিন মেনে আসবেন। বছরব্যাপী অনুষ্ঠান হবে। সবাইকে হয়তো কার্ড পৌঁছানো সম্ভব হবে না। কিন্তু আপনারা আসবেন। সবার জন্য জায়গা থাকবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলামকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী। 

এর পর দুই সিটি করপোরেশনের সাধারণ ওয়ার্ড ও সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলরদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

গত ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস ও আতিকুল ইসলাম পরবর্তী ৫ বছরের জন্য মেয়র নির্বাচিত হন।

এবিএন/সাদিক/জসিম

এই বিভাগের আরো সংবাদ